মেমোরির দাম বৃদ্ধিতে কমছে ই ইঙ্কের ই-রিডার ও ই-নোটবুকের চাহিদা
আন্তর্জাতিক বাজারে মেমোরি চিপের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে ই-পেপার ও ডিজিটাল ডিসপ্লে প্রযুক্তি খাতে। মেমোরির চড়া দামের কারণে বিশ্বজুড়ে ই-রিডার ও ই-নোটবুকের চাহিদা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ই-পেপার প্রযুক্তির শীর্ষস্থানীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ই ইঙ্ক হোল্ডিংস’ ২০২৬ সালে তাদের বার্ষিক আয় বা রেভিনিউ বৃদ্ধির পূর্বাভাস উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছে।
প্রতিষ্ঠানটির আগের প্রাক্কলন অনুযায়ী বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ২০ থেকে ২৫ শতাংশ হওয়ার কথা থাকলেও নতুন হিসাব অনুযায়ী তা ১০ থেকে ১৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
ডিভাইস বিক্রি ও চালানে মন্দা
ই ইঙ্ক জানিয়েছে, চলতি ২০২৬ সালে তাদের তৈরি ই-রিডার এবং ই-নোটবুক ডিভাইসের সামগ্রিক বিক্রি দুই অঙ্কের ঘরে বা ডাবল-ডিজিট হারে হ্রাস পাবে। মূলত র্যাম ও প্রসেসিং চিপের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নতুন মডেলের ডিভাইস বাজারে আনার পরিকল্পনা পিছিয়ে যাচ্ছে, যা গ্রাহকদের কেনাকাটার আগ্রহ কমিয়ে দেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
রঙিন ও আধুনিক ডিসপ্লের প্রতি চাহিদা থাকা সত্ত্বেও উপাদানগুলোর উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক ডিজিটাল কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স খাত সাময়িক ধাক্কার মুখোমুখি হয়েছে।
অন্যান্য বিভাগে স্বস্তির আভাস
তবে ব্যক্তিগত ব্যবহারের ডিভাইসের বিক্রি কমলেও ই ইঙ্কের অন্যান্য বাণিজ্যিক খাত বেশ চাঙ্গা রয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় রিটেইল শপগুলোতে কেনাকাটার পণ্যের বিবরণ ও দাম প্রদর্শনের জন্য ‘ইলেকট্রনিক শেলফ লেবেল’ বা ইএসএল-এর ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সুপারশপগুলোতে পণ্যের দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তনের এই আধুনিক ব্যবস্থার বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা ই ইনকের ব্যবসায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
এর পাশাপাশি মাঝারি আকারের বাণিজ্যিক ডিসপ্লে বাজারেও প্রবৃদ্ধির গতি বজায় রয়েছে। বর্তমানে ৮ থেকে ১৫ ইঞ্চি আয়তনের ডিজিটাল সাইনেজ বা ডিসপ্লে বোর্ডের বৈশ্বিক চাহিদা বেশ জোরালো। তবে চড়া মূল্যের কারণে ৩২ ইঞ্চি আয়তনের তুলনামূলক বড় ডিজিটাল সাইনেজগুলোর বিক্রি কোম্পানির প্রত্যাশা ছুঁতে পারেনি।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধির মাঝেও প্রাতিষ্ঠানিক খাতের এই চাহিদা ই-পেপার শিল্পকে টিকিয়ে রাখছে।