প্রযুক্তির বিবর্তন মানুষকে প্রতিনিয়ত এমন কিছু উদ্ভাবনের মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে, যা কয়েক বছর আগেও কাল্পনিক মনে হতো। পকেটে বা গলায় ঝোলানো একটা ছোট্ট প্লাস্টিক কার্ড, অথচ তার ভেতর ফুটে উঠছে রঙিন ছবি কিংবা তথ্য- আর এর জন্য প্রয়োজন হচ্ছে না কোনো ব্যাটারির। এমনই এক বৈপ্লবিক প্রযুক্তির ডিভাইস ‘এক্সটিইইঙ্ক টং কার্ড’ বা যা সর্বজনীনভাবে ‘এক্সটিইইঙ্ক ন্যানো’ নামে পরিচিত লাভ করেছে। প্রথাগত ই-রিডারের চেনা গণ্ডি পেরিয়ে এটি মূলত একটি স্মার্ট ই-ইঙ্ক এনএফসি আইডি ব্যাজ ও ডিজিটাল ওয়ালপেপার ডিভাইস। ই-পেপার প্রযুক্তির এই নতুন রূপান্তর দৈনন্দিন আইডি কার্ড ব্যবহারে এক অভিনব মাত্রা যোগ করেছে।


ডিভাইসের পরিচিতি
এক্সটিইইঙ্ক মূলত তাদের সুপরিচিত ই-রিডার সারির বাইরের এক ভিন্নধর্মী অনুষঙ্গ হিসেবে এই ন্যানো ডিভাইসটি বাজারে নিয়ে এসেছে। এটিকে কোনো ই-বুক রিডার ভাবলে ভুল হবে। এটি মূলত একটি ২.৫ ইঞ্চির কালার ই-ইঙ্ক স্ক্রিনযুক্ত এনএফসি স্মার্ট কার্ড। কার্ডটি আইডেন্টিটি ব্যাজ, ভিজিটিং কার্ড কিংবা স্মার্টফোনের পেছনের ম্যাগসেফ ওয়ালপেপার হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। কোনো প্রকার বিল্ট-ইন ব্যাটারি না থাকা সত্ত্বেও এটি এনএফসি বা নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশনের মাধ্যমে শক্তি সংগ্রহ করে ডিসপ্লের তথ্য ও ছবি প্রদর্শন করতে সক্ষম।

ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি
হাতে নিলেই এক্সটিইইঙ্ক ন্যানোর (XTEINK Nano) চমৎকার বিল্ড কোয়ালিটি ও সূক্ষ্ম কারুকাজ চোখ কাড়ে। ৫৮.৬ x ৬.৮ x ৩.৯ মিলিমিটার আকৃতির এই ডিভাইসটির ওজন মাত্র ২৪ গ্রাম, যা গলায় ঝুলিয়ে রাখা বা পকেটে বহনের জন্য অত্যন্ত আরামদায়ক। এর বাইরের ভাগে রয়েছে শক্তপোক্ত কাচ বা গ্লাস প্রোটেকশন এবং মিড-ফ্রেমে ব্যবহার করা হয়েছে উচ্চমানের এবিএস প্লাস্টিক, যা ডিভাইসটিকে দীর্ঘস্থায়ী এবং প্রিমিয়াম লুক দেয়। ডিভাইসটির সাদা ফ্রেম একে একটি মার্জিত ভাব এনে দিয়েছে। এর অন্যতম বড় সুবিধা হলো ম্যাগনেটিক বা ম্যাগসেফ সুবিধা, যার ফলে এটি খুব সহজেই আইফোন বা যেকোনো ম্যাগনেটিক কাভারের সাথে আটকে রাখা যায়।

ডিসপ্লে ও ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা
এক্সটিইইঙ্ক ন্যানো (XTEINK Nano) ডিভাইসে ব্যবহার করা হয়েছে ২.৫ ইঞ্চির ফোর-কালার ই-ইঙ্ক ডিসপ্লে, যার পিক্সেল ঘনত্ব ২৩৭ পিপিআই। এই স্ক্রিনে লাল ও হলুদ রঙ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে এবং অন্যান্য রঙগুলো ধূসর বা গ্রে-স্কেলের সুষম সমন্বয়ে দৃশ্যমান হয়। ই-ইঙ্ক প্রযুক্তির কারণে প্রখর সূর্যালোকের নিচেও এর স্ক্রিন স্পষ্ট দেখা যায় এবং চোখে কোনো ধরনের স্ট্রেন ফেলে না। প্রয়োজনীয় তথ্য, প্রাতিষ্ঠানিক আইডি বা পছন্দসই যেকোনো ছবি দীর্ঘক্ষণ ধরে স্ক্রিনে ফুটিয়ে রাখার জন্য এই ডিসপ্লে প্রযুক্তি অতুলনীয়।

পারফরম্যান্স ও পেয়ারিং সুবিধা
ডিভাইসটিতে কোনো নির্দিষ্ট প্রসেসর বা র‍্যাম-স্টোরেজের প্রয়োজন পড়ে না, কারণ এটি প্রথাগত অপারেটিং সিস্টেমে পরিচালিত হয় না। এর অভ্যন্তরীণ আইডি-মোড এনএফসি চিপটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সংকেত আদান-প্রদান করতে পারে। ব্যবহারকারীরা খুব সহজেই আইওএস বা অ্যাপল ডিভাইসের এক্সটিইইঙ্ক অফিশিয়াল অ্যাপের মাধ্যমে তাদের পছন্দমতো ছবি বা টেক্সট কার্ডে আপলোড করতে পারেন। মূলত আইফোন ১৬ এবং ১৭ সিরিজের এনএফসি রিড-রাইট ট্রানজিশনের সাথে ডিভাইসটির সমন্বয় সবচেয়ে ভালো হয়, যা খুব দ্রুত ডেটা প্রসেস করে ডিসপ্লেতে ফুটিয়ে তোলে।

ব্যাটারি ও পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট
এই ডিভাইসের সবচেয়ে বড় চমক হলো এর সম্পূর্ণ ব্যাটারিমুক্ত গঠন। এতে কোনো লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি নেই এবং কোনো ধরনের ক্যাবল দিয়ে চার্জ দেওয়ারও প্রয়োজন পড়ে না। আইফোন বা এনএফসি চালিত উৎস থেকে প্রেরিত এনএফসি তরঙ্গের মাধ্যমে ডিভাইসটি ক্ষণিকের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি টেনে নেয় এবং মুহূর্তে স্ক্রিনের ছবি পরিবর্তন করে ফেলে। ছবি একবার স্ক্রিনে চলে আসলে যতক্ষণ না ব্যবহারকারী নতুন কোনো ছবি পাঠাচ্ছেন, তা কোনো শক্তি খরচ না করেই চিরস্থায়ীভাবে ডিসপ্লেতে থেকে যায়।

কানেক্টিভিটি ও ডেটা ট্রান্সফার
ডিভাইসটির (XTEINK Nano) একমাত্র ও মূল কানেক্টিভিটি মাধ্যম হলো আইডি-মোড এনএফসি। এতে ব্লুটুথ বা ওয়াইফাইয়ের মতো অতিরিক্ত চার্জক্ষয়কারী কোনো ফিচার রাখা হয়নি। অত্যন্ত দ্রুতগতিতে অ্যাপের মাধ্যমে ছবি ও কিউআর কোড পাঠানো যায়, যা এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে কার্ডের স্ক্রিনে দৃশ্যমান হয়। ডিজিটাল বিজনেস কার্ড হিসেবে ডেটা আদান-প্রদানে এই সিস্টেম এক অনন্য অভিজ্ঞতা প্রদান করে।

একনজরে এক্সটিইইঙ্ক ন্যানো (XTEINK Nano)
    ব্যাটারিমুক্ত এবং চার্জিং ঝামেলাহীন বৈপ্লবিক ই-ইঙ্ক প্রযুক্তি।
    ২৩৭ পিপিআই জ্যান্ত ও স্পষ্ট ২.৫ ইঞ্চির কালার ডিসপ্লে।
    হালকা ও মাত্র ২৪ গ্রাম ওজনের আকর্ষণীয় বডি স্ট্রাকচার।
    আইফোনের সাথে ব্যবহারের জন্য সুবিধাজনক ম্যাগসেফ সাপোর্ট।
    আইওএস অ্যাপের মাধ্যমে সহজে ও দ্রুত ছবি এবং ভিজিটিং কার্ড পরিবর্তনের সুবিধা।
    দীর্ঘস্থায়ী গ্লাস এবং এবিএস প্লাস্টিকের শক্তপোক্ত বিল্ড কোয়ালিটি।

যাদের জন্য এই ডিভাইস
যাঁরা প্রথাগত কাগজ বা প্লাস্টিকের আইডি কার্ডের বদলে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব এবং নিত্যনতুন পরিবর্তনযোগ্য ডিজিটাল পরিচিতিপত্র ব্যবহার করতে চান, তাঁদের জন্য এক্সটিইইঙ্ক ন্যানো একটি চমৎকার উদ্ভাবন। বিশেষ করে করপোরেট কর্মকর্তা, প্রযুক্তিপ্রেমী তরুণ, প্রদর্শনীতে নিয়মিত অংশগ্রহণকারী এবং যাঁরা আইফোনের সাথে একটি অনন্য ম্যাগসেফ ব্যাক-ওয়ালপেপার ব্যাজ ব্যবহার করতে পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এই ডিভাইসটি একদম উপযুক্ত। কোনো চার্জের চিন্তা ছাড়া নিশ্চিন্তে ব্যবহারের জন্য এটি বর্তমান বাজারের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রযুক্তি অনুষঙ্গ।

কোথায় পাবেন?
উচ্চমানের এই আধুনিক স্মার্ট প্রযুক্তি পণ্যটি বাংলাদেশের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে দেশের নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘মাল্টিমিডিয়া কিংডম’-এ। বাংলাদেশের বাজারে এক্সটিইইঙ্কের অথোরাইজড ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে অত্যন্ত আস্থার সাথে আমরাই (মাল্টিমিডিয়া কিংডম) নিয়ে এসেছি ব্র্যান্ডটির সবগুলো অফিশিয়াল পন্য। শুধু অরিজিনাল এক্সটিইইঙ্ক ন্যানো (XTEINK Nano)  ডিভাইসটি নয়, বরং ব্র্যান্ডটির যাবতীয় এক্সক্লুসিভ অ্যাক্সেসরিজ আমাদের কাছেই পাবেন। পাশাপাশি ক্রেতাদের জন্য আমাদের ডেডিকেটেড এবং চমৎকার আফটার সেলস সাপোর্ট বা বিক্রয়োত্তর সেবা আপনাদেরকে দেবে শতভাগ নিশ্চয়তা ও দীর্ঘমেয়াদী মানসিক শান্তি।

তাই ই-রিডার কিংবা ট্যাবলেট যেটিই হোক, কেনার আগে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট কিংবা স্টোরে। যেকোনো প্রয়োজনীয় পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে।