পেন্সিল স্কেচ ও ফিগার ড্রয়িং: মানবদেহের নিখুঁত অনুপাত ও পরিমাপ
রেখার ওপর নিয়ন্ত্রণ আসার পর একজন শিল্পীর পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হলো সঠিক পরিমাপ আয়ত্ত করা। মাল্টিমিডিয়া কিংডমের পাঠকদের জন্য আয়োজিত এই ধারাবাহিকের গত পর্বে আমরা রেখার জাদুকরি ব্যবহার নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ আমাদের আলোচনার বিষয় ফিগার ড্রয়িংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ- মানবদেহের অনুপাত বা প্রোপোরশন। ছবি আঁকার সময় একটি হাত বা পা শরীরের তুলনায় খুব বড় বা ছোট দেখালে পুরো ছবির আবেদনই নষ্ট হয়ে যায়। এই সমস্যা সমাধানের জন্যই শিল্পীরা একটি সর্বজনীন মাপকাঠি ব্যবহার করেন, যার মাধ্যমে মানবদেহের প্রতিটি অংশের নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হয়।
মাথার মাপে শরীরের পরিমাপ
মানবদেহের অনুপাত মাপার সবচেয়ে প্রাচীন ও নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হলো মাথার মাপ বা হেড কাউন্ট পদ্ধতি। রেনেসাঁ যুগের শিল্পীরা এই পদ্ধতিকে জনপ্রিয় করে তোলেন। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের উচ্চতা সাধারণত তার নিজের মাথার মাপের সাড়ে সাত থেকে আট গুণ হয়ে থাকে।
অর্থাৎ, একটি পূর্ণাঙ্গ ফিগার আঁকার সময় পুরো ক্যানভাসকে সমান আটটি ভাগে ভাগ করে নিতে হয়। প্রথম ভাগে থাকে মাথা। দ্বিতীয় ভাগে চিবুক থেকে বুকের নিপল পর্যন্ত, তৃতীয় ভাগে নাভি পর্যন্ত এবং চতুর্থ ভাগে কুঁচকি বা পেলভিস পর্যন্ত অংশটি থাকে। এটি হলো শরীরের ঠিক অর্ধেক। পঞ্চম থেকে অষ্টম ভাগ পর্যন্ত থাকে দুই পা, যার মধ্যে ষষ্ঠ ভাগের কাছাকাছি হাঁটু অবস্থান করে। এই সূত্রটি মনে রাখলে ফিগার ড্রয়িংয়ে ভারসাম্যহীনতা অনেকটাই দূর হয়ে যায়।
বয়সভেদে অনুপাতের পরিবর্তন
সব বয়সের মানুষের শারীরিক অনুপাত এক রকম হয় না। একটি শিশুর মাথা তার শরীরের তুলনায় বেশ বড় থাকে। সদ্য জন্ম নেওয়া একটি শিশুর পুরো শরীর তার মাথার প্রায় চার গুণ হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই অনুপাত পরিবর্তিত হতে থাকে। পাঁচ বছর বয়সী শিশুর উচ্চতা মাথার মাপের প্রায় ছয় গুণ এবং দশ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে তা সাত গুণ হয়। তাই শিশু বা কিশোরদের ফিগার আঁকার সময় যদি আট মাথার সূত্র ব্যবহার করা হয়, তবে তাদের দেখতে প্রাপ্তবয়স্ক বা বামন মনে হতে পারে। বয়সের এই সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো ধরতে পারা একজন দক্ষ শিল্পীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
নারী ও পুরুষের কাঠামোগত পার্থক্য
নারী ও পুরুষের শারীরিক গঠনে বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে, যা ফিগার ড্রয়িংয়ের সময় খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি। পুরুষের কাঁধ সাধারণত প্রশস্ত হয় এবং কোমর চাপা থাকে, যা দেখতে অনেকটা উল্টানো ত্রিভুজের মতো মনে হয়।
অন্যদিকে, নারীদের কাঁধ তুলনামূলকভাবে চাপা এবং কোমর বা নিতম্ব প্রশস্ত হয়। পুরুষের শরীরের পেশিগুলো বেশি দৃশ্যমান ও কৌণিক হয়, যেখানে নারীর শরীরের রেখাগুলো অনেক বেশি বক্র ও মসৃণ। এই কাঠামোগত পার্থক্যের কারণেই আঁকার সময় জ্যামিতিক আকারগুলোর প্রয়োগে ভিন্নতা আনতে হয়।
ভারসাম্য ও ভরকেন্দ্র
ফিগার ড্রয়িংয়ে অনুপাতের পাশাপাশি শরীরের ভারসাম্য বা ব্যালেন্স বজায় রাখা সমান গুরুত্বপূর্ণ। একজন মানুষ যখন দাঁড়িয়ে থাকে, তখন তার শরীরের সম্পূর্ণ ওজন একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে কাজ করে, যাকে ভরকেন্দ্র বলে।
কলারবোন বা গলার কাছের হাড়ের মাঝখান থেকে সোজা নিচের দিকে একটি কাল্পনিক রেখা টানলে তা পায়ের পাতার মাঝখান দিয়ে যাবে। যখন মানুষ এক পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়ায় বা দৌড়ায়, তখন এই ভরকেন্দ্র পরিবর্তিত হয়। মেরুদণ্ডের বক্রতা এবং কাঁধ ও কোমরের কোণগুলো তখন ভিন্ন রূপ নেয়। এই ভারসাম্য সঠিকভাবে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলতে পারলেই একটি স্থির চিত্রে প্রাণের সঞ্চার হয়।
পেন্সিল স্কেচ ও ফিগার ড্রয়িংয়ের পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস
মাল্টিমিডিয়া কিংডমের পাঠকদের সুবিধার্থে আমাদের এই ধারাবাহিকের সম্পূর্ণ সিলেবাস নিচে দেওয়া হলো:
১. পর্ব এক: বেসিক গ্রামার ও লাইন ড্রয়িং (ইতিমধ্যে প্রকাশিত)
২. পর্ব দুই: মানবদেহের নিখুঁত অনুপাত ও পরিমাপ (বর্তমান পর্ব)
৩. পর্ব তিন: পার্সপেক্টিভ বা পরিপ্রেক্ষিত এবং ফোরশর্টনিং
৪. পর্ব চার: অ্যানাটমি: পেশি ও অস্থির প্রাথমিক ধারণা
৫. পর্ব পাঁচ: অঙ্গপ্রত্যঙ্গ: হাত ও পা আঁকার সহজ কৌশল
৬. পর্ব ছয়: পোর্ট্রেট বা মুখাবয়ব আঁকার নিয়মাবলি
৭. পর্ব সাত: আলো-ছায়া, শেডিং এবং টেক্সচার তৈরি
৮. পর্ব আট: পূর্ণাঙ্গ ফিগার ড্রয়িং, ড্রপারি (পোশাকের ভাঁজ) এবং কম্পোজিশন
৯. পর্ব নয়: অ্যাকশন বা গতিশীল ফিগার ড্রয়িং
১০. পর্ব দশ: নিজস্ব স্টাইল তৈরি ও শিল্পীর করণীয়
মাল্টিমিডিয়া কিংডমের ব্লগে আমরা শিখব কীভাবে দ্বিমাত্রিক কাগজে ত্রিমাত্রিক গভীরতা তৈরি করা যায়, অর্থাৎ পার্সপেক্টিভ ও ফোরশর্টনিং নিয়ে। তত দিন পর্যন্ত আট মাথার সূত্রটি ব্যবহার করে চারপাশের মানুষদের পর্যবেক্ষণ ও স্কেচ করার অনুশীলন চালিয়ে যান।
আপনার ডিজিটাল সৃজনশীলতার যাত্রার জন্য গ্রাফিক্স ট্যাবলেট খুঁজছেন। তাহলে মাল্টিমিডিয়া কিংডম হতে পারে একমাত্র ভরসার স্থল। দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি পণ্যের প্রতিষ্ঠান ‘মাল্টিমিডিয়া কিংডম’ বিশ্বের নামি-দামি প্রায় সকল ব্র্যান্ডের জেনুইন গ্রাফিক্স ট্যাবলেট ও প্রয়োজনীয় অ্যাক্সেসরিজ বিশ্বস্ততার সাথে সরবরাহ করে আসছে। কেনার আগে সঠিক দিকনির্দেশনা পেতে সরাসরি কথা বলতে পারেন (+8801755532345) মাল্টিমিডিয়া কিংডম এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জুয়েল-এর সাথে। অথবা ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট কিংবা স্টোরে।