পকেটবুক ইঙ্কপ্যাড কালার ৩: বই পড়ার রঙিন অভিজ্ঞতা
কাগজের গন্ধ মাখা বইয়ের পাতার মায়া আর ডিজিটাল প্রযুক্তির স্বাচ্ছন্দ্য- এই দুয়ের এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটেছে বর্তমান যুগের উন্নত ই-রিডারগুলোতে। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে পড়ার কারণে চোখের যে ক্লান্তি আসে, সেখান থেকে মুক্তি দিতে ই-ইঙ্ক (E-Ink) ডিসপ্লে প্রযুক্তি এনেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। আর এই প্রযুক্তিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে রঙ ও আলোর অসাধারণ সমন্বয়ে পকেটবুক নিয়ে এসেছে তাদের সর্বাধুনিক মডেল পকেটবুক ইঙ্কপ্যাড কালার ৩ (PocketBook InkPad Color 3)।বিশেষ করে যারা সাধারণ টেক্সটের বাইরে রঙিন কমিকস, গ্রাফিক নভেল, সচিত্র শিশুসাহিত্য বা মানচিত্রসংবলিত প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণাপত্র পড়তে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি একটি অনন্য ডিজিটাল গ্রন্থাকাগার। বাংলাদেশে ই-রিডারপ্রেমীদের কাছে বিশ্বস্ত নাম মাল্টিমিডিয়া কিংডম এই ডিভাইসটি দেশের বাজারে সরবরাহ করছে, যা দেশের ই-বুক সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আনবক্সিং অভিজ্ঞতা
পকেটবুক ইঙ্কপ্যাড কালার ৩ ডিভাইসটির প্যাকেজিং অত্যন্ত মার্জিত এবং পরিবেশবান্ধব। বাক্সটি খুললেই প্রথমেই চোখে পড়ে চমৎকার ফিনিশিংয়ের ৭.৮ ইঞ্চির মূল ই-রিডার ডিভাইসটি। এর নিচে বেশ পরিপাটিভাবে রাখা রয়েছে চার্জিং ও ডেটা স্থানান্তরের জন্য একটি হাই-স্পিড টাইপ-সি ক্যাবল, একটি কুইক স্টার্ট গাইড এবং ওয়ারেন্টি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিক বা বাড়তি সরঞ্জাম ছাড়াই অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে প্রতিটি উপাদান সাজানো রয়েছে, যা প্রথম দর্শনেই ব্যবহারকারীর মন জয় করে নেয়।
.jpg)
ডিজাইন ও গঠনশৈলী
নান্দনিকতা ও ব্যবহারের সুবিধাকে প্রাধান্য দিয়ে পকেটবুক ইঙ্কপ্যাড কালার ৩-এর বডি ডিজাইন করা হয়েছে। ডিভাইসটির পেছনের অংশে ব্যবহৃত হয়েছে সুদৃশ্য 'স্টার্মি সি' রঙ, যা একই সাথে পেশাদার এবং আধুনিক একটি অনুভূতি দেয়। এর মাত্র ৭.৯৫ মিলিমিটার পাতলা গঠন এবং ২৭০ গ্রাম ওজন হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ এক হাতে ধরে রাখলেও হাতের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে না।
ডিভাইসটির নিচের অংশে রয়েছে ফিজিক্যাল পেজ-টার্নিং বাটন, যা টাচস্ক্রিন ব্যবহারের পাশাপাশি ফিজিক্যাল বাটনে পাতা উল্টাতে পছন্দ করা পাঠকদের জন্য অত্যন্ত আরামদায়ক। সর্বাধুনিক IPX8 ওয়াটারপ্রুফ রেটিং থাকায় সুইমিং পুল, বাথটাব কিংবা বৃষ্টিভেজা আবহাওয়ায় কোনো উদ্বেগ ছাড়াই নিশ্চিন্তে বই পড়ার আনন্দ উপভোগ করা যায়।
ডিসপ্লে ও রিডিং অভিজ্ঞতা
পকেটবুক ইঙ্কপ্যাড কালার ৩-এর প্রধান আকর্ষণ হলো এর ৭.৮ ইঞ্চির ই-ইঙ্ক কালার ক্যালিডো ৩ ডিসপ্লে প্রযুক্তি। এটি পূর্ববর্তী কালার স্ক্রিনগুলোর তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি কালার রেজ্যুলিউশন প্রদান করে। সাদা-কালো টেক্সট পড়ার ক্ষেত্রে এটি ৩০০ ডিপিআই (১৪০৪ × ১৮৭২ পিক্সেল) এর ক্রিস্প ও স্পষ্ট শার্পনেস দেয়, অন্যদিকে রঙিন কনটেন্টের ক্ষেত্রে ১৫০ ডিপিআই (৭০২ × ৯৩৬ পিক্সেল) রেজ্যুলিউশনে প্রায় ৪,০৯৬টি রঙের প্রাণবন্ত ফুটেজ প্রদর্শন করে।
.jpg)
রোদের তীব্র আলোতেও এর গ্লেয়ার-ফ্রি স্ক্রিনে স্পষ্ট পড়া যায়। এছাড়া এতে রয়েছে স্মার্টলাইট ও কমফোর্টগেজ প্রযুক্তি, যা চোখের জন্য ক্ষতিকর নীল আলো কমিয়ে দিন বা রাতের আলো অনুযায়ী স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা ও ওয়ার্ম টোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামঞ্জস্য করে নেয়। ফলে একটানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই পড়লেও চোখে কোনো ক্লান্তি আসে না।
পারফরম্যান্স ও সফটওয়্যার
প্রসেসিং পাওয়ারের দিক থেকে এই ডিভাইসে দেওয়া হয়েছে ১.৮ গিগাহার্টজের শক্তিশালী কোয়াড-কোর প্রসেসর, যা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ই-বুক লোড করতে এবং ভারী ফাইল প্রসেস করতে সক্ষম। অপ্টিমাইজড লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমে পরিচালিত হওয়ার কারণে ডিভাইসটি ব্যবহারে কোনো প্রকার হ্যাং বা ল্যাগিং অভিজ্ঞতা হয় না। কমিকস বা গ্রাফিক ফাইল দ্রুত জুম করা কিংবা দ্রুত পাতা উল্টানোর ক্ষেত্রে এর গতি প্রশংসনীয়।
এছাড়া ডিভাইসটিতে ২৬টি ভাষায় টেক্সট-টু-স্পিচ সুবিধা রয়েছে, যার ফলে যেকোনো টেক্সট ফাইলকে এটি সাবলীলভাবে পড়ে শোনাতে পারে। বিল্ট-ইন ডিকশনারি, ব্রাউজার, নোটস, ক্যালকুলেটর এবং দাবা ও সুডোকুর মতো গেম এর সার্বিক পারফরম্যান্সে বাড়তি বৈচিত্র্য যোগ করেছে।

র্যাম, রম ও রঙ ভেরিয়েন্ট
পকেটবুক ইঙ্কপ্যাড কালার ৩ ডিভাইসটিতে ১ জিবি র্যাম এবং ৩২ জিবি সুবিশাল ইন্টারনাল স্টোরেজ দেওয়া হয়েছে। ৩২ জিবি স্টোরেজে হাজার হাজার ই-বুক, অডিওবুক এবং রঙিন কমিকস অনায়াসে সংরক্ষণ করা সম্ভব। কালার ভেরিয়েন্টের দিক থেকে ডিভাইসটি পকেটবুকের প্রিমিয়াম এবং ট্রেন্ডি 'স্টার্মি সি' শেডে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে, যা প্রিমিয়াম গেজেটপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম।
ব্যাটারি লাইফ
ই-ইঙ্ক ডিভাইসের অন্যতম বড় সুবিধা হলো এর সাশ্রয়ী শক্তি ব্যবহার। পকেটবুক ইঙ্কপ্যাড কালার ৩-এ দেওয়া হয়েছে ২৯০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার লিথিয়াম-আয়ন পলিমার ব্যাটারি। মাত্র একবার পূর্ণ চার্জে এটি ব্যবহারকারীর রীডিং অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে টানা এক মাস পর্যন্ত ব্যাটারি ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। বারবার চার্জ দেওয়ার ঝামেলামুক্ত হওয়ায় এটি ভ্রমণকারী ও ব্যস্ত পাঠকদের জন্য এক আদর্শ সঙ্গী।
কানেক্টিভিটি ও অডিও
ডিভাইসটিতে কানেক্টিভিটির জন্য রয়েছে ডুয়াল-ব্যান্ড ওয়াই-ফাই এবং ব্লুটুথ ৫.০। পকেটবুক ক্লাউড এবং ড্রপবক্স ইন্টিগ্রেশন থাকার ফলে সহজেই ওয়্যারলেস প্রযুক্তিতে ই-বুক ট্রান্সফার করা যায়।
অডিওপ্রেমীদের জন্য এতে রয়েছে বিল্ট-ইন মনো স্পিকার, যা দিয়ে সরাসরি অডিওবুক ও গান শোনা সম্ভব। এছাড়া ব্লুটুথ হেডফোন, এক্সটার্নাল স্পিকার বা টাইপ-সি ৩.৫ মিমি অডিও অ্যাডাপ্টারের মাধ্যমে নিখুঁত সাউন্ড কোয়ালিটিতে অডিওবুক উপভোগ করা যায়।
এর সাথে থাকা ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট ওটিজি সমর্থন করে। সেন্সর হিসেবে দেওয়া হয়েছে জি-সেন্সর ও কাভার সেন্সর। এটি কনভার্সন ছাড়াই প্রায় ২৫টি ই-বুক ফরম্যাট (যেমন EPUB, PDF, CBR, CBZ, MOBI ইত্যাদি) এবং বিভিন্ন ইমেজ ও অডিও ফরম্যাট সাপোর্ট করে।
.jpg)
একনজরে ডিভাইসটি
ডিসপ্লে: ৭.৮ ইঞ্চি ই-ইঙ্ক ক্যালিডো ৩ (রঙিন ই-ইঙ্ক স্ক্রিন)
রেজ্যুলেশন: সাদা-কালো ৩০০ ডিপিআই, রঙিন ১৫০ ডিপিআই
আলো প্রযুক্তি: স্মার্টলাইট ও ই-ইঙ্ক কমফোর্টগ্যাজ
প্রসেসর ও মেমোরি: ১.৮ গিগাহার্টজ কোয়াড-কোর প্রসেসর, ১ জিবি র্যাম, ৩২ জিবি স্টোরেজ
ব্যাটারি ও চার্জিং: ২৯০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি (এক মাস পর্যন্ত ব্যাকআপ), ইউএসবি টাইপ-সি
অডিও ও সাউন্ড: বিল্ট-ইন স্পিকার, ব্লুটুথ ৫.০, টেক্সট-টু-স্পিচ প্রযুক্তি
স্থায়িত্ব ও প্রটেকশন: IPX8 ওয়াটারপ্রুফ রেটিং
ওজন ও কালার: ২৭০ গ্রাম, স্টার্মি সি
অফিশিয়াল ডিস্ট্রিবিউটর: মাল্টিমিডিয়া কিংডম (বাংলাদেশে প্রাপ্তিস্থান)
কেনো কিনবেন?
আপনি যদি শুধু সাধারণ সাদা-কালো উপন্যাস বা টেক্সটভিত্তিক সাহিত্য পড়ার বাইরে রঙিন কমিকস, মাঙ্গা, চিত্রাঙ্কিত শিশুতোষ বই, ম্যাগাজিন কিংবা চার্টসহ বৈজ্ঞানিক আর্টিকেলের প্রকৃত স্বাদ পেতে চান, তবে পকেটবুক ইঙ্কপ্যাড কালার ৩ আপনার জন্য একদম উপযুক্ত ই-রিডার। এর ৭.৮ ইঞ্চির আদর্শ ডিসপ্লে, ওয়াটারপ্রুফ ফিচার, বিল্ট-ইন স্পিকার এবং দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ একে প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির অন্যতম সেরা কালার ই-রিডারে পরিণত করেছে।
কোথায় পাবেন?
প্রিমিয়াম ফিনিশিং, অফিশিয়াল ওয়ারেন্টি ও সেরা
আফটার সেলস সাপোর্টসহ সম্পূর্ণ নিশ্চিন্তে অরিজিনাল পকেটবুক ইঙ্কপ্যাড
কালার ৩ ডিভাইসটি সংগ্রহ করার জন্য মাল্টিমিডিয়া কিংডম-এ যোগাযোগ করাই হবে
সবচেয়ে বুদ্ধিমত্তার সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশের ই-বুকপ্রেমী ও প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য আমরাই (মাল্টিমিডিয়া কিংডম) পকেটবুকসহ শীর্ষস্থানীয় সকল ব্র্যান্ডের ই-রিডার বিশ্বস্ততার সাথে বাজারজাত করে আসছি। আমাদের পকেটবুক সংগ্রহে Era, Era Color, Verse, Verse Pro এবং অন্যান্য মডেলও রয়েছে। কেবল বিক্রিই নয়, বিক্রয়োত্তর সেবা বা আফটার সেলস সাপোর্ট এবং ডিভাইসটির জন্য প্রয়োজনীয় অরিজিনাল অ্যাক্সেসরিজের (যেমন কাভার, স্টাইলাস নিব) জন্য মাল্টিমিডিয়া কিংডম দেশের গ্রাহকদের কাছে সবচেয়ে আস্থাশীল নাম।
তাই, যেকোনো ই-রিডার কেনার আগে জেনে-বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে আজই ভিজিট করুন মাল্টিমিডিয়া কিংডমের ওয়েবসাইট কিংবা স্টোরে। অথবা সরাসরি কথা বলুন (+8801755532345) আমাদের সিইও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জুয়েল-এর সাথে।
কেনো মাল্টিমিডিয়া কিংডম?
২৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের প্রতিষ্ঠান ‘মাল্টিমিডিয়া কিংডম’ বাংলাদেশে ডিজিটাল রিডিং, রাইটিং, ক্রিয়েটিভিটি, প্রিমিয়াম ও হাই-ফাই অডিও এবং পেশাদার প্রযুক্তির এক নির্ভরযোগ্য বিশ্বস্ত ঠিকানা হিসেবে সেবা দিয়ে আসছে।
আমরা স্বগৌরবের সাথে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোকে বাংলাদেশের বাজারে সরবরাহ করে আসছি- যার মধ্যে রয়েছে BOOX, PocketBook, Bigme, Wacom, XP-Pen, Huion, Xencelab, Xteink, Audio-Technica, Fosi Audio, Sonos, Swan, WiiM, Obsbot, Czur, DJI, Insta360, Cammpro, Digidraw-সহ আরও নানা বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড।
তাই ই-রিডার, গ্রাফিক্স ট্যাবলেট, হাই-ফাই অডিও সিস্টেম, কনটেন্ট ক্রিয়েশন গিয়ার কিংবা পেশাদার প্রযুক্তির সেরা সমাধান খুঁজছেন? আপনার যেকোনো প্রয়োজনে আমরা আছি সবসময় আপনার পাশে!