বইয়ের পাতায় চোখ বুলিয়ে হারিয়ে যাওয়ার যে মুগ্ধতা, তা কি কোনো স্ক্রিনে পাওয়া সম্ভব? প্রযুক্তি তার উত্তর দিয়েছে ই-রিডারের মাধ্যমে। আর এই ডিজিটাল পাঠাভ্যাসের জগতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে পকেটবুক ভার্স (PocketBook Verse)। প্রথম দেখাতেই এর আভিজাত্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। আধুনিক জীবনে পড়ার অভ্যাসকে আরও আরামদায়ক ও সাবলীল করতে এই ডিভাইসটি একটি চমৎকার সংযোজন। মাল্টিমিডিয়া কিংডমের (Multimedia Kingdom) মতো নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান থেকে এই ডিভাইসটি সংগ্রহ করে আপনি আপনার ডিজিটাল লাইব্রেরি সব জায়গায় সাথে নিয়ে ঘুরতে পারবেন। চলুন,আজ এই অসাধারণ ই-রিডারটির খুঁটিনাটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।

ডিভাইসের পরিচিতি

পকেটবুক ভার্স (PocketBook Verse) একটি এন্ট্রি-লেভেলের ই-রিডার হলেও এর ফিচার ও ডিজাইন একে অনন্য করে তুলেছে। যারা কেবলই বই পড়তে ভালোবাসেন, কোনো ধরনের নোটিফিকেশন বা বিজ্ঞাপনের বিরক্তি চান না, তাদের জন্য এটি এক আদর্শ সঙ্গী। এর মিস্ট গ্রে (Mist Grey)ব্রাইট ব্লু (Bright Blue) কালার ভেরিয়েন্ট উভয়ই দেখতে যেমন প্রিমিয়াম, তেমনি ব্যবহারেও অত্যন্ত আরামদায়ক।


আনবক্সিং

পকেটবুক ভার্সের বক্সটি বেশ সাধারণ কিন্তু এর ভেতরে প্রয়োজনীয় সবকিছুই খুব সুন্দরভাবে সাজানো থাকে। বক্সটি খুললেই প্রথমে দেখা মিলবে কাঙ্ক্ষিত ডিভাইসটির। এর সাথে একটি ইউএসবি টাইপ-সি চার্জিং ক্যাবল এবং একটি কুইক স্টার্ট গাইড দেওয়া থাকে।

ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি

ডিভাইসটির ডিজাইন এককথায় অসাধারণ। মাত্র ১৮৬ গ্রাম ওজনের এই ই-রিডারটি হাতে নিলে মনে হবে যেন একটি ছোট ডায়েরি ধরে আছেন। এর ডাইমেনশন ১০৮ × ১৫৬ × ৭.৬ মিলিমিটার, যা এটিকে অত্যন্ত পোর্টেবল করে তুলেছে। দীর্ঘক্ষণ এক হাতে ধরে রাখলেও কোনো ক্লান্তি আসবে না। নিচের দিকে থাকা ফিজিক্যাল পেজ-টার্ন বাটনগুলো বইয়ের পাতা উল্টানোর অনুভূতি দেয়, যা টাচস্ক্রিনের চেয়ে অনেক বেশি আরামদায়ক। মিস্ট গ্রে কিংবা ব্রাইট ব্লু রঙের কারণে এর বাহ্যিক রূপ বেশ আকর্ষণীয়। পকেটবুক ডিভাইসগুলো তাদের প্রিমিয়াম ইউরোপিয়ান বিল্ড কোয়ালিটির জন্য পরিচিত, আর ভার্স সংস্করণটিও তার ব্যতিক্রম নয়।

ডিসপ্লে ও রিডিং অভিজ্ঞতা

পকেটবুক ভার্স ই-রিডারে রয়েছে ৬ ইঞ্চির ই-ইঙ্ক কার্টা ডিসপ্লে। এর রেজ্যুলিউশন ৭৫৮ × ১০২৪ এবং পিক্সেল ডেনসিটি ২১২। যদিও এটি ৩০০ পিপিআই নয়, তবুও এর টেক্সট এবং ইমেজের স্পষ্টতা চমৎকার। চোখের সুরক্ষার জন্য এতে রয়েছে স্মার্টলাইট প্রযুক্তি, যার সাহায্যে আপনি আপনার প্রয়োজনমতো ব্রাইটনেস এবং কালার টেম্পারেচার (ওয়ার্ম বা কোল্ড) কাস্টমাইজ করতে পারবেন। দিনের কড়া রোদেও এর স্ক্রিনে কোনো গ্লেয়ার পড়ে না, আর রাতে পড়ার সময় ওয়ার্ম লাইট চোখের ওপর চাপ কমায়। কোনো বাধা বা সোশ্যাল মিডিয়ার নোটিফিকেশন ছাড়াই এতে পড়ার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত শান্তিময়।


পারফরম্যান্স

ডিভাইসটির ভেতরে রয়েছে ডুয়াল কোর ২ ×১ গিগাহার্জ প্রসেসর এবং ৫১২ মেগাবাইট র‍্যাম। ই-রিডার হিসেবে এর পারফরম্যান্স বেশ স্মুথ। পাতা উল্টানো, বই ওপেন করা বা মেনু নেভিগেশনের সময় খুব একটা ল্যাগ দেখা যায় না। এর অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে রয়েছে লিনাক্স, যা অত্যন্ত স্টেবল। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো,এটি ২৫টিরও বেশি ই-বুক এবং গ্রাফিক ফরম্যাট সাপোর্ট করে (যেমন- EPUB, PDF, MOBI, DJVU)। তাই ফাইল কনভার্ট করার ঝামেলা পোহাতে হয় না।

স্টোরেজ ও ভেরিয়েন্ট

পকেটবুক ভার্স ই-রিডারটিতে রয়েছে ৫১২ মেগাবাইট র‍্যাম এবং ৮ গিগাবাইট ইন্টারনাল স্টোরেজ। এটি হয়তো শুনতে কম মনে হতে পারে, কিন্তু শুধু বই রাখার জন্য এটি যথেষ্ট। এতে কয়েক হাজার ই-বুক অনায়াসে সেভ করে রাখা যায়। এছাড়া, এতে মাইক্রোএসডি কার্ড স্লট রয়েছে, যার মাধ্যমে স্টোরেজ ১২৮ গিগাবাইট পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। কালার ভেরিয়েন্টের মধ্যে মিস্ট গ্রে (Mist Grey) এবং ব্রাইট ব্লু (Bright Blue) সংস্করণ রয়েছে, যা বাংলাদেশের বাজারে মাল্টিমিডিয়া কিংডমে পাওয়া যাচ্ছে।


ব্যাটারি

ই-রিডারগুলোর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এদের ব্যাটারি লাইফ। পকেটবুক ভার্স-এ রয়েছে ১৫০০ এমএএইচ লি-আয়ন পলিমার ব্যাটারি। একবার ফুল চার্জ করলে সাধারণ ব্যবহারে এটি এক মাস পর্যন্ত চলতে পারে। ভ্রমণের সময় বারবার চার্জ দেওয়ার দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিতে এটি এক অনন্য ডিভাইস।

কানেক্টিভিটি

ডিভাইসটিতে রয়েছে বিল্ট-ইন ওয়াই-ফাই (২.৪ গিগাহার্জ)। এর সাহায্যে আপনি খুব সহজেই অনলাইনে বই কিনতে বা ডাউনলোড করতে পারবেন। এছাড়া, পকেটবুক ক্লাউড এবং ড্রপবক্স ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে পিসি বা মোবাইল থেকে তারবিহীনভাবে ফাইল ট্রান্সফার করা যায়। চার্জিং এবং ডেটা ট্রান্সফারের জন্য রয়েছে ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট।

একনজরে পকেটবুক ভার্স:

  • ডিসপ্লে: ৬ ইঞ্চি E Ink Carta™
  • প্রসেসর: ডুয়াল কোর (২ × ১ গিগাহার্জ)
  • র‍্যাম: ৫১২ মেগাবাইট
  • স্টোরেজ: ৮ গিগাবাইট (মাইক্রোএসডি কার্ড দিয়ে ১২৮ জিবি পর্যন্ত বাড়ানো যায়)
  • ব্যাটারি: ১৫০০ এমএএইচ (এক মাস পর্যন্ত ব্যাকআপ)
  • কানেক্টিভিটি: ওয়াই-ফাই, ইউএসবি টাইপ-সি
  • ওজন: ১৮৬ গ্রাম
  • বিশেষ ফিচার: স্মার্টলাইট, ফিজিক্যাল বাটন, ২৫+ ফরম্যাট সাপোর্ট


কার জন্য এটি উপযুক্ত

পকেটবুক ভার্স মূলত তাদের জন্য তৈরি, যারা কোনো ধরনের ডিজিটাল ডিস্ট্রাকশন ছাড়াই শুধু বই পড়তে ভালোবাসেন। এর হালকা ওজন, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি, স্মার্টলাইট এবং ফিজিক্যাল বাটন একে এক অনবদ্য ই-রিডারে পরিণত করেছে। যারা অ্যামাজনের ইকোসিস্টেমের বাইরে একটি স্বাধীন ই-রিডার খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি সেরা পছন্দ হতে পারে। মাল্টিমিডিয়া কিংডমের (Multimedia Kingdom) অন্যান্য ডিভাইসের তুলনায় এটি দামে সাশ্রয়ী এবং মানে অসাধারণ। আপনি যদি বইয়ের জগতে হারিয়ে যেতে চান, তবে পকেটবুক ভার্স মিস্ট গ্রে হতে পারে আপনার নিত্যদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী।


কোথায় পাবেন?
সেরা আফটার সেলস সাপোর্টসহ সম্পূর্ণ নিশ্চিন্তে অরিজিনাল পকেটবুক ভার্স (PocketBook Verse) ডিভাইসটি সংগ্রহ করার জন্য মাল্টিমিডিয়া কিংডম-এ যোগাযোগ করাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমত্তার সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশের ই-বুকপ্রেমী ও প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য আমরাই (মাল্টিমিডিয়া কিংডম) পকেটবুকসহ শীর্ষস্থানীয় সকল ব্র্যান্ডের ই-রিডার বিশ্বস্ততার সাথে বাজারজাত করে আসছি। আমাদের পকেটবুক সংগ্রহে Era, Era Color, Verse, Verse Pro এবং অন্যান্য মডেলও রয়েছে। কেবল বিক্রিই নয়, বিক্রয়োত্তর সেবা বা আফটার সেলস সাপোর্ট এবং ডিভাইসটির জন্য প্রয়োজনীয় অরিজিনাল অ্যাক্সেসরিজের (যেমন কাভার, স্টাইলাস নিব) জন্য মাল্টিমিডিয়া কিংডম দেশের গ্রাহকদের কাছে সবচেয়ে আস্থাশীল নাম।

        তাই, যেকোনো ই-রিডার কেনার আগে জেনে-বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে আজই ভিজিট করুন মাল্টিমিডিয়া কিংডমের ওয়েবসাইট কিংবা স্টোরে। অথবা সরাসরি কথা বলুন (+8801755532345) আমাদের সিইও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জুয়েল-এর সাথে।

কেনো মাল্টিমিডিয়া কিংডম?

২৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের প্রতিষ্ঠান ‘মাল্টিমিডিয়া কিংডম’ বাংলাদেশে ডিজিটাল রিডিং, রাইটিং, ক্রিয়েটিভিটি, প্রিমিয়াম ও হাই-ফাই অডিও এবং পেশাদার প্রযুক্তির এক নির্ভরযোগ্য বিশ্বস্ত ঠিকানা হিসেবে সেবা দিয়ে আসছে।

আমরা স্বগৌরবের সাথে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোকে বাংলাদেশের বাজারে সরবরাহ করে আসছি- যার মধ্যে রয়েছে BOOX, PocketBook, Bigme, Wacom, XP-Pen, Huion, Xencelab, Xteink, Audio-Technica, Fosi Audio, Sonos, Swan, WiiM, Obsbot, Czur, DJI, Insta360, Cammpro, Digidraw-সহ আরও নানা বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড

তাই ই-রিডার, গ্রাফিক্স ট্যাবলেট, হাই-ফাই অডিও সিস্টেম, কনটেন্ট ক্রিয়েশন গিয়ার কিংবা পেশাদার প্রযুক্তির সেরা সমাধান খুঁজছেন? আপনার যেকোনো প্রয়োজনে আমরা আছি সবসময় আপনার পাশে!