ই-বুক কী, ePub ও PDF-এর পার্থক্য কী, আর কেন ই-ইংক ই-রিডার জনপ্রিয়?

সংক্ষেপে বলতে গেলে, কাগুজে বইয়ের ডিজিটাল সংস্করণই ই-বুক (eBook)। অর্থাৎ এমন একটি বই, যা ইলেকট্রনিক ফরম্যাটে সংরক্ষিত থাকে এবং স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, কম্পিউটার কিংবা ই-রিডারের মতো ডিভাইসে পড়া যায়।

যেমন অডিও ফাইলের MP3, WAV বা FLAC—বিভিন্ন ফরম্যাট রয়েছে, তেমনি ই-বুকেরও একাধিক ফরম্যাট আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হলো PDF (Portable Document Format)। মূল ডকুমেন্টের লেআউট, ছবি, ফন্ট ও ডিজাইন অপরিবর্তিত রাখার কারণে PDF এখনো সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ফরম্যাটগুলোর একটি। প্রকাশনা, গবেষণাপত্র, ম্যাগাজিন কিংবা অফিসিয়াল ডকুমেন্টে এই ফরম্যাট ব্যাপক জনপ্রিয়। অনেক PDF রিডার অ্যাপে হাইলাইট, নোট লেখা ও মন্তব্য যোগ করার সুবিধাও রয়েছে।

ই-বুক পড়ার জন্য আলাদা ডিভাইস কেন?
জনপ্রিয় ই-ইংক ব্র্যান্ড
ই-রিডারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো E Ink (Electronic Ink) ডিসপ্লে প্রযুক্তি। এটি প্রচলিত LCD বা OLED স্ক্রিনের মতো আলো সরাসরি চোখের দিকে নিক্ষেপ করে না। বরং কাগজের মতো প্রতিফলিত আলো ব্যবহার করে লেখা প্রদর্শন করে। ফলে দীর্ঘ সময় পড়লেও অভিজ্ঞতা অনেকটাই কাগুজে বইয়ের কাছাকাছি থাকে। অনেক আধুনিক ই-রিডারে আবার প্রয়োজন অনুযায়ী সামঞ্জস্যযোগ্য Front Light-ও থাকে, যা কম আলোতেও আরামদায়কভাবে পড়তে সাহায্য করে।
এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিয়মিত পাঠক, শিক্ষার্থী, গবেষক, লেখক এবং দীর্ঘ সময় ডিজিটাল ডকুমেন্ট পড়তে হয়—এমন ব্যবহারকারীদের মধ্যে ই-রিডারের জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে Boox, Amazon Kindle, Kobo, reMarkable, Supernote, Bigme, Meebook, Fujitsu এবং Dasung-এর মতো ব্র্যান্ডের ই-ইংক ডিভাইস ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কেউ শুধুমাত্র বই পড়ার জন্য, আবার কেউ নোট নেওয়া, PDF পড়া, গবেষণা বা পেশাগত কাজের জন্য এসব ডিভাইস ব্যবহার করেন।
বাংলাদেশে এসব আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের ই-ইংক ডিভাইস সরবরাহ করছে Multimedia Kingdom। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ই-ইংক প্রযুক্তিনির্ভর ব্র্যান্ড Boox-এর বাংলাদেশে অনুমোদিত (Authorized) ডিস্ট্রিবিউটর। এছাড়াও Kindle, Kobo, Bigme, Supernote, Meebook-সহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ই-রিডার, ই-নোট এবং নির্বাচিত ই-ইংক মনিটর ও আনুষঙ্গিক পণ্য অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি এবং বিক্রয়োত্তর সেবাসহ পাওয়া যায়।

তবে PDF-এর কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এতে পৃষ্ঠার বিন্যাস স্থির (Fixed Layout) থাকে। ফলে ছোট স্ক্রিনের ডিভাইসে অনেক সময় লেখা বড় করে দেখতে জুম করতে হয়। দীর্ঘ সময় এভাবে পড়া অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।এই সীমাবদ্ধতার কার্যকর সমাধান হিসেবে জনপ্রিয় হয়েছে ePub (Electronic Publication) ফরম্যাট। ইংরেজি ভাষার অধিকাংশ ডিজিটাল বই বর্তমানে ePub-এ প্রকাশিত হয় এবং ধীরে ধীরে বাংলা ভাষাতেও এই ফরম্যাটের ব্যবহার বাড়ছে।PDF-এর তুলনায় ePub-এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি Reflowable Format। অর্থাৎ ডিভাইসের স্ক্রিনের আকার অনুযায়ী লেখা নিজে থেকেই সাজিয়ে নেয়। পাঠক প্রয়োজন অনুযায়ী ফন্টের আকার, ফন্ট স্টাইল, লাইন স্পেসিং বা মার্জিন পরিবর্তন করতে পারেন। ফলে ছোট স্ক্রিনেও আরামদায়কভাবে দীর্ঘ সময় পড়া সম্ভব হয় এবং চোখের ওপর চাপও তুলনামূলক কম পড়ে।

বর্তমানে স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটেও ই-বুক পড়া সম্ভব। তবে দীর্ঘ সময় পড়ার ক্ষেত্রে এসব ডিভাইসের উজ্জ্বল (Backlit) ডিসপ্লে অনেকের চোখে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস থাকলে অনেকেই বিকল্প হিসেবে ই-রিডার (eReader) ব্যবহার করেন।