পকেটবুক বেসিক লাক্স ৪: এন্ট্রি-লেভেলের বাজেট সাশ্রয়ী ই-রিডার
কাগুজে বই ছেড়ে হাতে স্মার্টফোন নয় বরং এমন একটি ডিভাইসের বই পড়তে চাচ্ছেন যেটি আপনার চোখের ক্ষতি করবে না এবং বই পড়ার চিরায়ত যে অনুভূতি সেটি পেতে চান তাহলে আপনার জন্যই আছে ই-রিডার। বাজেট সাশ্রয়ী তেমনই একটি ই-রিডার হলো সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বিখ্যাত ব্র্যান্ড পকেটবুক এর পকেটবুক বেসিক লাক্স ৪ (PocketBook Basic Lux 4)। চলুন দেখে নিই কী আছে এই ডিভাইসে।
ডিভাইস পরিচিতি
পকেটবুক বেসিক লাক্স ৪ মূলত একটি এন্ট্রি-লেভেলের হলেও ফিচারের দিক থেকে এটি কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই। বক্স খুললেই প্রথমেই চোখে পড়ে এর অত্যন্ত মার্জিত ও পরিচ্ছন্ন প্যাকেজিং। বাক্সের ভেতর মূল ই-রিডার ডিভাইসের পাশাপাশি পাওয়া যাবে একটি চার্জিং ও ডেটা ট্রান্সফারের জন্য মাইক্রো-ইউএসবি ক্যাবল, কুইক স্টার্ট গাইডলাইনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। ডিভাইসটি হাতে নিলেই এর হালকা গড়ন এবং মসৃণ ফিনিশিং এক প্রিমিয়াম অনুভূতি এনে দেয়।
.jpg)
ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি
পকেটবুক বেসিক লাক্স ৪ ডিভাইসের অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো এর কমপ্যাক্ট এবং অত্যন্ত হালকা ডিজাইন। মাত্র ১৫৫ গ্রাম ওজনের এবং ১৬১.৩ × ১০৮ × ৮ মিলিমিটার পরিমাপের এই ডিভাইসটি যেকোনো পকেট বা ছোট ব্যাগে অনায়াসে এঁটে যায়। দীর্ঘক্ষণ এক হাতে ধরে বই পড়ার ক্ষেত্রে এই হালকা ওজন হাতের ওপর কোনো বাড়তি চাপ ফেলে না। এর বডি কভার তৈরি করা হয়েছে উচ্চমানের ও টেকসই প্লাস্টিক দিয়ে, যা দেখতে যেমন দৃষ্টিনন্দন, তেমনই ব্যবহারে অত্যন্ত আরামদায়ক। ডিসপ্লের ঠিক নিচেই রয়েছে ফিজিক্যাল নেভিগেশন বাটন, যা স্ক্রিনের পাশাপাশি বইয়ের পাতা ওল্টানোর ক্ষেত্রে চমৎকার নিয়ন্ত্রণ প্রদান করে।
.jpg)
ডিসপ্লে ও রিডিং অভিজ্ঞতা
ই-রিডারের মূল প্রাণ হলো এর ডিসপ্লে, আর পকেটবুক বেসিক লাক্স ৪ এক্ষেত্রে অনন্য। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৬ ইঞ্চির ই-ইঙ্ক কার্টা ক্যাপাসিটিভ মাল্টি-সেন্সর ডিসপ্লে, যার রেজ্যুলিউশন ৭৫৮ × ১০২৪ পিক্সেল এবং গ্রে-স্কেল লেভেল ১৬টি। আসল কাগজের বই পড়ার মতো অবিকল অনুভূতি দেয় এই ই-ইঙ্ক স্ক্রিন। প্রখর রোদের আলোতেও এই স্ক্রিনে কোনো প্রতিফলন বা রিফ্লেকশন হয় না, ফলে আউটডোরে বসেও স্বাচ্ছন্দ্যে পড়া যায়। এতে রয়েছে বিশেষ বিল্ট-ইন স্মার্টলাইট ফ্রন্ট লাইট প্রযুক্তি। এর সাহায্যে রাত বা কম আলোর পরিবেশেও চোখের কোনো ক্ষতি না করে দীর্ঘ সময় পড়া সম্ভব। স্মার্টফোনের মতো সরাসরি চোখের ওপর আলো না ফেলে এই ফ্রন্ট লাইট ডিসপ্লের ওপর আলো ছড়ায়, যা চোখের ক্লান্তি একদম দূর করে দেয়।
কারিগরি ক্ষমতা ও পারফরম্যান্স
ডিভাইসটিতে দেওয়া হয়েছে ডুয়াল-কোর ১ গিগাহার্টজ প্রসেসর এবং ৫১২ এমবি র্যাম। লাইটওয়েট লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমে পরিচালিত হওয়ার কারণে এই হার্ডওয়্যার কনফিগারেশনে ডিভাইসটি অত্যন্ত দ্রুত ও মসৃণভাবে কাজ করে। এর ৮ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজে কয়েক হাজার ই-বুক সংরক্ষণ করা সম্ভব। তদুপরি যাদের বিশাল লাইব্রেরি প্রয়োজন, তারা চাইলে মাইক্রো-এসডি কার্ড ব্যবহার করে স্টোরেজ বাড়িয়ে নিতে পারবেন।
.jpg)
পকেটবুকের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর ফরম্যাট সাপোর্ট- এসিএসএম, সিবিজেড, সিবিআর, ডিজেভিইউ, ডিওসি, ডিওসিএক্স, ইপাব, এফবি২, এইচটিএমএল, পিডিএফ, আরটিএফ, টিএক্সটিসহ প্রায় ২৫টি ই-বুক ফরম্যাট কোনো রূপান্তর বা কনভার্সন ছাড়াই এতে সরাসরি পড়া যায়। এছাড়া জেপিইজি, বিএমপি, পিএনজি এবং টিআইএফএফ ফরম্যাটের ছবিও এতে স্পষ্ট দেখা যায়।
ব্যাটারি লাইফ ও কানেক্টিভিটি
পকেটবুক বেসিক লাক্স ৪-এ রয়েছে ১৩০০ এমএএইচ লিথিয়াম-আয়ন পলিমার ব্যাটারি। ই-ইঙ্ক প্রযুক্তির অত্যন্ত কম বিদ্যুৎ খরচের সুবিধার কারণে একবার পূর্ণ চার্জ দিলে ওয়াই-ফাই ও লাইটের ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে এক মাস পর্যন্ত নিশ্চিন্তে বই পড়া সম্ভব। এর ওয়াই-ফাই (২.৪ গিগাহার্টজ) কানেক্টিভিটির মাধ্যমে ড্রপবক্স ও পকেটবুক ক্লাউডের সুবিধা নিয়ে পিসি বা ফোনের সাথে ক্যাবল ছাড়াই বই আদান-প্রদান করা যায়। এছাড়াও 'সেন্ড-টু-পকেটবুক' ফিচারের মাধ্যমে সরাসরি ইমেইলের মাধ্যমেও ই-বুক ডিভাইসে পাঠানো সম্ভব।
.jpg)
র্যাম, স্টোরেজ ও কালার ভেরিয়েন্ট
পকেটবুক বেসিক লাক্স ৪ ডিভাইসটি বাংলাদেশের বাজারে ৫১২ এমবি র্যাম এবং ৮ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ ভেরিয়েন্টে পাওয়া যাচ্ছে। মেমোরি কার্ড স্লট থাকায় স্টোরেজ নিয়ে ব্যবহারকারীকে কখনো দুশ্চিন্তা করতে হয় না। রঙের ক্ষেত্রে কোম্পানিটি এতে ক্লাসিক ও মার্জিত 'ব্ল্যাক' বা ইনকি ব্ল্যাক’ ভেরিয়েন্ট রেখেছে, যা পড়ার মনোযোগ ধরে রাখতে বিশেষভাবে সাহায্য করে।
টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন
ডিসপ্লে সাইজ: ৬ ইঞ্চি (১৫.২৪ সেমি)
ডিসপ্লে টাইপ: ই-ইনক কার্টা (E Ink Carta™)
রেজ্যুলিউশন: ৭৫৮ × ১০২৪ পিক্সেল
পিক্সেল ডেনসিটি: ২১২ পিপিআই
কালার ডেপথ: ১৬ লেভেল অব গ্রে-স্কেল
টচস্ক্রিন: ক্যাপাসিটিভ (মাল্টিসেন্সর)
ফ্রন্ট লাইট: হ্যাঁ (স্মার্টলাইট)
প্রসেসর: ডুয়াল-কোর (২ × ১ গিগাহার্টজ)
র্যাম: ৫১২ এমবি
ইন্টারনাল স্টোরেজ: ৮ জিবি
অপারেটিং সিস্টেম: লিনাক্স ৩.১০.৬৫
ব্যাটারি: ১৩০০ এমএএইচ (লিথিয়াম-আয়ন পলিমার)
কানেক্টিভিটি: ওয়াই-ফাই (২.৪ গিগাহার্টজ)
ইউএসবি ইন্টারফেস: মাইক্রো-ইউএসবি
সেন্সর: জি-সেন্সর (কভার সেন্সর সাপোর্ট)
ই-বুক ফরম্যাট সাপোর্ট: ২৫টি ফরম্যাট (EPUB, PDF, FB2, MOBI, TXT, DOCX ইত্যাদি)
ইমেজ ফরম্যাট সাপোর্ট: JPEG, BMP, PNG, TIFF
ডাইমেনশন: ১৬১.৩ × ১০৮ × ৮ মিলিমিটার
ওজন: ১৫৫ গ্রাম
.jpg)
একনজরে ডিভাইসটি
নিখুঁত ও পেপার-লাইক পড়ার অভিজ্ঞতার জন্য ৬ ইঞ্চির ই-ইনক কার্টা স্পর্শকাতর ডিসপ্লে।
রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে পড়ার জন্য চোখের উপযোগী স্মার্টলাইট ফ্রন্ট লাইট ব্যবস্থা।
মাত্র ১৫৫ গ্রাম ওজন ও আল্ট্রা-কমপ্যাক্ট স্লিম বডি ডিজাইন।
কাস্টম কনভার্সন ছাড়াই প্রায় ২৫টি ভিন্ন ই-বুক ফরম্যাট ব্যবহারের চমৎকার সুবিধা।
ওয়াই-ফাই কানেক্টিভিটি, পকেটবুক ক্লাউড ও ড্রপবক্স সিঙ্ক সাপোর্ট।
দীর্ঘ এক মাস পর্যন্ত একটানা ব্যবহারের উপযোগী ১৩০০ এমএএইচ শক্তিশালী ব্যাটারি।
যাদের জন্য এই ডিভাইস
পকেটবুক বেসিক লাক্স ৪ হলো তাদের জন্য সবচেয়ে আদর্শ ই-রিডার, যারা অনাবশ্যক বা জটিল কোনো ফিচার ছাড়াই একটি পরিচ্ছন্ন, দ্রুতগতির এবং চোখের জন্য শতভাগ নিরাপদ পড়ার মাধ্যম খুঁজছেন। শিক্ষার্থী, গবেষক, সাহিত্যপ্রেমী কিংবা যারা নিয়মিত ভ্রমণের মধ্যে থাকেন এবং বাজেটের মধ্যে একটি টেকসই অফিশিয়াল ই-রিডার চান, তাদের জন্য এটি এক সেরা চয়েস। সব মিলিয়ে, বাজেটের সামঞ্জস্য রেখে প্রিমিয়াম ই-ইঙ্ক অভিজ্ঞতা পাওয়ার জন্য এই ডিভাইসটি নিঃসন্দেহে অনন্য এক সংযোজন।
.jpg)
কোথায় পাবেন?
সেরা আফটার সেলস সাপোর্টসহ সম্পূর্ণ নিশ্চিন্তে অরিজিনাল পকেটবুক বেসিক লাক্স ৪ ডিভাইসটি সংগ্রহ করার জন্য মাল্টিমিডিয়া কিংডম-এ যোগাযোগ করাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমত্তার সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশের ই-বুকপ্রেমী ও প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য আমরাই (মাল্টিমিডিয়া কিংডম) পকেটবুকসহ শীর্ষস্থানীয় সকল ব্র্যান্ডের ই-রিডার বিশ্বস্ততার সাথে বাজারজাত করে আসছি। আমাদের পকেটবুক সংগ্রহে Era, Era Color, Verse, Verse Pro এবং অন্যান্য মডেলও রয়েছে। কেবল বিক্রিই নয়, বিক্রয়োত্তর সেবা বা আফটার সেলস সাপোর্ট এবং ডিভাইসটির জন্য প্রয়োজনীয় অরিজিনাল অ্যাক্সেসরিজের (যেমন কাভার, স্টাইলাস নিব) জন্য মাল্টিমিডিয়া কিংডম দেশের গ্রাহকদের কাছে সবচেয়ে আস্থাশীল নাম।
তাই, যেকোনো ই-রিডার কেনার আগে জেনে-বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে আজই ভিজিট করুন মাল্টিমিডিয়া কিংডমের ওয়েবসাইট কিংবা স্টোরে। অথবা সরাসরি কথা বলুন (+8801755532345) আমাদের সিইও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জুয়েল-এর সাথে।
কেনো মাল্টিমিডিয়া কিংডম?
২৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের প্রতিষ্ঠান ‘মাল্টিমিডিয়া কিংডম’ বাংলাদেশে ডিজিটাল রিডিং, রাইটিং, ক্রিয়েটিভিটি, প্রিমিয়াম ও হাই-ফাই অডিও এবং পেশাদার প্রযুক্তির এক নির্ভরযোগ্য বিশ্বস্ত ঠিকানা হিসেবে সেবা দিয়ে আসছে।
আমরা স্বগৌরবের সাথে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোকে বাংলাদেশের বাজারে সরবরাহ করে আসছি- যার মধ্যে রয়েছে BOOX, PocketBook, Bigme, Wacom, XP-Pen, Huion, Xencelab, Xteink, Audio-Technica, Fosi Audio, Sonos, Swan, WiiM, Obsbot, Czur, DJI, Insta360, Cammpro, Digidraw-সহ আরও নানা বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড।
তাই ই-রিডার, গ্রাফিক্স ট্যাবলেট, হাই-ফাই অডিও সিস্টেম, কনটেন্ট ক্রিয়েশন গিয়ার কিংবা পেশাদার প্রযুক্তির সেরা সমাধান খুঁজছেন? আপনার যেকোনো প্রয়োজনে আমরা আছি সবসময় আপনার পাশে!