একটি সুন্দর সুদৃশ্য ভবনের স্থায়িত্ব ও সৌন্দর্য যেমন নির্ভর করে তার ভেতরের রড-সিমেন্টের কাঠামোর ওপর, তেমনি একটি চমৎকার ফিগার ড্রয়িংয়ের মূল ভিত্তি হলো শরীরের ভেতরের অ্যানাটমি। মাল্টিমিডিয়া কিংডমের পাঠক ও শিল্পানুরাগীদের জন্য ধারাবাহিক এই টিউটোরিয়ালের আগের পর্বে আমরা শিখেছি পার্সপেক্টিভ এবং ফোরশর্টনিংয়ের জাদুকরি ব্যবহার। আজ আমাদের আয়োজনের চতুর্থ পর্ব, যেখানে আমরা আলোচনা করব মানবদেহের কঙ্কাল ও পেশির গঠন, অর্থাৎ অ্যানাটমির প্রাথমিক ব্যাকরণ নিয়ে। 


চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতো বিস্তারিত না হলেও একজন শিল্পীর জন্য সারফেস অ্যানাটমি বা চামড়ার ঠিক নিচে থাকা হাড় ও পেশির অবস্থান বোঝা অত্যন্ত জরুরি।

কঙ্কাল বা অস্থির পরিকাঠামো
কঙ্কাল হলো মানবদেহের প্রধান ভিত্তি বা কাঠামো। এটি কেবল শরীরকে সোজা করে দাঁড় করায় না, বরং দেহের সমস্ত গতিবিধি ও অনুপাত নিয়ন্ত্রণ করে। চিত্রশিল্পীর জন্য কঙ্কালের প্রতিটি সূক্ষ্ম হাড় আঁকার প্রয়োজন নেই, তবে প্রধান প্রধান হাড়ের বিন্যাস বোঝা আবশ্যক। যেমন মাথার খুলি, মেরুদণ্ড, বুকের খাঁচা এবং শ্রোণিচক্র বা পেলভিস। 

মেরুদণ্ড হলো পুরো শরীরের গতিশীলতার মূল অক্ষ। এটি ইংরেজি 'এস' অক্ষরের মতো ঈষৎ বক্রাকৃতির হয়, যা ফিগারের ভঙ্গিমায় একধরনের প্রাকৃতিক দোলাচল তৈরি করে। 

বুকের খাঁচা ও পেলভিস হলো দুটি শক্ত বাক্সসদৃশ কাঠামো, যা মেরুদণ্ডের মাধ্যমে যুক্ত থাকে। এই দুটি অংশ কোনো ভঙ্গিমায় কীভাবে বেঁকছে বা ঘুরছে, তা সঠিকভাবে ধরতে পারলে ছবির ভেতরের ভারসাম্য ফুটে ওঠে।

প্রধান পেশিসমূহ ও তাদের নড়াচড়া
কঙ্কালের ওপর শক্তভাবে আটকে থাকে পেশি, যা দেহকে পূর্ণতা ও রূপ দান করে। অ্যানাটমি আঁকার সময় মনে রাখতে হবে, পেশি কখনো স্থির থাকে না। নড়াচড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশি সংকুচিত ও প্রসারিত হয়। 

শরীরের প্রধান পেশিগুলোর মধ্যে বুকের পেক্টোরালিস, কাঁধের গোলাকার ডেলটয়েড, বাহুর বাইসেপ্স ও ট্রাইসেপ্স এবং পিঠের ওপরের অংশ অন্যতম। পা আঁকার ক্ষেত্রে ঊরুর কোয়াড্রিসেপ্স এবং পায়ের পেছনের কাফ মাসল সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। যখন মানুষ হাত বা পা বাঁকা করে, তখন একপাশের পেশি ফুলে ওঠে এবং অন্যপাশের পেশি টানটান বা চ্যাপ্টা হয়ে যায়। স্কেচ করার সময় পেশির এই টান ও শিথিলতার খেলা ফুটিয়ে তুলতে পারলেই ফিগারটি জীবন্ত দেখায়।

দৃশ্যমান অস্থিসন্ধি ও ল্যান্ডমার্ক
ত্বকের ঠিক নিচে কিছু হাড় সব সময় স্পষ্ট দেখা যায়, যেগুলোকে শিল্পীর ভাষায় 'বোনি ল্যান্ডমার্ক' বা দৃশ্যমান হাড় বলা হয়। এগুলো ছবি আঁকার সময় সঠিক অনুপাত মেলাতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে। কলারবোন বা গলার কাছের হাড়, কনুই, কবজি, হাঁটুর চাকি এবং গোড়ালির দুই পাশের উঁচু হাড়গুলো এর চমৎকার উদাহরণ। 

যেকোনো জটিল ভঙ্গিমায় ফিগার আঁকার সময় এই দৃশ্যমান বিন্দুগুলোকে সংযোগকারী রেখা হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এমনকি স্থূল মানুষের শরীরে পেশি ঢেকে গেলেও এই দৃশ্যমান হাড়গুলো তাদের অবস্থান জানান দেয়, যা শিল্পীকে সঠিক পরিমাপ পেতে দিকনির্দেশনা দেয়।

শৈল্পিক অ্যানাটমি অনুশীলনের উপায়
অ্যানাটমি শেখার প্রথম ধাপে মেডিকেল বইয়ের মতো কঠিন পরিভাষা মুখস্থ করার দরকার নেই। সহজ জ্যামিতিক আকার দিয়েই শুরু করা ভালো। প্রথমে কঙ্কালকে দেশলাইয়ের কাঠি ও গোলকের সমন্বয়ে বা স্টিক ফিগার হিসেবে কল্পনা করে আঁকার অভ্যাস করুন। এরপর সেই কাঠামোর ওপর বেলন বা নলাকার আকৃতি বসিয়ে পেশির আয়তন তৈরি করুন। 

প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় মানবদেহের পেশির নড়াচড়া ও গতিবিধি খেয়াল করে দ্রুত খসড়া বা জেসচার স্কেচ করা উচিত। আলো-ছায়ার সঠিক প্রয়োগে কোথায় ছায়া গভীর হচ্ছে আর কোথায় আলো পড়ছে, তা পেশির উত্থান-পতন দেখেই ফুটিয়ে তুলতে হয়।

অ্যানাটমির সঠিক জ্ঞান একজন শিল্পীকে নিজের কল্পনার জগত থেকে স্বাধীনভাবে যেকোনো ভঙ্গিমার মানবদেহ আঁকার আত্মবিশ্বাস জোগায়। মাল্টিমিডিয়া কিংডমের ব্লগে আমাদের পরবর্তী পর্বে আমরা আলোচনা করব মানবদেহের সবচেয়ে জটিল দুটি অঙ্গ, অর্থাৎ হাত ও পা আঁকার সহজ কৌশল নিয়ে। তত দিন পর্যন্ত কঙ্কাল ও পেশির সাধারণ গঠন পর্যবেক্ষণ করে আপনার পেন্সিলের অনুশীলন চালিয়ে যান।

পেন্সিল স্কেচ ও ফিগার ড্রয়িংয়ের পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস
মাল্টিমিডিয়া কিংডমের পাঠকদের সুবিধার্থে আমাদের এই ধারাবাহিকের সম্পূর্ণ সিলেবাস নিচে দেওয়া হলো:
১. পর্ব এক: বেসিক গ্রামার ও লাইন ড্রয়িং
২. পর্ব দুই: মানবদেহের নিখুঁত অনুপাত ও পরিমাপ
৩. পর্ব তিন: পার্সপেক্টিভ বা পরিপ্রেক্ষিত এবং ফোরশর্টনিং
৪. পর্ব চার: অ্যানাটমি: পেশি ও অস্থির প্রাথমিক ধারণা
৫. পর্ব পাঁচ: অঙ্গপ্রত্যঙ্গ: হাত ও পা আঁকার সহজ কৌশল
৬. পর্ব ছয়: পোর্ট্রেট বা মুখাবয়ব আঁকার নিয়মাবলি
৭. পর্ব সাত: আলো-ছায়া, শেডিং এবং টেক্সচার তৈরি
৮. পর্ব আট: পূর্ণাঙ্গ ফিগার ড্রয়িং, ড্রপারি (পোশাকের ভাঁজ) এবং কম্পোজিশন
৯. পর্ব নয়: অ্যাকশন বা গতিশীল ফিগার ড্রয়িং
১০. পর্ব দশ: নিজস্ব স্টাইল তৈরি ও শিল্পীর করণীয়

আপনার ডিজিটাল সৃজনশীলতার যাত্রার জন্য গ্রাফিক্স ট্যাবলেট খুঁজছেন। তাহলে মাল্টিমিডিয়া কিংডম হতে পারে একমাত্র ভরসার স্থল। দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি পণ্যের প্রতিষ্ঠান ‘মাল্টিমিডিয়া কিংডম’ বিশ্বের নামি-দামি প্রায় সকল ব্র্যান্ডের জেনুইন গ্রাফিক্স ট্যাবলেট ও প্রয়োজনীয় অ্যাক্সেসরিজ বিশ্বস্ততার সাথে সরবরাহ করে আসছে। কেনার আগে সঠিক দিকনির্দেশনা পেতে সরাসরি কথা বলতে পারেন (+8801755532345) মাল্টিমিডিয়া কিংডম এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জুয়েল-এর সাথে। অথবা ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট কিংবা স্টোরে।