একটি ভালো বই নিরবে পাঠকের মনে গভীর ছাপ রেখে যায়। ঠিক তেমনি একটি আধুনিক ই-রিডারের কাজও হলো প্রযুক্তিকে আড়ালে রেখে পাঠের অভিজ্ঞতাকে সামনে নিয়ে আসা। সেই লক্ষ্য নিয়েই তৈরি হয়েছে Boox Go 10.3 (Gen II)। কাগজের মতো স্বচ্ছ ই-ইঙ্ক ডিসপ্লে, অতি পাতলা নকশা, শক্তিশালী হার্ডওয়্যার এবং অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক উন্মুক্ত সফটওয়্যার পরিবেশ- সব মিলিয়ে এটি শুধু একটি ই-বুক রিডার নয়, বরং শিক্ষার্থী, গবেষক, লেখক, শিক্ষক এবং পেশাজীবীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল নোটবুক। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মূল্যায়নেও ডিভাইসটি এর প্রিমিয়াম ডিজাইন, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি এবং বহুমুখী ব্যবহারের জন্য ইতিবাচক প্রশংসা পেয়েছে।


ডিভাইসের পরিচিতি ও প্রথম নজরে ওনিক্স বুক্স গো

ওনিক্স বুক্স গো ১০.৩ (জেন-২) (Boox Go 10.3 Gen II) মূলত একটি প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির ডিজিটাল পেপার বা ই-রিডার, যা বিশেষভাবে বইপ্রেমী, গবেষক, লেখক এবং কর্পোরেট পেশাদারদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। ওপেন অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়ায় এটি সাধারণ ই-রিডারের সীমাবদ্ধতা ভেঙে ব্যবহারকারীকে দেয় অবাধ স্বাধীনতা। এটি একাধারে একটি শক্তিশালী ই-রিডার এবং একটি দারুণ ই-নোটপ্যাড। এর আগের সংস্করণগুলোর চেয়ে এই জেন-২ সংস্করণে বেশ কিছু চোখে পড়ার মতো পারফরম্যান্স এবং বিল্ড কোয়ালিটির উন্নয়ন ঘটানো হয়েছে, যা একে এই ক্যাটাগরির অন্যতম সেরা ডিভাইসে পরিণত করেছে।

আনবক্সিং অভিজ্ঞতা
ডিভাইসটির বক্স খোলার অভিজ্ঞতা বেশ প্রিমিয়াম এবং গোছানো। মিনিমালিস্ট ডিজাইনের একটি সুন্দর প্যাকেজিংয়ের ভেতরে শুরুতেই দেখা মেলে মূল ডিভাইসটির। ওনিক্স বুক্স গো ১০.৩ (জেন-২) এর সাথে বক্সে থাকছে একটি স্টাইলাস পেন বা পেনপ্লাস, যা চমৎকার গ্রিপ এবং লেখার অনুভূতি দেয়। এছাড়া ডিভাইসটি চার্জ এবং ডেটা স্থানান্তরের জন্য রয়েছে একটি হাই-স্পিড টাইপ-সি ক্যাবল। সাথে থাকা কুইক স্টার্ট গাইড ও ওয়ারেন্টি কার্ড নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য ডিভাইসটির প্রাথমিক সেটআপ আরও সহজ করে তোলে।



ডিজাইন ও প্রথাবিরোধী বিল্ড কোয়ালিটি
ডিজাইন এবং বিল্ড কোয়ালিটির দিক থেকে ওনিক্স বুক্স গো ১০.৩ (জেন-২) এক কথায় অনবদ্য। এর স্লিম এবং লাইটওয়েট প্রোফাইল প্রথমবার হাতে নিলেই এক ধরনের আভিজাত্যের অনুভূতি দেয়। এর ব্যাক প্যানেলে রয়েছে প্রিমিয়াম মেটালিক ফিনিশ, যা দীর্ঘ সময় ধরে হাতে নিয়ে পড়ার জন্য অত্যন্ত আরামদায়ক এবং এটি ডিভাইসের স্থায়িত্ব অনেক বাড়িয়ে দেয়। এর চারপাশের বেজেলগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে এক হাতে ধরে পড়ার সময় স্ক্রিনে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত টাচ না লাগে। এর পোর্ট এবং বাটনগুলোর প্লেসমেন্ট অত্যন্ত নিখুঁত, যা এর প্রিমিয়াম লুককে আরও ফুটিয়ে তোলে।

ডিসপ্লে ও মনমুগ্ধকর রিডিং অভিজ্ঞতা
এই ই-রিডারের (Boox Go 10.3 Gen II) সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর ১০.৩ ইঞ্চির এইচডি ই-ইঙ্ক কার্টা ডিসপ্লে (HD E-Ink Carta Display)। এর রেজ্যুলিউশন এবং শার্পনেস এতটাই নিখুঁত যে স্ক্রিনের প্রতিটি অক্ষর একেবারে আসল কাগজের কালির মতো মনে হয়। কড়া রোদের মধ্যে বাইরে বসে পড়লেও এর স্ক্রিনে কোনো গ্লেয়ার বা প্রতিফলন তৈরি হয় না। ওনিক্স বুক্স গো ১০.৩ (জেন-২)-এ ব্যবহার করা হয়েছে উন্নত ফ্রন্ট-লাইট টেকনোলজি, যা রাতে বা কম আলোতেও চোখের ওপর কোনো চাপ না ফেলে দীর্ঘ সময় পড়ার সুবিধা দেয়। এর রিফ্রেশ রেট সাধারণ ই-রিডারের চেয়ে অনেক দ্রুত, যার ফলে স্ক্রিন ফ্লিকারিং বা ঘোস্টিং এর সমস্যা একদমই টের পাওয়া যায় না। কমিকস, পিডিএফ, ফিকশন বা অ্যাকাডেমিক পেপার, যেকোনো ফরম্যাটের বই পড়ার অভিজ্ঞতাই এখানে অসাধারণ।

ডিজিটাল নোট ও লেখার দুর্দান্ত অনুভূতি
পড়ার পাশাপাশি যারা নোট নিতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি একটি স্বর্গীয় ডিভাইস। সাথে থাকা স্টাইলাস পেনটি দিয়ে স্ক্রিনে লেখার অনুভূতি অবিকল কাগজে কলমে লেখার মতো। এর প্রেসার সেনসিটিভিটি এবং অতি অল্প ল্যাটেন্সি বা রেসপন্স টাইমের কারণে লেখার সময় কোনো ল্যাগ বা বিলম্ব অনুভূত হয় না। ওনিক্স বুক্স গো ১০.৩ (জেন-২)-এর নোট নেওয়ার বিল্ট-ইন সফটওয়্যারটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এতে বিভিন্ন ধরনের টেমপ্লেট, লেয়ার এবং ব্রাশ টুল রয়েছে, যা স্কেচিং বা ডায়েরি লেখার কাজকে আনন্দদায়ক করে তোলে। তাছাড়া হাতের লেখাকে ডিজিটাল টেক্সটে রূপান্তর করার ফিচারটি পেশাদারদের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী।



হার্ডওয়্যার, প্রসেসর ও পারফরম্যান্সের গভীরতা
টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশনের দিক থেকে Boox Go 10.3 Gen II বাজারে থাকা অন্যান্য ই-রিডার থেকে অনেক এগিয়ে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে একটি শক্তিশালী অক্টা-কোর প্রসেসর, যা এর সামগ্রিক কার্যক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর সাথে রয়েছে ৪ জিবি র‍্যাম, যা ভারী বা বড় আকারের পিডিএফ ফাইল এবং মাল্টিটাস্কিংয়ের সময় ডিভাইসটিকে রাখে একদম মসৃণ। এর ৬৪ জিবির অভ্যন্তরীণ স্টোরেজ বা রম ব্যবহারকারীকে হাজার হাজার ই-বুক, অডিও বুক এবং ডকুমেন্টস কোনো চিন্তা ছাড়াই সংরক্ষণ করার সুবিধা দেয়। 

অপারেটিং সিস্টেম
এর ইউজার ইন্টারফেস অত্যন্ত চমৎকার এবং এটি অ্যান্ড্রয়েড ১৫ অপারেটিং সিস্টেমে চালিত হওয়ায় গুগল প্লে স্টোর থেকে যেকোনো প্রয়োজনীয় রিডিং বা প্রোডাক্টিভিটি অ্যাপ সহজেই ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যায়। সহজেই প্লে স্টোর থেকে Kindle, Kobo, Libby, Moon+ Reader সহ বহু অ্যাপ ইন্সটল করা যায়। ডিভাইসের নেটিভ NeoReader প্রায় সবধরনের ফাইল ফরম্যাট যেমন ইপাব, পিডিএফ, মোবি, ডক, এইচটিএমএল ইত্যাদি সাপোর্ট করে। পিডিএফ রিফ্লো, স্ক্যান করা বইয়ের কনট্রাস্ট বুস্ট, ডার্ক মোড এবং ফন্ট কাস্টমাইজেশন একে পরম উপযোগী করে তুলেছে। স্টাইলাস ব্যবহার করে নোট নেওয়ার সময় ৪,০৯৬ স্তরের চাপ সংবেদনশীলতা এবং পাম রিজেকশন প্রযুক্তি কাগজে লেখার মতো অনুভূতি তৈরি করে।

ব্যাটারি ব্যাকআপ 
ই-রিডার কেনার ক্ষেত্রে ব্যাটারি লাইফ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ওনিক্স বুক্স গো ১০.৩ (জেন-২) ডিভাইসে দেওয়া হয়েছে ৩,৭০০ mAh এর একটি উচ্চ ক্ষমতার শক্তিশালী ব্যাটারি ক্যাপাসিটি। ই-ইঙ্ক ডিসপ্লের অত্যন্ত কম বিদ্যুৎ খরচের সুবিধার কারণে একবার পূর্ণ চার্জ দিলে এই ডিভাইসটি অনায়াসেই কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যাকআপ দিতে ইউএসবি-সি ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তি সমর্থন থাকায় মাত্র দেড় ঘণ্টায় ব্যাটারি ফুল হয়ে যায়।

কানেক্টিভিটি
কানেক্টিভিটির জন্য Boox Go 10.3 Gen II -তে রয়েছে ডুয়াল-ব্যান্ড ওয়াই-ফাই (Dual-band Wi-Fi) এবং আধুনিক ব্লুটুথ (Bluetooth) প্রযুক্তি। ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে খুব দ্রুত বই ডাউনলোড বা ক্লাউড সিঙ্ক করা যায় এবং ব্লুটুথের সাহায্যে সহজেই ওয়্যারলেস হেডফোন বা স্পিকার যুক্ত করে অডিও বুক বা গান শোনা সম্ভব।

একনজরে Boox Go 10.3 (Gen II)
•    ডিসপ্লে: ১০.৩ ইঞ্চি E Ink Carta 1200 গ্লাস, ৩০০ PPI, ১৮৭২x১৪০৪ রেজল্যুশন
•    টাচ ও স্টাইলাস: ক্যাপাসিটিভ টাচ + Wacom ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক টাচ, ৪,০৯৬ লেভেল প্রেশার সেন্সিটিভ
•    প্রসেসর: কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন অক্টা-কোর
•    র‍্যাম: ৪ জিবি LPDDR4X
•    স্টোরেজ: ৬৪ জিবি UFS
•    অপারেটিং সিস্টেম: অ্যান্ড্রয়েড ১৫ (Boox OS)
•    কানেক্টিভিটি: ডুয়াল-ব্যান্ড ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ৫.০
•    অডিও: ডুয়াল স্পিকার, মাইক্রোফোন
•    ব্যাটারি: ৩,৭০০ mAh, ইউএসবি-সি চার্জিং
•    সেন্সর: গ্র্যাভিটি সেন্সর, হল সেন্সর
•    ওজন: প্রায় ৩৭৫ গ্রাম
•    পুরুত্ব: ৪.৬ মিমি
•    বিশেষ ফিচার: গুগল প্লে স্টোর সাপোর্ট, NeoReader, পাম রিজেকশন, অডিওবুক সাপোর্ট

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: ডিভাইসটি কার জন্য উপযুক্ত?
পরিশেষে বলা যায়, ওনিক্স বুক্স গো ১০.৩ (জেন-২) বর্তমান বাজারের অন্যতম সেরা এবং প্রিমিয়াম একটি ই-রিডার কাম ই-নোটপ্যাড। যারা প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পড়াশোনা করেন, গবেষণার কাজে যুক্ত আছেন কিংবা যাদের দীর্ঘ সময় ধরে অফিসের বিভিন্ন ডকুমেন্ট ও পিডিএফ ফাইল পড়তে এবং এডিট করতে হয়, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ ডিভাইস। সাধারণ রিডারের তুলনায় এর বড় স্ক্রিন কমিকস বা গ্রাফিক্যাল পেপার পড়ার জন্য দারুণ কার্যকর। যারা স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটের ক্ষতিকর নীল আলো থেকে চোখকে সুরক্ষিত রেখে ডিজিটাল দুনিয়ার সব সুবিধা পেতে চান এবং একই সাথে প্রিমিয়াম বিল্ড কোয়ালিটি ও মসৃণ পারফরম্যান্স খোঁজেন, তাদের জন্য ওনিক্স বুক্স গো ১০.৩ (জেন-২) নিঃসন্দেহে একটি চমৎকার বিনিয়োগ হবে।

বাংলাদেশে বিশ্বস্ত পার্টনার: মাল্টিমিডিয়া কিংডম
বাংলাদেশে ওনিক্স বুক্সের মতো প্রিমিয়াম ই-রিডার কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো জেনুইন প্রোডাক্ট এবং আফটার সেলস সাপোর্ট। ওনিক্স বুক্স গো ১০.৩ (জেন-২) ডিভাইসটির বাংলাদেশের একমাত্র অফিসিয়াল ও অথোরাইজড ডিস্ট্রিবিউটর হলো দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি পণ্যের প্রতিষ্ঠান ‘মাল্টিমিডিয়া কিংডম’। মাল্টিমিডিয়া কিংডম থেকে এই ডিভাইসটি কিনলে গ্রাহকরা শতভাগ অরিজিনাল প্রোডাক্টের নিশ্চয়তা পান। শুধু তাই নয়, ডিভাইসটির যেকোনো ধরনের অফিসিয়াল আফটার সেলস সাপোর্ট এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় প্রিমিয়াম অ্যাক্সেসরিজ যেমন স্টাইলাস টিপস, কাভার বা ফ্লিপ কেস পাওয়ার জন্য মাল্টিমিডিয়া কিংডমই দেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান।