বিগমি ইঙ্কনোট এক্স কালার: সবচেয়ে ফাস্ট কালার ই-রিডার!
আমরা যখন শৈশবে রূপকথার বইয়ে ডুব দিতাম, তখন এক অদ্ভুত আর্তি কাজ করত- যদি বইয়ের গাছটা সত্যিই সবুজ হতো, রাজকুমারীর শাড়িটা যদি সত্যিই লাল টুকটুকে দেখা যেত! প্রযুক্তির বিস্ময়কর অগ্রগতি সেই কল্পনাকেই আজ বাস্তবে রূপ দিয়েছে। কেবল কালো অক্ষরের জগৎ পেরিয়ে ই-রিডার এখন রঙিন স্বপ্নের জানালা খুলে দিচ্ছে। পেশাদার, শিক্ষার্থী কিংবা নিতান্তই বইপ্রেমী- সবার জন্যই বিগমি (Bigme) তাদের অত্যাধুনিক ইঙ্কনোট এক্স কালার (inkNote X Color) মডেলটি নিয়ে এসেছে, যা নিছক একটি ডিজিটাল ডিভাইস নয়, বরং পড়ার টেবিলের এক বহুমাত্রিক সঙ্গী। রঙিন ই-কালি পর্দায় তথ্যপ্রযুক্তির সর্বাধুনিক সুবিধাগুলোকে এক ফ্রেমে বন্দি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশের বাজারে ডিভাইসটির অনুমোদিত পরিবেশক মাল্টিমিডিয়া কিংডম এনেছে এই অসাধারণ গ্যাজেটটি, যা ব্যবহারকারীর চিন্তা ও সৃজনশীলতার জগতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।
আনবক্সিং অভিজ্ঞতা
বিগমি ইঙ্কনোট এক্স কালার ডিভাইসটির বক্স হাতে নিলেই এর প্রিমিয়াম অনুভূতির ছোঁয়া পাওয়া যায়। অত্যন্ত পরিপাটি এবং সুরক্ষিত প্যাকেজিংয়ের ভেতরে প্রথমেই দেখা মেলে মূল ডিভাইসটির, যা একটি বিশেষ আবরণে মোড়ানো থাকে। ডিভাইসটির নিচেই সুবিন্যস্তভাবে রাখা থাকে এর আনুষঙ্গিক অ্যাক্সেসরিজ। এর মধ্যে রয়েছে একটি উন্নতমানের স্টাইলাস পেন বা ডিজিটাল কলম, যা দিয়ে নোট নেওয়ার কাজ অত্যন্ত মসৃণভাবে করা যায়। পাশাপাশি একটি টাইপ-সি চার্জিং কেবল এবং প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক নির্দেশিকা বা ইউজার ম্যানুয়াল বক্সে সরবরাহ করা হয়।
.jpg)
ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি
নান্দনিকতা এবং স্থায়িত্বের এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে এই ই-রিডারটিতে। বিগমি ইঙ্কনোট এক্স কালার ডিভাইসটির ডিজাইন অত্যন্ত ছিমছাম এবং প্রিমিয়াম। এর পাতলা গড়ন এবং হালকা ওজনের কারণে দীর্ঘক্ষণ হাতে ধরে বই পড়া বা নোট নেওয়ার সময় কোনো ধরনের অস্বস্তি বোধ হয় না। এর বডি ম্যাটেরিয়াল এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা আঙুলের ছাপ প্রতিরোধ করে এবং হাতের গ্রিপ বা মুঠোয় খুব সুন্দরভাবে বসে যায়। মজবুত ফ্রেমের চারপাশে থাকা বেজেল যথেষ্ট পরিমিত, যা পড়ার সময় স্ক্রিনের ওপর ফোকাস ধরে রাখতে দারুণভাবে সাহায্য করে।
ডিসপ্লে ও রিডিং অভিজ্ঞতা
একটি ই-রিডারের মূল আকর্ষণ হলো এর স্ক্রিন বা ডিসপ্লে। বিগমি ইঙ্কনোট এক্স কালার ডিভাইসটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ১০.৩ ইঞ্চির (10.3") সুবিশাল ই-ইঙ্ক স্ক্রিন। এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি সাধারণ এলসিডি বা ওএলইডি পর্দার মতো আলো বিকিরণ করে না, ফলে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকলেও চোখে কোনো চাপ পড়ে না। এর কালার ই-ইঙ্ক প্রযুক্তি সাধারণ সাদাকালো অক্ষরের পাশাপাশি ছবি, গ্রাফিক্স বা কমিক্স পড়ার ক্ষেত্রে এক অভাবনীয় রঙিন অভিজ্ঞতা প্রদান করে। চমৎকার রেজ্যুলিউশনের কারণে প্রতিটি অক্ষর এবং ছবি অত্যন্ত তীক্ষ্ণ ও স্পষ্ট দেখায়। এছাড়া এতে থাকা ফ্রন্ট-লাইট প্রযুক্তির সাহায্যে রাতের অন্ধকারেও নিজের পছন্দমতো ব্রাইটনেস বা আলোর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে আরামদায়কভাবে পড়ার সুযোগ রয়েছে।
.jpg)
পারফরম্যান্স
পারফরম্যান্সের দিক থেকে ডিভাইসটি সমসাময়িক ই-রিডারগুলোকে বেশ ভালোভাবেই পাল্লা দিতে সক্ষম। একটি শক্তিশালী প্রসেসর থাকায় এর কার্যক্ষমতা অত্যন্ত মসৃণ। পাতা উল্টানো, নতুন অ্যাপ্লিকেশন খোলা কিংবা নোট নেওয়ার সময় কোনো ধরনের ল্যাগ বা ধীরগতি চোখে পড়ে না।
অপারেটিং সিস্টেম
বিগমি ইঙ্কনোট এক্স কালার ডিভাইসটিতে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে সর্বাধুনিক অ্যান্ড্রয়েড ১৩ সংস্করণ। ফলে গুগল প্লে স্টোর থেকে যেকোনো রিডিং অ্যাপ বা প্রয়োজনীয় থার্ড-পার্টি অ্যাপ্লিকেশন খুব সহজেই নামিয়ে ব্যবহার করা যায়। অডিও শোনার জন্য এতে রয়েছে চমৎকার মানের বিল্ট-ইন স্পিকার এবং মাইক্রোফোন, যা অডিওবুক শোনা বা ভয়েস নোট নেওয়ার অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করে। এছাড়া অটো-রোটেশনের জন্য এতে প্রয়োজনীয় সেন্সর অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কাজ করে।
.jpg)
ব্যাটারি
নিরবচ্ছিন্ন পাঠাভ্যাস বজায় রাখার জন্য দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি অত্যন্ত জরুরি। বিগমি ইঙ্কনোট এক্স কালার ই-রিডারটিতে ৪০০০ এমএএইচ সক্ষমতার একটি শক্তিশালী ব্যাটারি যুক্ত করা হয়েছে। ই-ইঙ্ক ডিসপ্লে এমনিতে অত্যন্ত কম শক্তি খরচ করে, তাই একবার সম্পূর্ণ চার্জ করলে সাধারণ ব্যবহারে দীর্ঘসময় অনায়াসেই চলে যায়। ফলে ভ্রমণের সময় বারবার চার্জ দেওয়ার কোনো দুশ্চিন্তা থাকে না।
কানেক্টিভিটি
আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য এই ডিভাইসে দুর্দান্ত সব কানেক্টিভিটি ফিচার রাখা হয়েছে। দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্রাউজিং, বই ডাউনলোড করা বা ক্লাউড সিঙ্ক করার জন্য এতে রয়েছে ওয়াই-ফাই সমর্থন। পাশাপাশি ব্লুটুথ প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজেই ওয়্যারলেস হেডফোন বা স্পিকার যুক্ত করে অডিওবুক বা পডকাস্ট শোনা যায়। ফাইল ট্রান্সফার এবং চার্জিংয়ের জন্য এতে আধুনিক ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট ব্যবহার করা হয়েছে।
.jpg)
স্টোরেজ ও ভেরিয়েন্ট
ব্যবহারকারীদের চাহিদা এবং পছন্দ অনুযায়ী ডিভাইসটি দুর্দান্ত স্পেসিফিকেশনে বাজারে এসেছে। বিগমি ইঙ্কনোট এক্স কালার ডিভাইসটিতে রয়েছে ৬ গিগাবাইট র্যাম এবং ১২৮ গিগাবাইট রম বা ইন্টারনাল স্টোরেজ। এত বিশাল স্টোরেজে হাজার হাজার ই-বুক, অডিওবুক এবং পিডিএফ ফাইল অনায়াসে সংরক্ষণ করে রাখা সম্ভব। মাল্টিটাস্কিং করার জন্য এই ৬ জিবি র্যাম দারুণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ডিভাইসটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং প্রিমিয়াম কালার ভেরিয়েশনে উপলব্ধ, যা এর বাহ্যিক সৌন্দর্যকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
একনজরে ডিভাইসটি
• ডিসপ্লে: ১০.৩ ইঞ্চি E Ink
• ডিসপ্লে প্রযুক্তি: E Ink Kaleido 3
• সাদা-কালো রেজ্যুলেশন: ২৪৮০ × ১৮৬০
• রঙিন রেজ্যুলেশন: ১২৪০ × ৯৩০
• সাদা-কালো পিক্সেল ঘনত্ব: ৩০০ পিপিআই
• রঙিন পিক্সেল ঘনত্ব: ১৫০ পিপিআই
• প্রসেসর: আট কোর, সর্বোচ্চ ২.৪ গিগাহার্টজ
• র্যাম: ৬ জিবি
• স্টোরেজ: ১২৮ জিবি
• অপারেটিং সিস্টেম: Android 13
• ব্যাটারি: ৪০০০ এমএএইচ
• ক্যামেরা: সামনে ৫ মেগাপিক্সেল, পেছনে ৮ মেগাপিক্সেল
• মাইক্রোফোন: চারটি
• ব্লুটুথ: ৫.০
• ওয়াই-ফাই: ২.৪ ও ৫ গিগাহার্টজ
• পোর্ট: টাইপ-সি
• ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর: রয়েছে
• মাত্রা: ২২৫.৬ × ১৯১ × ৬.৬ মিলিমিটার
• ওজন: প্রায় ৪৫০–৪৭০ গ্রাম
• স্টাইলাস: স্মার্ট ওয়্যারলেস চার্জিং স্টাইলাস
.jpg)
কার জন্য এই ডিভাইস?
সব মিলিয়ে বলা যায়, বিগমি ইঙ্কনোট এক্স কালার (Bigme inkNoteX Color) কেবল একটি বই পড়ার যন্ত্র নয়, এটি একাধারে একটি ডিজিটাল ক্যানভাস, নোটবুক এবং প্রোডাক্টিভিটির সঙ্গী। যারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বই পড়তে বা গবেষণা করতে ভালোবাসেন, কিন্তু চোখের সুরক্ষার ব্যাপারেও আপসহীন, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ ডিভাইস। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, গবেষক, লেখক এবং প্রযুক্তিপ্রেমী পাঠকদের জন্য এই ই-রিডারটি তাদের দৈনন্দিন কাজকে আরও সহজ এবং আনন্দদায়ক করে তুলবে। চোখ ধাঁধানো রঙিন ডিসপ্লে এবং শক্তিশালী পারফরম্যান্সের কারণে এটি নিসন্দেহে ই-রিডারের বাজারে অন্যতম সেরা এবং যুগান্তকারী একটি পছন্দ।
বাংলাদেশের ই-বুকপ্রেমী ও প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য আমরাই (মাল্টিমিডিয়া কিংডম) পকেটবুকসহ শীর্ষস্থানীয় সকল ব্র্যান্ডের ই-রিডার বিশ্বস্ততার সাথে বাজারজাত করে আসছি। অফিশিয়াল ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে আমাদের কাছেই পেয়ে যাবেন বিগমি ইঙ্কনোট এক্স কালার (Bigme inkNoteX Color) ডিভাইসটি। কেবল বিক্রিই নয়, বিক্রয়োত্তর সেবা বা আফটার সেলস সাপোর্ট এবং ডিভাইসটির জন্য প্রয়োজনীয় অরিজিনাল অ্যাক্সেসরিজের জন্য মাল্টিমিডিয়া কিংডম দেশের গ্রাহকদের কাছে সবচেয়ে আস্থাশীল নাম।
তাই, যেকোনো ই-রিডার কেনার আগে জেনে-বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে আজই ভিজিট করুন মাল্টিমিডিয়া কিংডমের ওয়েবসাইট কিংবা স্টোরে। অথবা সরাসরি কথা বলুন (+8801755532345) আমাদের সিইও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জুয়েল-এর সাথে।
কেনো মাল্টিমিডিয়া কিংডম?
২৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের প্রতিষ্ঠান ‘মাল্টিমিডিয়া কিংডম’ বাংলাদেশে ডিজিটাল রিডিং, রাইটিং, ক্রিয়েটিভিটি, প্রিমিয়াম ও হাই-ফাই অডিও এবং পেশাদার প্রযুক্তির এক নির্ভরযোগ্য বিশ্বস্ত ঠিকানা হিসেবে সেবা দিয়ে আসছে।
আমরা স্বগৌরবের সাথে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোকে বাংলাদেশের বাজারে সরবরাহ করে আসছি- যার মধ্যে রয়েছে BOOX, PocketBook, Bigme, Wacom, XP-Pen, Huion, Xencelab, Xteink, Audio-Technica, Fosi Audio, Sonos, Swan, WiiM, Obsbot, Czur, DJI, Insta360, Cammpro, Digidraw-সহ আরও নানা বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড।
তাই ই-রিডার, গ্রাফিক্স ট্যাবলেট, হাই-ফাই অডিও সিস্টেম, কনটেন্ট ক্রিয়েশন গিয়ার কিংবা পেশাদার প্রযুক্তির সেরা সমাধান খুঁজছেন? আপনার যেকোনো প্রয়োজনে আমরা আছি সবসময় আপনার পাশে!