আইপ্যাডের পরিবর্তে যেকারণে ই-ইঙ্ক ডিভাইস কেনা উচিত
আপনি যদি কখনো অ্যামাজন কিন্ডল, কোবো, বুক্স, রিমার্কেবল বা এ ধরনের ইলেকট্রনিক রিডার ব্যবহার করে থাকেন, তবে ই-ইঙ্ক ডিসপ্লে প্রযুক্তির সঙ্গে নিশ্চয়ই পরিচিত। আমাদের নিত্যদিনের স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটে ব্যবহৃত ওএলইডি কিংবা এলসিডি পর্দার মতো ই-ইঙ্কের নিজস্ব কোনো চিরাচরিত আলো বা অনবরত বিদ্যুৎ শক্তির প্রয়োজন হয় না। এতে থাকা লাখ লাখ অতি ক্ষুদ্র কণা চার্জিত হয়ে পর্দার ছবি বা লেখা ফুটিয়ে তোলে এবং তা পরিবর্তনের সময় ছাড়া বাড়তি বিদ্যুৎ খরচ করে না। ফলে এর পর্দা দেখতে ঠিক বইয়ের কাগজের মতো মনে হয়, ব্যাটারি খরচ হয় অত্যন্ত কম এবং দীর্ঘ সময় ব্যবহারে চোখের ওপরও চাপ পড়ে না।
একসময় কেবল ই-রিডারেই এই প্রযুক্তি সীমাবদ্ধ ছিল, তবে ইদানীং বাজারে বেশ কিছু ই-ইঙ্ক ট্যাবলেট এবং স্মার্টফোন এসেছে। প্রযুক্তির অনেক উন্নতি হলেও সব কাজের জন্য এটি সমান উপযোগী নয়। তাই একটি নতুন ট্যাবলেট কেনার আগে আইপ্যাডের তুলনায় ই-ইঙ্ক ডিসপ্লে আপনাকে কী বাড়তি সুবিধা দিতে পারে, তা জেনে নেওয়া ভালো।
কখন আইপ্যাডের চেয়ে ই-ইঙ্ক ট্যাবলেট সেরা?
বই পড়া কিংবা হাতে লেখা ও আঁকাআঁকির কাজই যাদের প্রধান লক্ষ্য, তাঁদের জন্য ই-ইঙ্ক ট্যাবলেট হতে পারে দারুণ এক মাধ্যম। আইপ্যাডের মতো মূলধারার ট্যাবলেটের তুলনায় এই প্রযুক্তি চোখের জন্য অনেক বেশি আরামদায়ক।
এর কারণ হলো, আইপ্যাডের পর্দা থেকে সরাসরি আলো চোখের ওপর এসে পড়ে, কিন্তু ই-ইঙ্ক ট্যাবলেট বাইরের আলোকে প্রতিফলিত করে লেখা বা ছবি প্রদর্শন করে। ফলে সরাসরি রোদের আলোতেও এই ডিভাইসে চমৎকার পড়া যায়, যেখানে সাধারণ আইপ্যাডের গ্লসি বা চকচকে স্ক্রিনে তীব্র আলোর প্রতিফলনে পড়া বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। অবশ্য উচ্চ উজ্জ্বলতার ওএলইডি ডিসপ্লে থাকায় আইপ্যাড প্রো মডেলে এ সমস্যা কিছুটা কম।
তাছাড়া, আইপ্যাডের কাচঘেরা মসৃণ পর্দার বদলে অনেক ই-ইঙ্ক ট্যাবলেটে থাকে ম্যাট ফিনিশিংয়ের পর্দা। আঙুল বা স্টাইলাস পেন দিয়ে লেখার সময় এটি পুরোপুরি আসল কাগজে লেখার মতো অনুভূতি দেয়।
ব্যাটারি ব্যাকআপের দিক থেকেও এটি বেশ এগিয়ে। ‘রিমার্কেবল পেপার প্রো’-এর মতো ই-ইঙ্ক ট্যাবলেটগুলোর ব্যাটারি আইপ্যাডের চেয়ে অনেক বেশি সময় টিকে থাকে। কারণ, এতে কোনো পৃষ্ঠা পরিবর্তন বা নতুন কনটেন্ট লোড হওয়ার সময় ছাড়া অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ হয় না। স্ক্রিন চালু রেখে বই পড়ার সময় আইপ্যাডকে অনবরত ব্যাটারির শক্তি ব্যবহার করতে হলেও ই-ইঙ্ক ডিভাইস নিজেকে সাশ্রয়ী মোডে রাখতে পারে। গঠন প্রণালী সরল হওয়ায় এসব ট্যাবলেট ওজনেও বেশ হালকা ও বহনে সুবিধাজনক।
আইপ্যাডের তুলনায় ই-ইঙ্ক ট্যাবলেটের কিছু সীমাবদ্ধতা
একসময় ই-ইঙ্ক ডিসপ্লে কেবল সাদা-কালো রঙের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। প্রযুক্তিগত উন্নতির ফলে এখন রঙিন ই-ইঙ্ক প্যানেল পাওয়া যায়। যদিও রঙের উজ্জ্বলতা ও জাঁকজমকের দিক থেকে এটি আইপ্যাডের থেকে পিছিয়ে আছে। রঙিন কমিকস, স্পষ্ট ছবি বা ওয়েবসাইট দেখার ক্ষেত্রে আইপ্যাডের ভিজ্যুয়াল গুণমান সব সময়ই বহুগুণে সেরা।
চলমান দৃশ্য বা অ্যানিমেশনের ক্ষেত্রেও ই-ইঙ্ক ডিসপ্লে বেশ পিছিয়ে রয়েছে। কণাগুলোর নড়াচড়ার মাধ্যমে ডিসপ্লের ছবি পরিবর্তিত হয় বলে এতে দ্রুত গতিশীল কিছু দেখা প্রায় অসম্ভব। এ কারণে ই-ইঙ্ক ট্যাবলেটে যেকোনো ধরনের ভিডিও চালানো বা অ্যাপ বদলানোর কাজ আইপ্যাডের মতো দ্রুত বা মসৃণ হয় না। এমনকি স্ক্রিন পরিবর্তনের সময় হালকা কাঁপুনির মতো অনুভূতিও হতে পারে।
এছাড়া জটিল কোনো অ্যাপ্লিকেশন চালানো বা ভারী গেম খেলার উপযোগী করে এসব ট্যাবলেটে শক্তিশালী প্রসেসর দেওয়া হয় না। ফলে ভারী কোনো ওয়েবসাইট লোড হতে অনেকটা সময় লেগে যায়, যা অনেক সময় বিরক্তির কারণ হতে পারে।
তবে মনে রাখা প্রয়োজন, বই পড়া, নোট নেওয়া কিংবা স্কেচ আঁকার মতো তুলনামূলক স্থির কাজের জন্য ই-ইঙ্ক ট্যাবলেট দারুণ কার্যকর। এক্ষেত্রে আইপ্যাডের তুলনায় এসব ট্যাবলেটকে সেরা বলা যেতে পারে। তবে আপনি যদি প্রধানত ভিডিও দেখা, গেম খেলা বা ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের পাশাপাশি কিছুটা সময় বই পড়তে চান, তবে আইপ্যাড বা অ্যানড্রয়েড ট্যাবলেটই হবে সবচেয়ে সঠিক পছন্দ। আর যদি ডিজিটাল পর্দার বিরক্তি এড়িয়ে কাগজের মতো অভিজ্ঞতায় শুধু পড়া ও লেখার কাজে মনোযোগ দিতে চান, তবে ই-ইঙ্ক ট্যাবলেট হতে পারে আপনার আদর্শ সঙ্গী।
কোথায় পাবেন?
২৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের প্রতিষ্ঠান ‘মাল্টিমিডিয়া কিংডম’ বাংলাদেশে ডিজিটাল রিডিং, রাইটিং, ক্রিয়েটিভিটি, প্রিমিয়াম ও হাই-ফাই অডিও এবং পেশাদার প্রযুক্তির এক নির্ভরযোগ্য বিশ্বস্ত ঠিকানা হিসেবে সেবা দিয়ে আসছে।
আমরা স্বগৌরবের সাথে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোকে বাংলাদেশের বাজারে সরবরাহ করে আসছি- যার মধ্যে রয়েছে BOOX, PocketBook, Bigme, Wacom, XP-Pen, Huion, Xencelab, Xteink, Audio-Technica, Fosi Audio, Sonos, Swan, WiiM, Obsbot, Czur, DJI, Insta360, Cammpro, Digidraw-সহ আরও নানা বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড।
তাই ই-রিডার, গ্রাফিক্স ট্যাবলেট, হাই-ফাই অডিও সিস্টেম, কনটেন্ট ক্রিয়েশন গিয়ার কিংবা পেশাদার প্রযুক্তির সেরা সমাধান খুঁজছেন? আপনার যেকোনো প্রয়োজনে আমরা আছি সবসময় আপনার পাশে!