প্রযুক্তির যান্ত্রিকতার ভিড়ে বই পড়তে ভালোবাসেন। স্মার্টফোনের স্ক্রিণকে দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারে অসহ্য লাগে। চলতি পথে হাতের মুঠোয় বইয়ের পাতায় বুদ হয়ে থাকতে চান? তাহলে আপনার পকেট, মানিব্যাগ কিংবা হাতের মুঠোয় স্মার্টফোনের পিছনেই যুক্ত হতে পারে ক্রেডিট কার্ড সাইজের একটি বিশাল গ্রন্থাগার। বই পড়ার তেমনই এক ই-রিডার হলো এক্সটিইইঙ্ক এক্স৪ (XTEINK X4)। চলতে-ফিরতে, অবসরে কিংবা ভ্রমণের সময় নিরবচ্ছিন্নভাবে বইয়ের জগতে হারিয়ে যেতে চাইলে এই ডিভাইসটি হতে পারে আপনার এক অনন্য ও বিশ্বস্ত সঙ্গী।

আনবক্সিং ও প্রথম দর্শন
ডিভাইসটির বক্সটি হাতে নিলেই এর প্রিমিয়াম আর মিনিমালিস্টিক একটা ব্যাপার চোখে পড়বে। সাবধানে বক্সটি খুলতেই দেখা মিলবে সেই কাঙ্ক্ষিত এক্সটিইইঙ্ক এক্স৪ (XTEINK X4) ই-রিডারটির, যা দেখতে আধুনিক স্মার্টফোনের চেয়েও বেশ ছোট, স্লিম ও আকর্ষণীয়। বক্সের ভেতরে ডিভাইসটির পাশাপাশি একটি চার্জিং ক্যাবল, একটি ইউজার ম্যানুয়াল এবং প্রয়োজনীয় ওয়ারেন্টি ডকুমেন্টস সুন্দরভাবে সাজানো রয়েছে। আনবক্স করার সময় এর দারুণ প্যাকেজিং যে কাউকে মুগ্ধ করবে এবং প্রথম দেখাতেই ডিভাইসটি হাতে নিয়ে পড়ার জন্য এক ধরনের তীব্র আগ্রহ তৈরি করবে।

ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি
XTEINK X4-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর কমপ্যাক্ট ডিজাইন। ছোট আকারের কারণে দীর্ঘ সময় এক হাতে ধরে পড়লেও ক্লান্তি অনুভূত হয় না। যদিও এটি মূলত স্মার্টফোনের পিছনে আটকে রেখেই ব্যবহার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। ডিভাইসটির বডি মজবুত এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট টেকসই। ন্যূনতম ডিজাইনের কারণে এটি আধুনিক ও পরিশীলিত একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস হিসেবে আলাদা পরিচয় তৈরি করে। যাঁরা বড় ই-রিডারের পরিবর্তে পকেট-সাইজ সমাধান চান, তাঁদের জন্য এটি অত্যন্ত উপযোগী।



ডিসপ্লে ও রিডিং অভিজ্ঞতা
যেকোনো ই-রিডারের প্রাণ হলো তার স্ক্রিন, আর এখানেই এক্সটিইইঙ্ক এক্স৪ তার মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৪.৩ ইঞ্চির (4.3") চমৎকার ই-ইঙ্ক স্ক্রিন (E ink Screen)। এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি ঠিক ছাপাখানার কাগজের মতো নিখুঁত অনুভূতি দেয়, ফলে দীর্ঘক্ষণ একটানা বই পড়লেও চোখের ওপর কোনো ধরনের চাপ পড়ে না। এর পিক্সেল রেজ্যুলেশন অত্যন্ত নিখুঁত হওয়ায় প্রতিটি অক্ষর ও ছবি খুব তীক্ষ্ণ ও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। দিনের কড়া আলোতেও যেমন এটি স্বাচ্ছন্দ্যে পড়া যায়, তেমনি এর নিখুঁত ফ্রন্টলাইট ব্যবহার করে রাতের বেলাতেও দারুণ রিডিং অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।

পারফরম্যান্স
ছোটখাটো গড়নের হলেও পারফরম্যান্সের দিক থেকে এক্সটিইইঙ্ক এক্স৪ কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই। ডিভাইসটির সাবলীল কার্যক্ষমতা নিশ্চিত করতে এতে রয়েছে একটি শক্তিশালী প্রসেসর (Processor) এবং ১২৮ মেগাবাইট র‍্যাম, যা বড় আকারের বই দ্রুত খুলতে ও পেজ উল্টাতে দারুণ সাহায্য করে। অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে এতে এমন একটি ইউজার ইন্টারফেস ব্যবহার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত সহজ ও ল্যাগ-ফ্রি। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর স্টোরেজ। এতে ৩২ গিগাবাইট ইন্টারনাল স্টোরেজ দেওয়া হয়েছে, যেখানে আপনি চাইলে হাজার হাজার বইয়ের পিডিএফ, ইপাব এবং অডিওবুক নিশ্চিন্তে সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন। আধুনিক সেন্সর ও চমৎকার অডিও সাপোর্ট থাকায় অডিওবুক শোনার অভিজ্ঞতাও বেশ প্রাণবন্ত।

ব্যাটারি
ই-রিডার ব্যবহারকারীদের অন্যতম বড় চাওয়া থাকে ভালো ব্যাটারি ব্যাকআপ, আর এক্সটিইইঙ্ক এক্স৪ এক্ষেত্রে শতভাগ সফল। এতে একটি ৬৫০ এমএএইচ ক্ষমতার ব্যাটারি যুক্ত করা হয়েছে। ই-ইঙ্ক (E Ink) ডিসপ্লে প্রযুক্তি এমনিতেই খুব কম চার্জ গ্রহণ করে, তাই এই ব্যাটারি দিয়ে একবার ফুল চার্জ করলে অনায়াসে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে বই পড়া যায়। ভ্রমণের সময় বারবার চার্জ দেওয়ার কোনো ঝামেলা এতে একেবারেই পোহাতে হয় না, যা এর ব্যাটারি লাইফকে করে তুলেছে অতুলনীয়।



কানেক্টিভিটি
বই ডাউনলোড বা সিঙ্ক করার জন্য এই ই-রিডারটিতে কানেক্টিভিটি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এর দ্রুতগতির ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে খুব সহজেই নতুন বই ডিভাইসে নিয়ে আসা যায়। পাশাপাশি, ফাইল ট্রান্সফার বা অডিও ডিভাইস যুক্ত করার জন্য এর ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি অত্যন্ত স্থিতিশীল এবং দ্রুত কাজ করে।

একনজরে ডিভাইসটি
    ডিসপ্লে: ই-ইঙ্ক স্ক্রিন
    স্ক্রিন সাইজ: ৪.৩ ইঞ্চি
    মেমোরি: ১২৮ মেগাবাইট
    স্টোরেজ: ৩২ গিগাবাইট
    ব্যাটারি ক্যাপাসিটি: ৬৫০ এমএএইচ
    ডিজাইন: আল্ট্রা-কম্প্যাক্ট, হালকা ও সম্পূর্ণ পকেট-ফ্রেন্ডলি।

যাদের জন্য এই ডিভাইস
যারা সারাদিনের কর্মব্যস্ততার ফাঁকে যাতায়াতের পথে বা ভ্রমণের সময় নিজেদের প্রিয় লেখকের বইতে ডুবে থাকতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি একটি পারফেক্ট ডিভাইস। এর চমৎকার চোখের প্রশান্তিদায়ক ডিসপ্লে, স্টোরেজ, দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ এবং পকেট কিংবা স্মার্টফোনের পিছনে বহনযোগ্য প্রিমিয়াম ডিজাইন এটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। যারা ভারী ও বড় আকারের ই-রিডার এড়িয়ে স্মার্ট, সহজে বহনযোগ্য ও প্রিমিয়াম কিছু খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি দুর্দান্ত বিনিয়োগ।



কোথায় পাবেন?
বাংলাদেশের বাজারে এক্সটিইইঙ্কের অথোরাইজড ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে অত্যন্ত আস্থার সাথে আমরাই (মাল্টিমিডিয়া কিংডম) নিয়ে এসেছি ব্র্যান্ডটির সবগুলো অফিশিয়াল পন্য। দেশের ই-রিডার প্রেমীদের কাছে মাল্টিমিডিয়া কিংডম বরাবরই একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। শুধু অরিজিনাল এক্সটিইইঙ্ক এক্স৪ (XTEINK X4)  ডিভাইসটি নয়, বরং এর যাবতীয় এক্সক্লুসিভ অ্যাক্সেসরিজ আমাদের কাছেই পাবেন। পাশাপাশি ক্রেতাদের জন্য আমাদের ডেডিকেটেড এবং চমৎকার আফটার সেলস সাপোর্ট বা বিক্রয়োত্তর সেবা আপনাদেরকে দেবে শতভাগ নিশ্চয়তা ও দীর্ঘমেয়াদী মানসিক শান্তি।

তাই ই-রিডার কিংবা ট্যাবলেট যেটিই হোক, কেনার আগে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট কিংবা স্টোরে। যেকোনো প্রয়োজনীয় পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে।