বহু বছর ধরে ই-রিডারের জগৎ ছিল সাদা-কালোর মধ্যে সীমাবদ্ধ। চোখে আরামদায়ক, কাগজের মতো দেখতে- ইলেকট্রনিক ইঙ্ক বা ই-ইঙ্ক প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা ছিল এগুলোই। কিন্তু কিন্ডলের মতো ডিভাইসগুলো ডিজিটাল পাঠকদের এক নতুন প্রজন্ম তৈরি করলেও, রঙিন স্ক্রিনের অভাবটাই ছিল সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা। ফলে রঙিন ছবি, চার্ট, কমিকস কিংবা নকশাযুক্ত বই পড়ার ক্ষেত্রে প্রচলিত ই-রিডার অনেকটাই পিছিয়ে ছিল।

সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে রঙিন ই-ইঙ্ক প্রযুক্তির হাত ধরে। আর এই পরিবর্তনের পথে যেসব প্রতিষ্ঠান শুরু থেকেই উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে আসছে, তাদের মধ্যে অন্যতম বিগমি। ই-রিডারকে শুধু বই পড়ার যন্ত্র হিসেবে না দেখে পড়াশোনা, লেখালেখি, নোট নেওয়া ও কাজের উপযোগী একটি পূর্ণাঙ্গ ডিভাইসে পরিণত করার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

সাদা-কালোর গণ্ডি পেরিয়ে
ই-ইঙ্কের বড় সুবিধা হলো এর কাগজের মতো দেখার অভিজ্ঞতা। প্রচলিত এলসিডি বা ওএলইডি পর্দার মতো নিজে থেকে আলো ছড়ায় না বলে দীর্ঘ সময় পড়ার ক্ষেত্রে এটি তুলনামূলক আরামদায়ক। কিন্তু এত দিন সেই অভিজ্ঞতা মূলত সাদা-কালোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।



রঙিন ই-ইঙ্ক সেই সীমাবদ্ধতা অনেকটাই দূর করেছে। বিশেষ করে পাঠ্যবই, ম্যাগাজিন, কমিকস, নকশা, চার্ট কিংবা পেশাগত নথি পড়ার ক্ষেত্রে রঙ যুক্ত হওয়ায় ই-ইঙ্কের ব্যবহার আরও বিস্তৃত হয়েছে।

বিগমি এই পরিবর্তনের সম্ভাবনা বেশ আগেই বুঝেছিল। ২০০৮ সাল থেকে ই-ইঙ্ক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ছিল এমন একটি পর্দা তৈরি করা, যেখানে কাগজের কাছাকাছি দেখার অভিজ্ঞতার সঙ্গে রঙও পাওয়া যাবে। রঙিন ই-ইঙ্ক প্রযুক্তি বাজারে আসার পর তাই দ্রুতই এ ধরনের ডিভাইস নিয়ে হাজির হয় বিগমি।

একের পর এক নতুন মাইলফলক
রঙিন ই-ইঙ্কের বাজারে বিগমির যাত্রা শুধু একটি পণ্য দিয়ে থেমে থাকেনি। কয়েক বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটি বড় পর্দা, উন্নত রঙ এবং স্মার্ট সুবিধার সমন্বয়ে একাধিক ডিভাইস এনেছে।

২০২০ সালের নভেম্বরে বাজারে আসে বিগমি বি১ প্রো। ১০ দশমিক ৩ ইঞ্চির এই ডিভাইসটি ক্যালিম্প কালার ই-ইঙ্ক প্রযুক্তির মাধ্যমে বড় পর্দায় রঙিন ই-ইঙ্কের সম্ভাবনা তুলে ধরে। বড় পর্দায় বই পড়ার পাশাপাশি নোট নেওয়া ও কাজ করার সুযোগ থাকায় এটি প্রচলিত ই-রিডারের ধারণা থেকে কিছুটা আলাদা ছিল।

এরপর আসে ৭ দশমিক ৮ ইঞ্চির এস৩ কালার। এতে ১০০ পিপিআই রঙিন রেজল্যুশন ছিল। একই সময়ে বি১ প্রো প্লাসে অ্যান্ড্রয়েড ১১ যুক্ত করে ব্যবহারকারীদের জন্য খুলে দেওয়া হয় আরও বেশি অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ।



২০২৩ সালে বিগমি নিয়ে আসে ইঙ্কনোট কালার প্লাস। ক্যালিম্প ৩ প্রযুক্তির এই ১০ দশমিক ৩ ইঞ্চির ডিভাইসে রঙিন রেজল্যুশন বেড়ে হয় ১৫০ পিপিআই। আগের প্রজন্মের তুলনায় রঙের স্যাচুরেশনও বাড়ানো হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটি ভালো সাড়া পায় এবং কিকস্টার্টার প্রচারণার মাধ্যমে এক হাজার ৩০০ এর বেশি ইউনিট বিক্রি হয়।

গ্যালারি ৩–এ বড় পরিবর্তন
রঙিন ই-ইঙ্কের বিকাশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি আসে ই-ইঙ্ক গ্যালারি ৩ প্রযুক্তির মাধ্যমে। বিগমি এই প্রযুক্তিকে নিজেদের ডিভাইসে ব্যবহার করে রঙিন ই-ইঙ্ককে আরও বাস্তবসম্মত করার চেষ্টা করে।

প্রযুক্তিটির বিশেষত্ব হলো সায়ান, ম্যাজেন্টা, হলুদ ও সাদা- এই চার ধরনের কণার সমন্বয়ে বিভিন্ন রং তৈরি করা। ফলে আগের প্রজন্মের তুলনায় রঙের সংখ্যা ও ছবির সূক্ষ্মতা অনেক বেড়ে যায়। বিগমির গ্যালি ডিভাইসে সর্বোচ্চ ৩০০ পিপিআই রেজ্যুলিউশন এবং ৫০ হাজারের বেশি রঙ দেখানোর সক্ষমতা পাওয়া যায়।



এখানেই মূল পরিবর্তন। রঙিন ই-ইঙ্ক আর শুধু সাদা পাতায় কয়েকটি রঙের উপস্থিতি নয়; বরং ছবি, বইয়ের অলংকরণ, চার্ট কিংবা কমিকসকে আরও স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপনের দিকে এগিয়ে যায়।

ই-রিডারের সঙ্গে ট্যাবলেটের সুবিধা
বিগমির ভাবনাটি শুধু পর্দাকে রঙিন করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি ই-ইঙ্ক ডিভাইসকে দৈনন্দিন কাজের সঙ্গী হিসেবেও তৈরি করতে চায়।

এ কারণে বিভিন্ন মডেলে উন্মুক্ত অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে বই পড়ার পাশাপাশি নোট নেওয়া, লেখালেখি, নথি দেখা কিংবা বিভিন্ন উৎপাদনশীলতার অ্যাপ ব্যবহার করা যায়। অর্থাৎ ডিভাইসটি শুধু ই-বুক পড়ার যন্ত্র না থেকে ধীরে ধীরে একটি ডিজিটাল কর্মপরিবেশে পরিণত হচ্ছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নানা সুবিধা। কণ্ঠস্বরকে লেখায় রূপান্তর, লেখার সারসংক্ষেপ তৈরি কিংবা এআইভিত্তিক সহকারী ব্যবহারের মতো সুবিধা যুক্ত করে বিগমি ই-ইঙ্ককে আরও স্মার্ট করার চেষ্টা করছে।

ছোট পর্দা থেকে ২৫ দশমিক ৩ ইঞ্চি
বিগমির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো পণ্যের বৈচিত্র্য। পকেটে রাখা যায় এমন প্রায় ৭ ইঞ্চির ডিভাইস যেমন তাদের পণ্যতালিকায় আছে, তেমনি বড় পর্দার পেশাগত কাজের উপযোগী ডিভাইসও রয়েছে।

এরই একটি উদাহরণ বি২৫১। ২৫ দশমিক ৩ ইঞ্চির এই রঙিন ই-ইঙ্ক অল-ইন-ওয়ান কম্পিউটার ও মনিটরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেখিয়েছে, ই-ইঙ্কের ব্যবহার শুধু বই পড়ার মধ্যেই আটকে থাকতে হবে না। ডেস্কে বসে দীর্ঘ সময় কাজ করার ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।



সামনে আরও বড় সম্ভাবনা
ই-ইঙ্কের যাত্রা শুরু হয়েছিল মূলত কাগজের বিকল্প হিসেবে। সেই প্রযুক্তিই এখন ধীরে ধীরে রঙ, নোট নেওয়া, অ্যাপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উৎপাদনশীলতার নানা সুবিধা যুক্ত করে নতুন এক রূপ নিচ্ছে।

এই পরিবর্তনের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিগমির ভূমিকা চোখে পড়ার মতো। সাদা-কালো পর্দার পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ই-ইঙ্ককে নিয়ে যেতে চাইছে আরও রঙিন ও বহুমুখী এক ভবিষ্যতের দিকে।

তবে রঙিন ই-ইঙ্ক এখনো প্রচলিত এলসিডি বা ওএলইডির সরাসরি বিকল্প হয়ে ওঠেনি। রঙের উজ্জ্বলতা, পর্দা পরিবর্তনের গতি ও দাম- কিছু ক্ষেত্রে এখনও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারপরও চোখে আরামদায়ক পাঠের অভিজ্ঞতার সঙ্গে রঙ ও স্মার্ট সুবিধার সমন্বয় যে একটি নতুন বাজার তৈরি করছে, তা স্পষ্ট।

একসময় ই-ইঙ্ক মানেই ছিল সাদা-কালো বইয়ের পর্দা। বিগমির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর হাত ধরে সেই পর্দায় এখন রঙ এসেছে। আর সেই রঙই হয়তো ই-ইঙ্কের পরবর্তী অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গল্প।


কোথায় পাবেন বিগমির ডিভাইস?
যেকোনো দামি টেক গ্যাজেট কেনার ক্ষেত্রে এর আফটার সেলস সাপোর্ট এবং নির্ভরযোগ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানটি কোথায়, তা জানা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশে বিগমি ব্র্যান্ডের অথোরাইজড বা অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর হলো আমাদের প্রতিষ্ঠান ‘মাল্টিমিডিয়া কিংডম’ (Multimedia Kingdom)। দেশের বাজারে ই-রিডার বা গ্রাফিক্স ট্যাবলেট কেনার ক্ষেত্রে মাল্টিমিডিয়া কিংডম দীর্ঘকাল ধরেই গ্রাহকদের আস্থার প্রতীক হিসেবে সমাদৃত। আমাদের কালেকশনে বিগমি ছাড়াও পকেটবুক (PocketBook) বা বুক্স (Boox)-এর মতো অন্যান্য চমৎকার সব ই-রিডার রয়েছে। এছাড়াও ই-রিডারের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যাক্সেসরিজও মাল্টিমিডিয়া কিংডম থেকে খুব সহজেই সংগ্রহ করতে পারবেন।

        তাই, যেকোনো ই-রিডার কেনার আগে জেনে-বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে আজই ভিজিট করুন মাল্টিমিডিয়া কিংডমের ওয়েবসাইট কিংবা স্টোরে। অথবা সরাসরি কথা বলুন (+8801755532345) আমাদের সিইও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জুয়েল-এর সাথে।


কেনো মাল্টিমিডিয়া কিংডম?

২৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের প্রতিষ্ঠান ‘মাল্টিমিডিয়া কিংডম’ বাংলাদেশে ডিজিটাল রিডিং, রাইটিং, ক্রিয়েটিভিটি, প্রিমিয়াম ও হাই-ফাই অডিও এবং পেশাদার প্রযুক্তির এক নির্ভরযোগ্য বিশ্বস্ত ঠিকানা হিসেবে সেবা দিয়ে আসছে।

আমরা স্বগৌরবের সাথে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোকে বাংলাদেশের বাজারে সরবরাহ করে আসছি- যার মধ্যে রয়েছে BOOX, PocketBook, Bigme, Wacom, XP-Pen, Huion, Xencelab, Xteink, Audio-Technica, Fosi Audio, Sonos, Swan, WiiM, Obsbot, Czur, DJI, Insta360, Cammpro, Digidraw-সহ আরও নানা বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড

তাই ই-রিডার, গ্রাফিক্স ট্যাবলেট, হাই-ফাই অডিও সিস্টেম, কনটেন্ট ক্রিয়েশন গিয়ার কিংবা পেশাদার প্রযুক্তির সেরা সমাধান খুঁজছেন? আপনার যেকোনো প্রয়োজনে আমরা আছি সবসময় আপনার পাশে!