কাগজের বইয়ের গন্ধ আর কালির ছোঁয়া- বইপ্রেমীদের কাছে এই অনুভূতির কোনো বিকল্প নেই। তবে প্রযুক্তির উৎকর্ষে ডিজিটাল মাধ্যম যখন আমাদের নিত্যসঙ্গী, তখন ই-রিডারের সাদাকালো পর্দায় রঙের ছোঁয়া যেন এক জাদুকরী অভিজ্ঞতা। ঠিক এমনই এক স্বপ্নের বাস্তব রূপায়ণ হলো ‘পকেটবুক কালার নোট’ (PocketBook Color Note)। এটি শুধু একটি সাধারণ ই-রিডার নয়, বরং সৃজনশীলতা, অধ্যয়ন এবং পেশাদার কাজের এক বিশ্বস্ত ক্যানভাস। ডিজিটাল পাতায় যারা কাগজের মতো স্বাচ্ছন্দ্য খোঁজেন, তাদের জন্য আধুনিক স্পেসিফিকেশন আর অনবদ্য ডিজাইনের এই ডিভাইসটি হতে পারে এক নতুন দিগন্তের সূচনা।

ডিভাইসের পরিচিতি 
বিশ্বখ্যাত ই-রিডার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পকেটবুক-এর অন্যতম সেরা উদ্ভাবন হলো পকেটবুক কালার নোট। এটি মূলত একটি ই-নোট এবং ই-রিডার, যা অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে চলে। বড় স্ক্রিন, কালার ডিসপ্লে এবং ডিজিটাল স্টাইলাসের সমন্বয়ে তৈরি এই ডিভাইসটি আধুনিক জীবনযাত্রার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে।

আনবক্সিং
একটি প্রিমিয়াম ডিভাইসের প্রথম আকর্ষণ শুরু হয় তার প্যাকেজিং থেকে। পকেটবুক কালার নোটের আনবক্সিং অভিজ্ঞতা অত্যন্ত স্নিগ্ধ ও গোছানো। বাক্সের ভেতরে প্রথমেই চোখে পড়ে নজরকাড়া ডিভাইসটি। এর ঠিক নিচেই সযত্নে রাখা আছে একটি চমৎকার স্টাইলাস পেন, যা দিয়ে ডিজিটাল লেখালেখি বা ছবি আঁকা যাবে। এছাড়া চার্জিং ও ডেটা ট্রান্সফারের জন্য রয়েছে একটি ইউএসবি টাইপ-সি ক্যাবল এবং প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক নির্দেশিকা বা ম্যানুয়াল। সবকিছু মিলিয়ে প্রথম দর্শনেই এটি ব্যবহারকারীর মনে একটি ইতিবাচক ও আভিজাত্যের ছাপ ফেলতে সক্ষম।




ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি 
ডিভাইসটির বাহ্যিক গঠন ও ডিজাইনে আভিজাত্যের ছোঁয়া সুস্পষ্ট। এর বডি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে টেকসই উপাদান, যা একই সঙ্গে ডিভাইসটিকে মজবুত ও হালকা করেছে। মাত্র ৩৯০ গ্রাম ওজনের এই ই-রিডারটি হাতে ধরে রাখা অত্যন্ত আরামদায়ক। এর পুরুত্ব মাত্র ৬.৪ মিলিমিটার, ফলে এটি যেকোনো জায়গায় সহজে বহন করা যায়। এর ‘স্টর্মি সি’ বা কালচে ধূসর রঙের ফিনিশিং ডিভাইসটিকে দিয়েছে এক প্রিমিয়াম লুক, যা যেকোনো রুচিশীল মানুষের নজর কাড়তে বাধ্য।

ডিসপ্লে ও রিডিং অভিজ্ঞতা 
পকেটবুক কালার নোটের সবচেয়ে বড় চমক হলো এর ১০.৩ ইঞ্চির ই-ইঙ্ক ক্যালিডো ৩ (E Ink Kaleido™ 3) কালার ডিসপ্লে। চোখের সুরক্ষার জন্য এতে ব্যবহার করা হয়েছে মোবিয়াস এবং ই-ইঙ্ক কমফোর্টগেজ প্রযুক্তি। এর সাদাকালো রেজ্যুলিউশন ১৪০৪ × ১৮৭২ পিক্সেল (২২৭ পিপিআই) এবং রঙিন রেজ্যুলিউশন ৪৬৮ × ৬২৪ পিক্সেল (৭৬ পিপিআই)। 

ডিভাইসটিতে স্মার্টলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে দিন বা রাতের যেকোনো পরিবেশে স্ক্রিনের আলো মানিয়ে নেওয়া যায়। চোখের ওপর কোনো চাপ ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই পড়া, কমিক্স উপভোগ করা বা নোট নেওয়ার জন্য এটি এক অনন্য মাধ্যম।




পারফরম্যান্স 
আধুনিক জীবনের দ্রুততার সাথে তাল মেলাতে ডিভাইসটিতে দেওয়া হয়েছে ১.৫ গিগাহার্টজ প্রসেসর। এটি অ্যান্ড্রয়েড ১২ অপারেটিং সিস্টেমে পরিচালিত হওয়ায় গুগল প্লে স্টোর থেকে প্রয়োজনীয় যেকোনো থার্ড-পার্টি অ্যাপ অনায়াসেই নামিয়ে ব্যবহার করা যায়। স্মুথ স্ক্রলিং, দ্রুত অ্যাপ লঞ্চিং এবং মাল্টিটাস্কিংয়ের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত সাবলীল পারফরম্যান্স প্রদান করে।

ব্যাটারি
দীর্ঘক্ষণ নিরবচ্ছিন্ন ব্যবহারের জন্য এতে রয়েছে ৪০০০ এমএএইচ লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি। একবার সম্পূর্ণ চার্জ করলে বেশ কয়েকদিন নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যায়। ফলে ভ্রমণের সময় বা দীর্ঘ কাজের ফাঁকে বারবার চার্জ দেওয়ার কোনো ঝামেলা থাকে না।




কানেক্টিভিটি ও অডিও
ওয়্যারলেস সংযোগের জন্য এতে রয়েছে ডুয়াল ব্যান্ড ওয়াই-ফাই এবং ব্লুটুথ ৫.২। অডিওবুক বা পডকাস্ট শোনার জন্য ডিভাইসটিতে একটি বিল্ট-ইন মনো স্পিকার যুক্ত করা হয়েছে। এর চমৎকার টেক্সট-টু-স্পিচ ফিচারের মাধ্যমে ডিভাইসটি নিজেই আপনাকে বই পড়ে শোনাতে পারবে, যা শ্রুতিমধুর ও বাস্তবসম্মত।

র‍্যাম, রম ও ভেরিয়েশন 
পকেটবুক কালার নোট ডিভাইসটি একটি নির্দিষ্ট ও অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ ভেরিয়েশনে বাজারে পাওয়া যায়। এর স্মুথ পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে দেওয়া হয়েছে ৪ জিবি র‍্যাম এবং বিশাল পরিমাণ বই বা ফাইল সংরক্ষণের জন্য রয়েছে ৩২ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ। এর পাশাপাশি মাইক্রোএসডি কার্ড স্লটের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী স্টোরেজ আরও বাড়িয়ে নেওয়ার সুবিধা রয়েছে। রঙের ক্ষেত্রে এটি আকর্ষণীয় ‘স্টর্মি সি’ ভেরিয়েশনে পাওয়া যায়, যা এর বাহ্যিক সৌন্দর্যকে আরও একধাপ বাড়িয়ে দেয়।

একনজরে ডিভাইসটি
•    ডিসপ্লে: ১০.৩ ইঞ্চি ই-ইঙ্ক ক্যালিডো ৩ কালার স্ক্রিন
•    প্রসেসর: ১.৫ গিগাহার্টজ অক্টা-কোর
•    র‍্যাম: ৪ জিবি
•    স্টোরেজ: ৩২ জিবি (মাইক্রোএসডি সাপোর্টেড)
•    ব্যাটারি: ৪০০০ এমএএইচ
•    অপারেটিং সিস্টেম: অ্যান্ড্রয়েড ১২
•    কানেক্টিভিটি: ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ৫.২, ইউএসবি টাইপ-সি
•    স্পিকার ও অডিও: বিল্ট-ইন স্পিকার, টেক্সট-টু-স্পিচ সাপোর্ট
•    ওজন: ৩৯০ গ্রাম



যাদের জন্য উপযুক্ত
যারা কাগজের বইয়ের অনুভূতি ভালোবাসেন কিন্তু আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির সুবিধাগুলোও হাতছাড়া করতে চান না, তাদের জন্য পকেটবুক কালার নোট এক আদর্শ ডিভাইস। সৃজনশীল শিল্পী, গবেষক, শিক্ষার্থী বা প্রফেশনাল- যারা নিয়মিত নোট নেন, স্কেচ করেন বা দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে তাকিয়ে পড়েন, তাদের জন্য এটি শতভাগ উপযোগী। চোখের সুরক্ষা, চমৎকার স্টাইলাস অভিজ্ঞতা এবং অ্যান্ড্রয়েডের অ্যাপ ব্যবহারের স্বাধীনতার কারণে এটি নিঃসন্দেহে আপনার সেরা বিনিয়োগ হতে পারে।

কোথায় পাবেন?

বাংলাদেশের ই-বুকপ্রেমী ও প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য আমরাই (মাল্টিমিডিয়া কিংডম) পকেটবুকসহ শীর্ষস্থানীয় সকল ব্র্যান্ডের ই-রিডার বিশ্বস্ততার সাথে বাজারজাত করে আসছি। অফিশিয়াল ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে আমাদের কাছেই পেয়ে যাবেন পকেটবুক কালার নোট (PocketBook Color Note) ডিভাইসটি। কেবল বিক্রিই নয়, বিক্রয়োত্তর সেবা বা আফটার সেলস সাপোর্ট এবং ডিভাইসটির জন্য প্রয়োজনীয় অরিজিনাল অ্যাক্সেসরিজের (যেমন কাভার, স্টাইলাস নিব) জন্য মাল্টিমিডিয়া কিংডম দেশের গ্রাহকদের কাছে সবচেয়ে আস্থাশীল নাম।

        তাই, যেকোনো ই-রিডার কেনার আগে জেনে-বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে আজই ভিজিট করুন মাল্টিমিডিয়া কিংডমের ওয়েবসাইট কিংবা স্টোরে। অথবা সরাসরি কথা বলুন (+8801755532345) আমাদের সিইও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জুয়েল-এর সাথে।


কেনো মাল্টিমিডিয়া কিংডম?

২৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের প্রতিষ্ঠান ‘মাল্টিমিডিয়া কিংডম’ বাংলাদেশে ডিজিটাল রিডিং, রাইটিং, ক্রিয়েটিভিটি, প্রিমিয়াম ও হাই-ফাই অডিও এবং পেশাদার প্রযুক্তির এক নির্ভরযোগ্য বিশ্বস্ত ঠিকানা হিসেবে সেবা দিয়ে আসছে।

আমরা স্বগৌরবের সাথে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোকে বাংলাদেশের বাজারে সরবরাহ করে আসছি- যার মধ্যে রয়েছে BOOX, PocketBook, Bigme, Wacom, XP-Pen, Huion, Xencelab, Xteink, Audio-Technica, Fosi Audio, Sonos, Swan, WiiM, Obsbot, Czur, DJI, Insta360, Cammpro, Digidraw-সহ আরও নানা বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড

তাই ই-রিডার, গ্রাফিক্স ট্যাবলেট, হাই-ফাই অডিও সিস্টেম, কনটেন্ট ক্রিয়েশন গিয়ার কিংবা পেশাদার প্রযুক্তির সেরা সমাধান খুঁজছেন? আপনার যেকোনো প্রয়োজনে আমরা আছি সবসময় আপনার পাশে!