প্রযুক্তি পণ্যের এমন একটি বিশেষ ক্যাটাগরি রয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো এমন একটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যা আসলে কেউ জিজ্ঞেস করেনি: এটি কতটা ছোট হতে পারে? এক্সটিইইঙ্ক এক্স৩ (Xteink X3) ঠিক সেই ক্যাটাগরিতেই পড়ে। ব্যবহারিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এটি একটি ক্রেডিট কার্ডের চেয়ে সামান্য বড়। ফোনের পিছনে রেখে ব্যবহার কিংবা মানিব্যাগে রেখেও এটি বহন করা যায়। এই বর্ণনাটি হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে আপনার ভালো লাগতে পারে আবার নাও লাগতে পারে। তাই চলুন জেনে নিই, ই-রিডারটিতে আসলেই কী আছে।


ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি: আক্ষরিক অর্থেই পকেট সাইজ
এক্সটিইইঙ্ক এক্সথ্রি-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর আকার। মাত্র ৯৮ × ৬৪ × ৪.৯৮ মিলিমিটার পরিমাপের এই ডিভাইসটির ওজন মাত্র ৫৮ গ্রাম। সহজ কথায় বলতে গেলে, এটি প্রায় একটি ক্রেডিট কার্ডের সমান! যারা বড়সড় ই-রিডার বহন করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, তাদের জন্য এটি এক চমৎকার সমাধান। ডিভাইসটির গঠন বেশ স্লিক এবং পাতলা (মাত্র ৪.৯৮ মি.মি.)। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, এতে ম্যাগসেফ সাপোর্ট রয়েছে। ফলে আপনি চাইলেই এটিকে আইফোনের পেছনে চুম্বকের মতো আটকে রাখতে পারবেন, যা বহন করার অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ করে দেবে।

সাদা এবং কালো এই দুই কালারেই ডিভাইসটি পাওয়া যাচ্ছে মাল্টিমিডিয়া কিংডম-এ।



ডিসপ্লে ও রিডিং অভিজ্ঞতা
ডিভাইসটিতে একটি ৩.৭ ইঞ্চি ই-ইঙ্ক (E Ink) ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এর পিক্সেল ডেনসিটি ২৫৯ পিপিআই (259 PPI)। যদিও বর্তমানের অনেক ই-রিডারে ৩০০ পিপিআই দেখা যায়, তবে ৩.৭ ইঞ্চির ছোট স্ক্রিনের জন্য এই রেজ্যুলিউশন যথেষ্ট। টেক্সট বেশ পরিস্কারভাবে ফুটে ওঠে এবং সাধারণ বই পড়ার সময় কোনো সমস্যাই মনে হবে না।

Xteink X3 এর ফিজিক্যাল বাটন দিয়ে সহজ নেভিগেজশ করা যায়। পাশে থাকা রকার-স্টাইলের পেজ-টার্ন বাটনগুলো বেশ আরামদায়ক, যা পড়ার সময় আপনাকে দারুণ এক ট্যাকটাইল অনুভূতি দেবে। এতে কোনো ফ্রন্টলাইট নেই, তাই অন্ধকারে পড়ার জন্য আপনাকে আলাদা Xteink eReader Magnetic Reading Light ব্যবহার করতে পারেন, যা মাল্টিমিডিয়া কিংডমে পেয়ে যাবেন।

পারফরম্যান্স ও স্টোরেজ
এক্সটিইইঙ্কএক্সথ্রি (Xteink X3)-এর অভ্যন্তরে রয়েছে ইএসপি৩২ (ESP32) প্রসেসর এবং ১২৮ মেগাবাইট র‍্যাম (RAM)। স্টোরেজের ক্ষেত্রে এতে ১৬ জিবি (16 GB) মাইক্রোএসডি কার্ড প্রি-ইন্সটল করা থাকে। তবে আপনার যদি আরও বেশি জায়গা প্রয়োজন হয়, তবে আপনি ৫১২ জিবি পর্যন্ত স্টোরেজ বাড়িয়ে নিতে পারবেন। ডিভাইসটি মূলত সাইডলোডেড ইপাব (EPUB) এবং টেক্সট (TXT) ফাইলের জন্য তৈরি। এর নিজস্ব কোনো বিল্ট-ইন কনটেন্ট স্টোর নেই। আপনি ড্র্যাগ-অ্যান্ড-ড্রপ করে বা তাদের নিজস্ব অ্যাপের মাধ্যমে বই ট্রান্সফার করতে পারবেন।

ব্যাটারি
ছোট আকারের হলেও Xteink X3 এর ব্যাটারি পারফরম্যান্স আপনাকে হতাশ করবে না। এতে রয়েছে ৬৫০ এমএএইচ (650 mAh) ক্ষমতার একটি ব্যাটারি। ই-ইঙ্ক ডিসপ্লে হওয়ার কারণে এটি খুব বেশি পাওয়ার টানে না। এক্সটিইইঙ্ক এর মতে, দিনে ১-৩ ঘণ্টা পড়লে এর ব্যাটারি অনায়াসেই ১০ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত ব্যাকআপ দিতে সক্ষম।



কানেক্টিভিটি
কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রে এতে ২.৪ গিগাহার্জ ওয়াই-ফাই কানেক্টিভিটি ফিচার রয়েছে, যা অ্যাপের মাধ্যমে ফাইল ট্রান্সফারেও সাহায্য করে। তবে এর চার্জিং পদ্ধতিটা একটু ভিন্ন। সাধারণ ইউএসবি টাইপ-সি পোর্টের বদলে এতে ম্যাগনেটিক পোগো-পিন ক্যাবল ব্যবহার করা হয়েছে যা চুম্বকের মাধ্যমে সহজে কানেক্ট হয়। এছাড়া রয়েছে এনএফসি সুবিধাও।

বিশেষ ফিচার: জাইরোস্কোপ
এই ছোট্ট ই-রিডারে জাইরোস্কোপ নামক একটি বিশেষ সেন্সর যুক্ত করা হয়েছে। ফলে ডিভাইসটিতে 'শেক-টু-পেজ-টার্ন' ফিচারটি উপভোগ করা যায়, অর্থাৎ ই-রিডারটি আলতো করে ঝাঁকালেই পাতা উল্টে যাবে। এটি একটি দারুণ ও অভিনব ফিচার, যা পড়ার অভিজ্ঞতাকে আরও মজাদার করে তোলে।

পার্সোনালাইজড ফিচার
বড় পড়ার পাশাপাশি এই ডিভাইসটির ডিসপ্লেতে ছবি, ঘড়িসহ বিভিন্ন উইজেট ব্যবহার কিংবা আরও অন্যান্য কাস্টোমাইজেবল অভিজ্ঞতা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।



একনজরে Xteink X3
    ডিসপ্লে: ৩.৭ ইঞ্চি ই-ইঙ্ক স্ক্রিন
    রেজ্যুলিউশন: ২৫৯ পিপিআই (259 PPI)
    প্রসেসর: ইএসপি৩২ (ESP32)
    র‍্যাম: ১২৮ মেগাবাইট (128 MB)
    স্টোরেজ: ১৬ জিবি মাইক্রোএসডি কার্ড (৫১২ জিবি পর্যন্ত সম্প্রসারণযোগ্য)
    ব্যাটারি: ৬৫০ এমএএইচ (650 mAh)
    কানেক্টিভিটি: ওয়াই-ফাই (২.৪ গিগাহার্জ), ম্যাগনেটিক পোগো-পিন চার্জিং
    অপারেটিং সিস্টেম: ওপেন সাইডলোডিং সিস্টেম (ক্রসপয়েন্ট কাস্টম ফার্মওয়্যার সাপোর্ট সহ)
    সেন্সর: জাইরোস্কোপ
    ওজন: মাত্র ৫৮ গ্রাম

কাদের জন্য এটি উপযুক্ত
এক্সটিইইঙ্কএক্সথ্রি (XTEINK X3) একটি সুনির্দিষ্ট ক্রেতা গোষ্ঠীর জন্য তৈরি করা হয়েছে। আপনি যদি এমন কোনো ডিভাইস খোঁজেন যা যেকোনো জায়গায় পকেটে করে নিয়ে যাওয়া যায়, যার সাইজ একেবারেই ছোট, যেটি ফোনের পিছনে রেখেই ব্যবহার করা যায় এবং যেটি শুধু বই পড়ার জন্যই ডেডিকেটেড, তবে এটি আপনার জন্য দারুণ একটি সেকেন্ডারি ডিভাইস হতে পারে। 

বাংলাদেশের বাজারে মাত্র ১২ হাজার টাকা মূল্যের এই ই-রিডারটি তাদের জন্যই আদর্শ, যারা আলট্রা-কমপ্যাক্ট ডিজাইন এবং সরলতাকে প্রাধান্য দেন। তবে আপনি যদি ফ্রন্টলাইট বা ইউএসবি টাইপ-সি চার্জিং চান, তবে আপনাকে অন্যান্য অপশনগুলো বিবেচনা করতে হবে। সব মিলিয়ে, পকেট সাইজের এই ই-রিডারটি সত্যিই এক ভিন্নধর্মী ও চমকপ্রদ প্রযুক্তি।

মাল্টিমিডিয়া কিংডম: আস্থার আরেক নাম
বাংলাদেশের বাজারে এক্সটিইইঙ্কের অথোরাইজড ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে অত্যন্ত আস্থার সাথে আমরাই (মাল্টিমিডিয়া কিংডম) নিয়ে এসেছি ব্র্যান্ডটির সবগুলো অফিশিয়াল পন্য। দেশের ই-রিডার প্রেমীদের কাছে মাল্টিমিডিয়া কিংডম বরাবরই একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। শুধু অরিজিনাল এক্সটিইইঙ্কএক্সথ্রি ডিভাইসটি নয়, বরং এর যাবতীয় এক্সক্লুসিভ অ্যাক্সেসরিজ আমাদের কাছেই পাবেন। পাশাপাশি ক্রেতাদের জন্য আমাদের ডেডিকেটেড এবং চমৎকার আফটার সেলস সাপোর্ট বা বিক্রয়োত্তর সেবা আপনাদেরকে দেবে শতভাগ নিশ্চয়তা ও দীর্ঘমেয়াদী মানসিক শান্তি।

তাই ই-রিডার কিংবা ট্যাবলেট যেটিই হোক, কেনার আগে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট কিংবা স্টোরে। যেকোনো প্রয়োজনীয় পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে।