কোবো: বইয়ের অ্যাপ থেকে যেভাবে ই-রিডার বাজারে রাজত্ব করছে
প্রযুক্তির বিবর্তনে মানুষের পড়ার অভ্যাসে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। আর এই ই-বুক বা ই-রিডারের কথা উঠলেই যার নাম বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে ঘুরেফিরে আসে, তা হলো 'কোবো' (Rakuten Kobo)। কানাডার টরন্টো থেকে শুরু হওয়া ছোট্ট একটি স্টার্টআপ কীভাবে অ্যামাজন কিণ্ডলের (Amazon Kindle) মতো জায়ান্টের সঙ্গে টেক্কা দিয়ে ই-রিডার এবং ই-বুক রিটেইল বাজারের অন্যতম পরাশক্তিতে পরিণত হলো, সে এক দারুণ গল্প।
বাংলাদেশের ই-রিডার ভক্তদের জন্য প্রিমিয়াম সব ডিজিটাল ওয়াটারপ্রুফ ডিভাইস এবং ই-ইঙ্ক (E Ink) ডিসপ্লের সুবিধা নিয়ে এই বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডটি এখন প্রযুক্তিপ্রেমীদের হাতের নাগালে।
শর্ট কাভার্স থেকে 'কোবো'র জন্ম
কোবোর পথচলা শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে কানাডায়। কানাডার বিখ্যাত বুকসেলার 'ইনডিগো বুকস অ্যান্ড মিউজিক'-এর প্রধান নির্বাহী হিদার রেইসম্যান এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তা মাইকেল সার্বিনিসের যৌথ চিন্তার ফসল এটি। সার্বিনিস ২০০৬ সালে ইনডিগোতে যোগ দিয়ে ডিজিটাল বইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ শুরু করেন। ইনডিগোর অর্থায়নে তৈরি হয় 'শর্ট কাভার্স' (Shortcovers) নামের একটি অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন অ্যাপ, যা রাতারাতি দারুণ সাড়া ফেলে।
কিন্তু শর্ট কাভার্সের সাফল্য দেখে মাইকেল সার্বিনিস এটিকে ইনডিগো থেকে আলাদা করে স্বাধীন একটি পূর্ণাঙ্গ কোম্পানিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা করেন। এই রূপান্তরের মাধ্যমেই জন্ম নেয় 'কোবো' (Kobo)- যা মূলত 'Book' শব্দটির একটি অ্যানাগ্রাম বা বর্ণ সাজিয়ে তৈরি নাম। পরবর্তীতে হংকংয়ের কোটিপতি বিনিয়োগকারী লি কা-শিং এবং আমেরিকান রিটেইলার বর্ডার্সের আর্থিক সহায়তায় কোবো ইন্ডিপেনডেন্ট বা স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে কোবো।
প্রথম ই-রিডার এবং হার্ডওয়্যার জগতে প্রবেশ
অ্যাপভিত্তিক সেবা দিয়ে বাজার মাতিয়ে তোলার পর ২০১০ সালের মে মাসে কোবো তাদের প্রথম নিজস্ব ই-রিডার বাজারে আনে। যদিও প্রথম মডেলটি কম্পিউটারের সঙ্গে ইউএসবি ক্যাবল দিয়ে যুক্ত করে বই লোড করতে হতো, তবে কয়েক মাসের মধ্যেই ২০১০ সালের অক্টোবরে তারা নিয়ে আসে কোবো ওয়াইফাই ‘Kobo WiFi’। এখান থেকে ই-রিডারেই সরাসরি বই কেনা এবং পড়ার সুযোগ পান পাঠকেরা। প্রথম বছরেই কোবো প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ পণ্য বিক্রি করে গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয়।
পরবর্তী সময়ে তারা একে একে নিয়ে আসে ৫ ইঞ্চির কোবো মিনি, কোবো অরা, ওয়াটারপ্রুফ প্রযুক্তির কোবো এইচটুও এবং প্রিমিয়াম ডিসপ্লের 'কোবো অরা ওয়ান'-এর মতো বহুল প্রশংসিত সব মডেল।
বর্তমানে কোবোর সাগা, ক্লারা ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট, ক্লারা কালার, লিব্রা কালার ও এলিপসা ২ই মডেল বাজারে রয়েছে। আর বাংলাদেশের বাজারে এটি মাল্টিমিডিয়া কিংডমে পাওয়া যাচ্ছে।
বিশ্ববাজার জয়ের অভিনব কৌশল
যুক্তরাষ্ট্রের বাজার যেখানে অ্যামাজন কিণ্ডল, বার্নস অ্যান্ড নোবেল, অ্যাপল ও গুগল নিজেদের দখলে রাখতে যুদ্ধ করছিল, কোবো সেখানে একটি বুদ্ধিদীপ্ত আন্তর্জাতিক কৌশল গ্রহণ করে। কোবোর বর্তমান প্রধান নির্বাহী মাইকেল ট্যাম্বলিনের ভাষায়, "আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যুক্তরাষ্ট্রের বাজার একটি রণক্ষেত্র। তাই আমরা অন্যান্য দেশে মনোযোগ দিই যেখানে ই-বুকের বড় সম্ভাবনা ছিল।"
কোবো বিশ্বজুড়ে নিজেদের বিস্তার ঘটাতে স্থানীয় বইয়ের দোকান এবং প্রকাশকদের সঙ্গে অংশীদারত্ব বা পার্টনারশিপ গড়ে তোলে। ফ্রান্সে ‘এফএনএসি’-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে তারা স্থানীয় পাঠকদের ভাষায় ই-বুক সরবরাহ করা শুরু করে। একে একে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও এশিয়ায় শক্ত ঘাঁটি গেড়ে তোলে তারা।
রাকুতেন কর্তৃক অধিগ্রহণ এবং বর্তমান অবস্থা
কোবোর দ্রুত প্রসারের পর বিশ্বব্যাপী ব্যবসা আরও জোরদার করতে ২০১১ সালে জাপানি ই-কমার্স জায়ান্ট 'রাকুতেন' ৩০০ মিলিয়ন ডলার নগদে কোবোকে কিনে নেয়। রাকুতেনের হাত ধরে কোবো আন্তর্জাতিক বাজারে আরও ডানা মেলে।
২০১৪ সালে লাইব্রেরি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান 'ওভারড্রাইভ' অধিগ্রহণের ফলে কোবো ই-রিডারে সরাসরি ডিজিটাল লাইব্রেরি থেকে বই ধার নেয়ার সুবিধা যুক্ত হয়, যা পাঠকদের কাছে কোবোকে আরও বেশি জনপ্রিয় করে তোলে।
কেন কোবো অনন্য?
• উন্মুক্ত ই-বুক ফরম্যাট: অ্যামাজনের মতো আবদ্ধ ইকোসিস্টেমের বদলে কোবো উন্মুক্ত ফরম্যাট (যেমন ইপাব, পিডিএফ) সাপোর্ট করে। ফলে যেকোনো উৎস থেকে বই ডাউনলোড করে পড়া সহজ।
• চোখের সুরক্ষায় ই-ইঙ্ক ও কমফোর্টলাইট: চোখের ওপর চাপ না ফেলে আসল কাগজের মতো পড়ার অভিজ্ঞতা দিতে কোবোর ই-ইঙ্ক স্ক্রিন এবং কালার টেম্পারেচার নিয়ন্ত্রণকারী লাইটিং প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
• ওয়াটারপ্রুফ ডিজাইন: পানির নিচে বা গোসলখানায় নিশ্চিন্তে পড়ার জন্য কোবো এনেছে ওয়াটারপ্রুফ ই-রিডার।
• ওভারড্রাইভ ও পকেট সমন্বয়: সরাসরি ডিভাইসে অনলাইন আর্টিকেল সেভ করে পড়া এবং ডিজিটাল লাইব্রেরি ব্যবহারের সুবিধা।
ডিজিটাল বুক রিডিংয়ের দুনিয়ায় টেকসই প্রযুক্তি আর পাঠকের স্বাধীনতার দারুণ মেলবন্ধনই আজকের ‘কোবো’।
মাল্টিমিডিয়া কিংডমে কোবো ই-রিডার
বইপ্রেমী এবং প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য বিশ্বমানের কোবো (Rakuten Kobo) ই-রিডারের অফিসিয়াল ও জেনুইন কালেকশন এখন পাওয়া যাচ্ছে মাল্টিমিডিয়া কিংডমে (Multimedia Kingdom)। সাশ্রয়ী মূল্যে ডিজিটাল রিডিংয়ের সেরা অভিজ্ঞতা নিতে আপনার পছন্দের কোবো মডেলটি পরখ করে দেখতে পারেন মাল্টিমিডিয়া কিংডমের আউটলেট অথবা অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে।