ই-রিডার কিনবেন? আপনার জন্য কিন্ডল, কোবো, বুক্স নাকি পকেটবুক সেরা?
কাগজের বইয়ের অনুভূতি ধরে রেখে ডিজিটাল সুবিধা উপভোগ করতে চাইলে ই-রিডার এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং অনেক পাঠকের কাছে প্রয়োজনীয় একটি ডিভাইস। বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত বই পড়েন, গবেষণা করেন বা ভ্রমণের সময় সঙ্গে শত শত বই রাখতে চান, তাঁদের জন্য ই-রিডার একটি কার্যকর সমাধান। তবে বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মডেল থাকায় কোনটি কেনা উচিত- এই প্রশ্নের সহজ উত্তর নেই। কারণ, সবার প্রয়োজন এক নয়।
কিন্ডল (Kindle)
বর্তমানে বাজারে যেসব ই-রিডার রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত নাম কিন্ডল। যারা মূলত অ্যামাজন থেকে বই কিনে বা সাবস্ক্রিপশন নিয়ে পড়তে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি সেরা। এই ডিভাইসের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো স্থিতিশীল সফটওয়্যার, দীর্ঘ ব্যাটারি এবং বিশাল বইয়ের ভান্ডার। যারা মূলত বই কিনে পড়তে চান এবং প্রযুক্তিগত ঝামেলা এড়িয়ে সহজ অভিজ্ঞতা চান, তাঁদের জন্য এটি দারুন পছন্দ। তবে কিন্ডলের একটি সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্ডল মূলত নিজস্ব ইকোসিস্টেমকে গুরুত্ব দেয়। ফলে বিভিন্ন উন্মুক্ত ফরম্যাটের বই ব্যবহার বা বিকল্প বইয়ের দোকান থেকে কেনা বই পড়তে কিছুটা বাড়তি টিপস অ্যান্ড ট্রিকসের প্রয়োজন হতে পারে।
কোবো (Kobo)
অন্যদিকে কোবো অনেক বেশি উন্মুক্ত অর্থাৎ এটি প্রায় সকল ধরনের ই-বুক ফরম্যাট সমর্থন (সাপোর্ট) করে। এছাড়া লাইব্রেরি বা স্বাধীন (ইন্ডিপেনডেন্ট) প্রকাশকের বই পড়ার ক্ষেত্রেও সুবিধা দেয়। যারা নিজস্ব সংগ্রহের বই পড়েন বা ফাইল ম্যানেজমেন্টে স্বাধীনতা চান, তাঁদের কাছে কোবো একটি আদর্শ বিকল্প হতে পারে।
বুক্স (Boox)
যদি শুধু বই নয়, একই ডিভাইসে নোট নেওয়া, পিডিএফে মন্তব্য করা কিংবা অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করার প্রয়োজন থাকে, তাহলে বুক্স এক্সেত্রে বেশ এগিয়ে থাকবে। এটি মূলত একটি বহুমুখী ই-ইঙ্ক ডিভাইস। তবে এই অতিরিক্ত সুবিধার কারণে অন্যান্য ব্র্যান্ডের তুলনায় দামও বেশি এবং নতুন ব্যবহারকারীর জন্য সেটআপ কিছুটা জটিল মনে হতে পারে।
পকেটবুক (PocketBook)
পকেটবুক তুলনামূলক কম আলোচিত হলেও ইউরোপের বাজারে এর ভালো অবস্থান রয়েছে। এটি অসংখ্য ফাইল ফরম্যাট সমর্থন করে এবং কোনো নির্দিষ্ট বইয়ের উৎসের ওপর নির্ভরশীল নয়। যারা স্বাধীনভাবে বিভিন্ন উৎস থেকে বই সংগ্রহ করেন, তাঁদের জন্য এটি বিবেচনায় রাখা যায়।
এককথায় আপনার জন্য কোনটি সেরা?
কিন্ডল: যদি ঝামেলাহীনভাবে অ্যামাজন থেকে বই কিনে বা কিন্ডল আনলিমিটেড ব্যবহার করে শুধু গল্প-উপন্যাস পড়তে চান।
কোবো: যদি আপনার কাছে নিজস্ব বইয়ের বিশাল কালেকশন (ই-পাব) থাকে এবং লাইব্রেরি এক্সেস বা ইন্টারনেট আর্টিকেল পড়তে ভালোবাসেন।
ওনিক্স বুক্স: যদি আপনার মূল কাজ হয় একাডেমিক পিডিএফ পড়া, নোট নেওয়া এবং অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ব্যবহার করা।
পুকেটবুক: যদি আপনি অডিওবুক শুনতে পছন্দ করেন, নানা ফরম্যাটের বই পড়ার স্বাধীনতা চান কিংবা রঙিন স্ক্রিনে কমিকস পড়তে চান।
কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরী
বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের জন্য একটি বাস্তব বিষয় হলো বইয়ের অ্যাভেইলেবিলিটি বা প্রাপ্যতা। বাংলা ই-বুকের বাজার এখনও সীমিত। তাই কেনার আগে নিশ্চিত হওয়া উচিত, আপনি যেসব বই পড়তে চান, সেগুলো কাঙ্ক্ষিত ফরম্যাটে পাওয়া যায় কি না। একই সঙ্গে পিডিএফ বেশি পড়লে বড় পর্দার মডেল বেছে নেওয়া ভালো, কারণ ছোট পর্দায় গবেষণাপত্র বা ম্যাগাজিন পড়া আরামদায়ক হয় না।
মনে রাখতে হবে, সেরা ই-রিডার বলে একক কোনো ডিভাইস নেই। যারা শুধু নির্ভারভাবে বই পড়তে চান, তাঁদের জন্য কিন্ডল যথেষ্ট। বেশি স্বাধীনতা চাইলে কোবো, নোট ও প্রোডাক্টিভিটি বা উৎপাদনশীলতার কাজ করলে বুক্স, আর সব ধরনের ফাইল সাপোর্টকে অগ্রাধিকার দিলে পকেটবুক হতে পারে উপযুক্ত পছন্দ। ডিভাইসের ব্র্যান্ড নয়, নিজের পাঠাভ্যাসই শেষ পর্যন্ত ঠিক করে দেবে কোন ই-রিডার আপনার জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিক্রয়োত্তর সেবা। দেশে অধিকাংশ ই-রিডার অনানুষ্ঠানিকভাবে আমদানি করা হয়। ফলে ওয়ারেন্টি, ব্যাটারি পরিবর্তন কিংবা যন্ত্রাংশের সহজলভ্যতা সম্পর্কে আগে থেকেই খোঁজ নেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে আপনার একমাত্র ভরসার স্থল হতে পারে মাল্টিমিডিয়া কিংডম। যেখানে অফিশিয়াল প্রোডাক্টের পাশাপাশি বিক্রয়োত্তর সেবায় সর্বোত্তম সুবিধা পাবেন।