পেন্সিল স্কেচ ও ফিগার ড্রয়িং: পোর্ট্রেট বা মুখাবয়ব আঁকার নিয়মাবলি
ফিগার ড্রয়িং করতে গিয়ে হাত ও পা আঁকার পর শিল্পীরা সবচেয়ে বেশি যে অংশের দিকে মনোযোগ দেন, তা হলো পোর্ট্রেট বা মুখাবয়ব। মাল্টিমিডিয়া কিংডমের শিল্পানুরাগী পাঠকদের জন্য আয়োজিত এই ধারাবাহিকের গত পর্বে আমরা হাত ও পা আঁকার সহজ কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছি।
আজকের ষষ্ঠ পর্বে আমাদের আলোচনার বিষয় পোর্ট্রেট আঁকার নিয়মাবলি। একটি নিখুঁত মুখাবয়ব আঁকার জন্য মুখের সঠিক অনুপাত এবং কাঠামোগত নিয়মগুলো জানা খুব জরুরি। মানুষের মুখের অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তোলা শিল্পকলার অন্যতম আকর্ষণীয় কিন্তু চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ, যা চর্চার মাধ্যমে সহজেই আয়ত্ত করা সম্ভব।
মুখমণ্ডলের প্রাথমিক কাঠামো ও কেন্দ্ররেখা
পোর্ট্রেট আঁকার শুরুতে সরাসরি চোখ বা নাক আঁকতে যাওয়া ঠিক নয়। প্রথমে মাথার ওপরের অংশের অর্থাৎ খুলির জন্য একটি গোলাকার বৃত্ত এঁকে নিতে হয়। এরপর সেই বৃত্তের মাঝখান দিয়ে লম্বালম্বি একটি সরলরেখা টানতে হয়, যা নিচের দিকে চিবুক পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এই রেখাটিকে কেন্দ্ররেখা বলা হয়। এটি মুখের কেন্দ্রবিন্দু নির্ধারণ করে এবং মুখের দুই পাশকে প্রতিসম বা সমান রাখতে দারুণভাবে সাহায্য করে। এই কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সময়ে মুখের অন্যান্য অংশের স্থান নিখুঁতভাবে নির্ধারণ করা হয়।
মুখের আদর্শ অনুপাত ও বিভাজন
একটি আদর্শ মুখমণ্ডলকে সাধারণত লম্বালম্বিভাবে তিনটি সমান ভাগে ভাগ করা যায়। মাথার চুলের রেখা থেকে শুরু করে চিবুক পর্যন্ত পুরো অংশকে এই তিনটি ভাগে ভাগ করে নিতে হয়।
• প্রথম ভাগ: চুলের রেখা (Hairline) থেকে ভ্রু (Eyebrows) পর্যন্ত।
• দ্বিতীয় ভাগ: ভ্রু থেকে নাকের নিচের অংশ (Bottom of the nose) পর্যন্ত।
• তৃতীয় ভাগ: নাকের নিচের অংশ থেকে চিবুক (Chin) পর্যন্ত।
এই সহজ গাণিতিক বিভাজনটি মনে রাখলে পোর্ট্রেট আঁকার সময় মুখের কোনো অংশ অস্বাভাবিক বড় বা ছোট মনে হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
চোখ, নাক, ঠোঁট ও কানের সঠিক অবস্থান
• চোখ: মাথার একেবারে শীর্ষবিন্দু এবং চিবুকের ঠিক মাঝখানে চোখের অবস্থান। দুটি চোখের মাঝখানের দূরত্ব সাধারণত আরেকটি সম্পূর্ণ চোখের সমান হয়।
• নাক: মুখের দ্বিতীয় ভাগের শেষ প্রান্তে নাকের অবস্থান। নাকের প্রস্থ সাধারণত দুটি চোখের ভেতরের দিকের কোণা থেকে সোজা নিচের দিকে টানা কাল্পনিক রেখার সমান হয়।
• ঠোঁট বা মুখ: নাকের নিচ থেকে চিবুক পর্যন্ত যে তৃতীয় ভাগটি রয়েছে, তাকে তিন ভাগ করলে উপরের এক-তৃতীয়াংশ বরাবর ঠোঁটের বিভাজন রেখাটি থাকে। দুই চোখের মণি (Pupil) থেকে সোজা নিচের দিকে কাল্পনিক রেখা টানলে তা সাধারণত ঠোঁটের দুই প্রান্ত নির্দেশ করে।
• কান: কানের উপরের অংশ সাধারণত চোখের বা ভ্রুর লাইনের সাথে এবং নিচের অংশ নাকের নিচের লাইনের সাথে সমান্তরালে থাকে।
চোয়ালের আকৃতি ও আলো-ছায়ার প্রয়োগ
মুখের ভেতরের অংশগুলোর অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর চোয়াল ও গালের আকৃতি দিতে হয়। বৃত্তের দুই পাশ থেকে এবং কানের নিচ থেকে শুরু করে চিবুক পর্যন্ত চোয়ালের রেখা টানতে হয়।
পুরুষদের ক্ষেত্রে চোয়াল সাধারণত একটু চওড়া এবং কোণাযুক্ত হয়, আর নারীদের ক্ষেত্রে এটি বেশি গোলাকার ও নরম আকৃতির হয়।
মুখাবয়বকে ত্রিমাত্রিক ও বাস্তবসম্মত রূপ দিতে আলো-ছায়ার ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আলো কোন দিক থেকে পড়ছে, তা নির্ধারণ করে বিপরীত দিকে ছায়া দিতে হয়। সাধারণত চোখের গর্তে, নাকের নিচে, নিচের ঠোঁটের ঠিক নিচে এবং গলার কাছে গাঢ় ছায়া পড়ে। শেডিংয়ের মাধ্যমে গালের হাড় এবং নাকের উচ্চতা ফুটিয়ে তুললে পোর্ট্রেট জীবন্ত হয়ে ওঠে।
পোর্ট্রেট আঁকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস:
• হালকা হাতে শুরু করুন: প্রাথমিক স্কেচ করার সময় পেনসিল খুব হালকাভাবে ধরবেন (HB বা 2H পেন্সিল ব্যবহার করতে পারেন), যাতে ভুল হলে কাগজ নষ্ট না করেই সহজে মুছে ফেলা যায়।
• রেফারেন্স ব্যবহার করুন: কল্পনার চেয়ে প্রথমদিকে বাস্তব ছবি, আয়নায় নিজের মুখ অথবা কোনো মডেল দেখে আঁকার চর্চা করুন। এতে নিখুঁত অনুপাত বুঝতে সুবিধা হবে।
• পুরো ক্যানভাসে চোখ রাখুন: শুধু একটি চোখ বা নাকের ওপর ফোকাস না করে, বারবার পুরো মুখের দিকে তাকান। এতে এক অংশের সাথে অন্য অংশের সামঞ্জস্য ঠিক আছে কি না, তা সহজেই ধরা পড়বে।
মাল্টিমিডিয়া কিংডমের আগামী পর্বে আমরা আলোচনা করব পোর্ট্রেট ও ফিগার ড্রয়িংয়ে কীভাবে আলো-ছায়া, শেডিং এবং টেক্সচার তৈরি করতে হয়, তা নিয়ে। তত দিন পর্যন্ত অনুপাত মেনে মুখাবয়ব আঁকার অনুশীলন চালিয়ে যান।
পেন্সিল স্কেচ ও ফিগার ড্রয়িংয়ের পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস
মাল্টিমিডিয়া কিংডমের পাঠকদের সুবিধার্থে আমাদের এই ধারাবাহিকের সম্পূর্ণ সিলেবাস নিচে দেওয়া হলো:
১. পর্ব এক: বেসিক গ্রামার ও লাইন ড্রয়িং
২. পর্ব দুই: মানবদেহের নিখুঁত অনুপাত ও পরিমাপ
৩. পর্ব তিন: পার্সপেক্টিভ বা পরিপ্রেক্ষিত এবং ফোরশর্টনিং
৪. পর্ব চার: অ্যানাটমি: পেশি ও অস্থির প্রাথমিক ধারণা
৫. পর্ব পাঁচ: অঙ্গপ্রত্যঙ্গ: হাত ও পা আঁকার সহজ কৌশল
৬. পর্ব ছয়: পোর্ট্রেট বা মুখাবয়ব আঁকার নিয়মাবলি
৭. পর্ব সাত: আলো-ছায়া, শেডিং এবং টেক্সচার তৈরি
৮. পর্ব আট: পূর্ণাঙ্গ ফিগার ড্রয়িং, ড্রপারি (পোশাকের ভাঁজ) এবং কম্পোজিশন
৯. পর্ব নয়: অ্যাকশন বা গতিশীল ফিগার ড্রয়িং
১০. পর্ব দশ: নিজস্ব স্টাইল তৈরি ও শিল্পীর করণীয়
আপনার ডিজিটাল সৃজনশীলতার যাত্রার জন্য গ্রাফিক্স ট্যাবলেট খুঁজছেন। তাহলে মাল্টিমিডিয়া কিংডম হতে পারে একমাত্র ভরসার স্থল। দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি পণ্যের প্রতিষ্ঠান ‘মাল্টিমিডিয়া কিংডম’ বিশ্বের নামি-দামি প্রায় সকল ব্র্যান্ডের জেনুইন গ্রাফিক্স ট্যাবলেট ও প্রয়োজনীয় অ্যাক্সেসরিজ বিশ্বস্ততার সাথে সরবরাহ করে আসছে। কেনার আগে সঠিক দিকনির্দেশনা পেতে সরাসরি কথা বলতে পারেন (+8801755532345) মাল্টিমিডিয়া কিংডম এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জুয়েল-এর সাথে। অথবা ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট কিংবা স্টোরে।