একটি সাদা কাগজে কয়েকটি রেখা টেনে একটি বস্তুর অবয়ব তৈরি করা যায়। কিন্তু সেই অবয়বকে প্রাণবন্ত করে তুলতে, তাকে কাগজের সমতল থেকে যেন বের করে আনতে প্রয়োজন আলো ও ছায়ার সঠিক ব্যবহার। কোথাও আলো একটু বেশি, কোথাও কম; কোনো অংশ উজ্জ্বল, আবার কোনো অংশ গভীর অন্ধকার- এই বৈপরীত্যই একটি সাধারণ স্কেচকে ত্রিমাত্রিক করে তোলে।

মাল্টিমিডিয়া কিংডমের শিল্পানুরাগী পাঠকদের জন্য আয়োজিত পেন্সিল স্কেচ ও ফিগার ড্রয়িং ধারাবাহিকের আগের পর্বে আমরা মানুষের পোর্ট্রেট বা মুখাবয়ব আঁকার গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম নিয়ে আলোচনা করেছি। সপ্তম পর্বে এবার একটু গভীরে যাওয়া যাক। 

আজকের আলোচনায় থাকবে আলো-ছায়ার মৌলিক ধারণা, শেডিংয়ের বিভিন্ন কৌশল, টেক্সচার তৈরির পদ্ধতি এবং ফিগার ড্রয়িংয়ে আলো-ছায়ার বাস্তব প্রয়োগ। অর্থাৎ, একটি মাত্র পেন্সিল দিয়ে কীভাবে সমতল কাগজে গভীরতা, আয়তন ও স্পর্শযোগ্যতার অনুভূতি তৈরি করা যায়, সেটিই হবে আজকের বিষয়।

আলো থেকেই শুরু সবকিছু
আলো-ছায়া আঁকার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আলোর উৎস নির্ধারণ করা। ছবির কোন দিক থেকে আলো আসছে, সেটি শিল্পীর নিজের কাছে পরিষ্কার থাকতে হবে। আলো যদি ওপরের বাঁ দিক থেকে আসে, তাহলে সাধারণত বস্তুর ডান ও নিচের অংশে তুলনামূলক বেশি ছায়া পড়বে। আলোর উৎস যতটা স্পষ্ট হবে, ছায়ার অবস্থানও তত বেশি বিশ্বাসযোগ্য হবে।

চিত্রাঙ্কনে আলো ও অন্ধকারের এই বিভিন্ন মাত্রাকে বলা হয় ‘ভ্যালু’। সহজভাবে বললে, একটি ছবিতে সাদা থেকে ধূসর এবং ধূসর থেকে কালো- এই পুরো পরিসরটিই ভ্যালুর জগৎ। পেন্সিলের চাপ, পেন্সিলের গ্রেড এবং রেখার ঘনত্ব পরিবর্তন করে এই ভ্যালু তৈরি করা যায়।

আলো সরাসরি যে অংশে পড়ে, সেটি সবচেয়ে উজ্জ্বল থাকে। একে বলা হয় ‘হাইলাইট’। অনেক সময় হাইলাইট তৈরির জন্য সেখানে কোনো পেন্সিলই ব্যবহার করা হয় না; কাগজের স্বাভাবিক সাদাটাই আলো হিসেবে রেখে দেওয়া হয়। এর পাশের অংশে ধীরে ধীরে টোন গাঢ় হতে থাকে। এরপর আসে মূল ছায়া বা ‘কোর শ্যাডো’।

আর কোনো বস্তু যখন আলো আটকে মেঝে, টেবিল কিংবা দেয়ালের ওপর ছায়া ফেলে, সেটি হলো ‘কাস্ট শ্যাডো’। এই ছায়া সব সময় বস্তুর সঙ্গে একইভাবে লেগে থাকে না। আলোর উৎস, দূরত্ব ও দিকের ওপর নির্ভর করে ছায়ার আকৃতি এবং প্রান্ত বদলে যায়।

একজন শিক্ষানবিশ শিল্পীর জন্য তাই শুধু কোথায় অন্ধকার, সেটি দেখা যথেষ্ট নয়। কোথায় আলো সবচেয়ে বেশি, কোথায় আলো ধীরে ধীরে কমছে, কোথায় ছায়া সবচেয়ে গাঢ় এবং কোথায় ছায়ার প্রান্ত নরম- এসবও খেয়াল করতে হবে।

হালকা থেকে গাঢ়- শেডিংয়ের মূল নিয়ম
শেডিংয়ের ক্ষেত্রে নতুন শিল্পীদের সবচেয়ে সাধারণ ভুল হলো শুরুতেই পেন্সিলের ওপর বেশি চাপ দেওয়া। এতে কোনো একটি অংশ খুব দ্রুত কালো হয়ে যায় এবং পরে সেটিকে হালকা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বরং হালকা টান দিয়ে শুরু করা ভালো। প্রথমে সামগ্রিকভাবে হালকা টোন বসিয়ে ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় জায়গাগুলো গাঢ় করতে হবে। এতে আলো থেকে ছায়ায় যাওয়ার স্বাভাবিক পরিবর্তন তৈরি করা সহজ হয়।

মনে রাখতে হবে, বাস্তব কোনো বস্তুর অধিকাংশ অংশই পুরোপুরি সাদা বা পুরোপুরি কালো নয়। আলো ও ছায়ার মাঝখানে থাকে অসংখ্য ধূসর মাত্রা। একজন দক্ষ শিল্পী সেই সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো ধরতে পারেন বলেই তাঁর আঁকা বস্তুটি বাস্তব বলে মনে হয়।

হ্যাচিং: রেখার ভেতর দিয়ে ছায়া
শেডিংয়ের সবচেয়ে পরিচিত কৌশলগুলোর একটি হলো ‘হ্যাচিং’। এতে পাশাপাশি সমান্তরাল রেখা টেনে ছায়া তৈরি করা হয়। রেখাগুলো যত ঘন হবে, অংশটি তত গাঢ় দেখাবে। আবার রেখার মধ্যবর্তী দূরত্ব বাড়ালে টোন অপেক্ষাকৃত হালকা থাকবে।

হ্যাচিংয়ের সৌন্দর্য হলো এতে পেন্সিলের রেখা দৃশ্যমান থাকে। ফলে স্কেচে একটি স্বতন্ত্র শিল্পধর্মী চরিত্র তৈরি হয়। বিশেষ করে পোশাক, কাঠ, চুল বা বিভিন্ন শক্ত পৃষ্ঠের টেক্সচার তৈরিতে এই কৌশল বেশ কার্যকর।

তবে রেখা আঁকার সময় সব জায়গায় একই দিকে টান দেওয়া প্রয়োজন নেই। যে বস্তুকে আঁকা হচ্ছে, তার গঠন ও বাঁক অনুসরণ করে রেখার দিক পরিবর্তন করলে ত্রিমাত্রিকতার অনুভূতি আরও শক্তিশালী হয়।

ক্রস-হ্যাচিংয়ে বাড়ে গভীরতা
এক স্তরের রেখার ওপর আরেক দিক থেকে রেখা টেনে ছেদ তৈরি করলে তাকে বলা হয় ‘ক্রস-হ্যাচিং’। যেখানে আরও গাঢ় ছায়া প্রয়োজন, সেখানে একাধিক স্তরে ক্রস-হ্যাচিং ব্যবহার করা যায়।

তবে বেশি রেখা দিলেই যে ভালো শেডিং হবে, এমন নয়। রেখার ঘনত্বের পাশাপাশি তাদের দিক, চাপ এবং ব্যবধানেরও গুরুত্ব রয়েছে। দক্ষ হাতে ক্রস-হ্যাচিং শুধু অন্ধকার তৈরি করে না, বরং বস্তুর গঠন ও আয়তনও বোঝাতে সাহায্য করে।

সার্কুলিজম ও মসৃণ শেডিং
পেন্সিল ছোট ছোট বৃত্তাকার গতিতে চালিয়ে শেডিং করার কৌশলকে বলা হয় ‘সার্কুলিজম’। এই পদ্ধতিতে রেখাগুলোর দিক আলাদা করে চোখে পড়ে না। ফলে তুলনামূলক মসৃণ টোন তৈরি করা যায়।

মানুষের মুখ, ত্বক, গাল বা অন্যান্য নরম পৃষ্ঠের ক্ষেত্রে এই কৌশল বিশেষভাবে কার্যকর। তবে খুব বেশি ঘষাঘষি করলে কাগজের স্বাভাবিক দানাদার গঠন নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই ধৈর্য ধরে একাধিক হালকা স্তরে টোন তৈরি করাই ভালো।

অনেক শিল্পী পেন্সিলের ডগা নয়, বরং পাশের অংশ ব্যবহার করে নরম শেড তৈরি করেন। এতে কাগজে তুলনামূলক সমানভাবে গ্রাফাইট বসে এবং বড় এলাকায় মসৃণ টোন তৈরি করা সহজ হয়।

টেক্সচার: একই পেন্সিলে ভিন্ন অনুভূতি
একটি ছবিকে বাস্তবসম্মত করে তোলার ক্ষেত্রে শুধু আলো-ছায়া নয়, টেক্সচারেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। মানুষের ত্বক, চুল, সুতির কাপড়, ডেনিম, কাঠ, ধাতু কিংবা কাচ- প্রতিটি পৃষ্ঠের চরিত্র আলাদা। তাই সবকিছুকে একই ধরনের শেডিং দিয়ে আঁকলে ছবির বাস্তবতা কমে যায়।

টেক্সচার আসলে কোনো বস্তুর উপরিভাগের দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য। সেটি মসৃণ হতে পারে, খসখসে হতে পারে, নরম হতে পারে কিংবা চকচকে হতে পারে। পেন্সিলের চাপ, রেখার দৈর্ঘ্য, গতি, ঘনত্ব এবং মুছে ফেলার কৌশল বদলে এই বৈচিত্র্য ফুটিয়ে তোলা যায়।

চুল আঁকার সময় সাধারণত লম্বা, দ্রুত ও আত্মবিশ্বাসী টান প্রয়োজন। প্রতিটি চুল আলাদা করে আঁকার বদলে প্রথমে চুলের সামগ্রিক ভর বা প্রবাহ বোঝানো ভালো। এরপর যেখানে আলো পড়ছে, সেসব অংশে কাগজের সাদা জায়গা রেখে দিলে চুলে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা আসে।

ত্বকের ক্ষেত্রে আবার পদ্ধতিটি ভিন্ন। খুব তীক্ষ্ণ রেখা ব্যবহার না করে নরম ও ধীরে পরিবর্তিত টোন ব্যবহার করলে ত্বকের কোমলতা ফুটে ওঠে। তবে ত্বক কখনোই সম্পূর্ণ মসৃণ নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সামান্য অসম টোন, সূক্ষ্ম রেখা কিংবা ছোট ছোট ভ্যালু পরিবর্তন যোগ করলে মুখাবয়ব আরও স্বাভাবিক হয়।

চকচকে ধাতু বা কাচ আঁকার ক্ষেত্রে বিপরীত পদ্ধতি কার্যকর। সেখানে উজ্জ্বল হাইলাইট ও গাঢ় ছায়ার পার্থক্য অনেক বেশি হতে পারে। অর্থাৎ, টেক্সচার বোঝানোর জন্য শুধু রেখা নয়- আলো কীভাবে সেই পৃষ্ঠে প্রতিফলিত হচ্ছে, সেটিও বুঝতে হবে।

সঠিক পেন্সিল নির্বাচন
শেডিংয়ের কাজে পেন্সিলের গ্রেডও গুরুত্বপূর্ণ। এইচবি বা টু-বি ধরনের পেন্সিল দিয়ে প্রাথমিক রেখা, হালকা টোন এবং সূক্ষ্ম বিবরণ তৈরি করা যায়। অপেক্ষাকৃত নরম ফোর-বি বা সিক্স-বি পেন্সিল গাঢ় ছায়া ও গভীর টোন তৈরিতে বেশি উপযোগী।

তবে বেশি গ্রেডের পেন্সিল থাকলেই ভালো শিল্পী হওয়া যায় না। বরং হাতে থাকা একটি পেন্সিল দিয়েই চাপ ও টানের পরিবর্তনের মাধ্যমে যত বেশি ভ্যালু তৈরি করা যায়, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষার্থী চাইলে প্রথম দিকে শুধু একটি এইচবি বা টু-বি পেন্সিল ব্যবহার করেই আলো-ছায়ার অনুশীলন করতে পারেন।

ফিগার ড্রয়িংয়ে আলো-ছায়ার প্রয়োগ
মানুষের শরীর আঁকার ক্ষেত্রে আলো-ছায়ার গুরুত্ব আরও বেশি। শুধু বাহ্যিক রেখা অনুসরণ করে শরীরের অবয়ব আঁকলেই সেটি জীবন্ত হয়ে ওঠে না। শরীরের বিভিন্ন অংশের আয়তন, পেশির উত্থান-পতন এবং হাড়ের গঠন বোঝাতে শেডিং প্রয়োজন।

উদাহরণ হিসেবে গলার নিচের অংশের কথা বলা যায়। সাধারণত এখানে সরাসরি আলো কম পৌঁছায় বলে ছায়া তুলনামূলক গাঢ় হতে পারে। একইভাবে নাকের নিচে, গালের হাড়ের পাশে, চিবুকের নিচে কিংবা শরীরের ভাঁজযুক্ত অংশে আলোর অবস্থান অনুযায়ী গাঢ় টোন তৈরি হয়।

তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি- শরীরের প্রতিটি খাঁজকে কালো করে দিলেই বাস্তবসম্মত ফিগার তৈরি হয় না। ছায়ার তীব্রতা সব সময় আলোর উৎসের সঙ্গে সম্পর্কিত। কোথাও ছায়া গভীর, কোথাও নরম; কোথাও আবার আলো ও ছায়ার পরিবর্তন এত সূক্ষ্ম যে তা প্রায় চোখেই ধরা পড়ে না।

ফিগার ড্রয়িংয়ের ক্ষেত্রে তাই প্রথমে শরীরকে বিভিন্ন সরল আকৃতি হিসেবে ভাবা যেতে পারে। মাথাকে একটি গোলাকার ভলিউম, বুককে একটি বড় আয়তন এবং হাত-পাকে নলাকার গঠন হিসেবে কল্পনা করে তার ওপর আলো বসালে শেডিং অনেক সহজ হয়ে যায়। এতে শিল্পী শুধু বাইরের রেখা নয়, শরীরের ভেতরের আয়তনও বুঝতে শেখেন।

পোশাকের ভাঁজে আলো-ছায়া
পোশাক আঁকার ক্ষেত্রেও শেডিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাপড়ের প্রতিটি ভাঁজের ভেতরে আলো সমানভাবে পৌঁছায় না। ফলে ভাঁজের গভীরে সাধারণত গাঢ় টোন এবং উঁচু অংশে তুলনামূলক হালকা টোন দেখা যায়।

এখানে শুধু এলোমেলো রেখা টানলে পোশাকের স্বাভাবিক ভাঁজ তৈরি হবে না। কাপড় কোন দিকে টান পড়েছে, কোথায় ভাঁজ জমেছে এবং শরীরের কোন অংশের ওপর কাপড়টি পড়ে আছে- এসব পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

পাতলা ও নরম কাপড়ের ভাঁজ সাধারণত কোমলভাবে পরিবর্তিত হয়। অন্যদিকে মোটা কাপড়ের ভাঁজে আলো ও ছায়ার বৈপরীত্য তুলনামূলক স্পষ্ট হতে পারে। ফলে কাপড়ের ধরন বুঝে শেডিংয়ের ধরনও বদলাতে হবে।

ব্লেন্ডিংয়ে সংযম জরুরি
শেডিং মসৃণ করার জন্য অনেকেই আঙুল, টিস্যু বা ব্লেন্ডিং স্টাম্প ব্যবহার করেন। প্রয়োজন অনুযায়ী এগুলো কাজে লাগানো যায়। তবে অতিরিক্ত ব্লেন্ডিং করলে পেন্সিলের রেখার চরিত্র হারিয়ে যেতে পারে এবং পুরো ছবিটি কৃত্রিমভাবে মসৃণ দেখাতে পারে।

বিশেষ করে ফিগার ড্রয়িংয়ে যেখানে কাঠামো বোঝানো জরুরি, সেখানে পেন্সিলের নিজস্ব টান ধরে রাখা অনেক সময় বেশি কার্যকর। প্রথমে রেখা ও স্তর তৈরি করে প্রয়োজনীয় জায়গাতেই সীমিত ব্লেন্ডিং করা ভালো।

অনুশীলনের জন্য সহজ কয়েকটি পরীক্ষা
আলো-ছায়া শেখার জন্য শুরুতেই মানুষের পূর্ণাঙ্গ ছবি আঁকার প্রয়োজন নেই। একটি বল, একটি ঘনক কিংবা একটি সিলিন্ডার সামনে রেখে বিভিন্ন দিক থেকে আলো ফেলে আঁকার চেষ্টা করা যেতে পারে।

প্রথম দিন একটি নির্দিষ্ট দিক থেকে আলো ফেলে শুধু হাইলাইট, মধ্যম টোন ও ছায়া চিহ্নিত করুন। পরের দিন একই বস্তুতে আলোর দিক পরিবর্তন করুন। এতে আলোর অবস্থান বদলালে ছায়ার আকৃতিও যে বদলে যায়, তা খুব সহজেই বোঝা যাবে।

আরেকটি কার্যকর অনুশীলন হলো একটি ‘ভ্যালু স্কেল’ তৈরি করা। একই পেন্সিল দিয়ে এক প্রান্তে যতটা সম্ভব হালকা এবং অন্য প্রান্তে যতটা সম্ভব গাঢ় টোন তৈরি করতে হবে। এরপর মাঝখানে ধাপে ধাপে বিভিন্ন মাত্রার ধূসর তৈরি করার চেষ্টা করুন। এই ছোট অনুশীলন পরবর্তী সময়ে প্রায় সব ধরনের স্কেচে কাজে লাগবে।

ভালো আঁকার শুরু ভালোভাবে দেখার মধ্যে
আলো-ছায়া শেখার সবচেয়ে বড় শিক্ষক কোনো বই বা ভিডিও নয়- চারপাশের বাস্তব জগৎ। জানালার পাশে রাখা একটি কাপ, টেবিলের ওপর রাখা একটি বই কিংবা বিকেলের আলোয় দাঁড়িয়ে থাকা কোনো মানুষের অবয়ব- সবকিছুই একজন শিল্পীর জন্য অনুশীলনের বিষয় হতে পারে।

কোথায় আলো সবচেয়ে উজ্জ্বল, কোথায় ছায়া গাঢ়, কোথায় ছায়ার প্রান্ত শক্ত এবং কোথায় তা ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে- এসব লক্ষ্য করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। আঁকার আগে কিছুক্ষণ শুধু পর্যবেক্ষণ করাও তাই অনুশীলনের অংশ।

একজন ভালো শিল্পী কেবল যা দেখেন, তা আঁকেন না; তিনি আলো কীভাবে কোনো বস্তুর আকারকে প্রকাশ করছে, সেটিও বোঝার চেষ্টা করেন। সেই বোঝাপড়াই পরে পেন্সিলের প্রতিটি টানে প্রকাশ পায়।

আলো-ছায়া, শেডিং ও টেক্সচার আয়ত্ত করতে সময় লাগে। প্রথম কয়েকটি স্কেচ হয়তো প্রত্যাশামতো নিখুঁত হবে না। কোথাও ছায়া বেশি গাঢ় হবে, কোথাও টোনের পরিবর্তন হঠাৎ হয়ে যাবে, আবার কোনো কোনো টেক্সচার কাঙ্ক্ষিত অনুভূতি দেবে না। তাতে হতাশ হওয়ার কারণ নেই। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও অনুশীলনের মধ্য দিয়েই হাত ধীরে ধীরে চোখের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিতে শেখে।

মাল্টিমিডিয়া কিংডমের এই ধারাবাহিকের পরবর্তী পর্বে আমরা আরও এক ধাপ এগিয়ে পূর্ণাঙ্গ ফিগার ড্রয়িং, ড্রপারি বা পোশাকের ভাঁজ এবং কম্পোজিশনের মৌলিক কৌশল নিয়ে আলোচনা করব। তত দিন পর্যন্ত একটি পেন্সিল, কয়েকটি সাধারণ বস্তু এবং একটি সাদা কাগজ নিয়েই চালিয়ে যান অনুশীলন। কারণ আলোকে বুঝতে শেখা মানেই শুধু ছায়া আঁকা নয়- একটি ছবির ভেতরে প্রাণ তৈরি করতে শেখা।

পেন্সিল স্কেচ ও ফিগার ড্রয়িংয়ের পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস
মাল্টিমিডিয়া কিংডমের পাঠকদের সুবিধার্থে আমাদের এই ধারাবাহিকের সম্পূর্ণ সিলেবাস নিচে দেওয়া হলো:
১. পর্ব এক: বেসিক গ্রামার ও লাইন ড্রয়িং
২. পর্ব দুই: মানবদেহের নিখুঁত অনুপাত ও পরিমাপ
৩. পর্ব তিন: পার্সপেক্টিভ বা পরিপ্রেক্ষিত এবং ফোরশর্টনিং
৪. পর্ব চার: অ্যানাটমি: পেশি ও অস্থির প্রাথমিক ধারণা
৫. পর্ব পাঁচ: অঙ্গপ্রত্যঙ্গ: হাত ও পা আঁকার সহজ কৌশল
৬. পর্ব ছয়: পোর্ট্রেট বা মুখাবয়ব আঁকার নিয়মাবলি
৭. পর্ব সাত: আলো-ছায়া, শেডিং এবং টেক্সচার তৈরি
৮. পর্ব আট: পূর্ণাঙ্গ ফিগার ড্রয়িং, ড্রপারি (পোশাকের ভাঁজ) এবং কম্পোজিশন
৯. পর্ব নয়: অ্যাকশন বা গতিশীল ফিগার ড্রয়িং
১০. পর্ব দশ: নিজস্ব স্টাইল তৈরি ও শিল্পীর করণীয়

আপনার ডিজিটাল সৃজনশীলতার যাত্রার জন্য গ্রাফিক্স ট্যাবলেট খুঁজছেন। তাহলে মাল্টিমিডিয়া কিংডম হতে পারে একমাত্র ভরসার স্থল। দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি পণ্যের প্রতিষ্ঠান ‘মাল্টিমিডিয়া কিংডম’ বিশ্বের নামি-দামি প্রায় সকল ব্র্যান্ডের জেনুইন গ্রাফিক্স ট্যাবলেট ও প্রয়োজনীয় অ্যাক্সেসরিজ বিশ্বস্ততার সাথে সরবরাহ করে আসছে। কেনার আগে সঠিক দিকনির্দেশনা পেতে সরাসরি কথা বলতে পারেন (+8801755532345) মাল্টিমিডিয়া কিংডম এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জুয়েল-এর সাথে। অথবা ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট কিংবা স্টোরে।