ফিগার ড্রয়িং করতে গিয়ে শিল্পীদের মানবদেহের সবচেয়ে বেশি যে দুটি অংশ চ্যালেঞ্জে ফেলে, তা হলো হাত ও পা। মানবদেহের অন্যান্য অংশের তুলনায় এগুলোর নড়াচড়া ও গঠনের ভিন্নতা অনেক বেশি। অনেক সময় একটি নিখুঁত শরীরের স্কেচও কেবল ভুলভাবে আঁকা হাত বা পায়ের কারণে প্রাণহীন মনে হতে পারে। 

মাল্টিমিডিয়া কিংডমের শিল্পানুরাগী পাঠকদের জন্য আয়োজিত এই ধারাবাহিকের গত পর্বে আমরা মানবদেহের অ্যানাটমি, অর্থাৎ কঙ্কাল ও পেশির মৌলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আজকের পঞ্চম পর্বে আমরা জানব কীভাবে জটিল গাণিতিক হিসাব ছাড়া সহজ কিছু জ্যামিতিক কৌশল ব্যবহার করে মানুষের হাত ও পা নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা যায়।

হাতের গঠন বোঝা: সহজ জ্যামিতিক ব্লক
হাত আঁকা শুরু করার সময় প্রথমেই আঙুলের সূক্ষ্ম নকশা করতে যাওয়া যাবে না। হাতের তালুকে একটি চ্যাপ্টা চারকোনা বা কিছুটা ফাঁপা ব্লকের মতো বিবেচনা করতে হবে। বৃদ্ধাঙ্গুলির অংশটি তালুর পাশে একটি ত্রিভুজাকার ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। তালুর ব্লকের ওপর আঙুলগুলো রাখার আগে একটি অর্ধবৃত্তাকার গাইডলাইন টেনে নিন। 

মানুষের মধ্যমা বা মাঝের আঙুলটি সবচেয়ে লম্বা হয়, যা প্রায় হাতের তালুর দৈর্ঘ্যের সমান। তর্জনী ও অনামিকা কিছুটা ছোট এবং কনিষ্ঠা আঙুলটি সবচেয়ে ছোট। আঙুলগুলোকে আলাদা আলাদা করে না ভেবে প্রথমে একটি সংযুক্ত দস্তানা বা গ্লাভসের মতো চিন্তা করুন। যখন মৌলিক রূপটি দাঁড়িয়ে যাবে, তখন ভাজ অনুযায়ী আঙুলগুলোকে আলাদা করে আঁকুন।

আঙুলের ভাঁজ ও পায়ের তালুর পার্সপেক্টিভ
আঙুলগুলোর হাড় তিনটি অংশে বিভক্ত থাকে, যাকে ফেলাঞ্জেস বলা হয়। বুড়ো আঙুলে কেবল দুটি পর্ব থাকে। স্কেচ করার সময় আঙুলগুলোকে ছোট ছোট সিলিন্ডার বা নলাকার টিউব হিসেবে চিন্তা করলে আলো-ছায়া ও ভাজ সহজে বোঝা যায়। 

অন্যদিকে, পা আঁকার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুল হয় পায়ের তালুকে সমতল ভাবা। পায়ের তালু মূলত একটি ওয়েজ বা কীলক আকৃতির ব্লক (যেমন দরজার নিচে আটকানোর জন্য ব্যবহৃত কাঠের ব্লক)। এর গোড়ালি একটি গোলাকার ঘনক, আর পাতার অংশটি সামনের দিকে ছড়িয়ে পড়া ট্রাপিজিয়ামের মতো। পায়ের ভেপাশের অংশটি কিছুটা ওপরে দিকে বাঁকানো বা আর্চ করা থাকে, যা সরাসরি মাটিতে স্পর্শ করে না।

নখ, গিঁট ও দৃশ্যমান হাড়ের উপস্থিতি
হাত ও পায়ের ড্রয়িংকে বাস্তবসম্মত করে তুলতে কিছু ছোট ছোট বিষয়ের ওপর নজর দিতে হয়। আঙুলের পেছনের দিকের প্রতিটি গিঁট বা নকলস সামান্য উঁচু হয়। হাত যখন মুঠো করা হয়, তখন এই গিঁটগুলো একটি বক্ররেখায় অবস্থান করে। পায়ের ক্ষেত্রে গোড়ালির দুই পাশে থাকা উঁচু হাড়ের টুকরো দুটি (অ্যাঙ্কেল বোন) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

মনে রাখবেন, ভেতরের দিকের উঁচু হাড়টি বাইরের দিকেরটির চেয়ে সামান্য ওপরে অবস্থান করে। নখ আঁকার সময় তা আঙুলের ডগার ওপর সমতলভাবে না বসিয়ে কিছুটা গোলাকার বক্রতা বজায় রেখে আঁকতে হবে, যেন তা আঙুলের মাংসল অংশকে আবৃত করে আছে মনে হয়।

দ্রুত স্কেচিং ও অনুশীলনের সঠিক উপায়
হাত ও পা আঁকায় দক্ষতা অর্জনের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো নিজের হাত ও পা দেখে নিয়মিত অনুশীলন করা। আয়নার সামনে নিজের বাঁ হাতটিকে বিভিন্ন কোণে রেখে কয়েক মিনিটের দ্রুত লাইভ স্কেচ করতে পারেন। 

প্রথমে হাতের প্রধান অংশগুলোর জন্য হালকা দাগে আউটলাইন তৈরি করুন, তারপর আলো-ছায়ার অবস্থান নির্দেশ করুন। মুঠো করা হাত, কিছু ধরে থাকা আঙুল কিংবা কেবল ছড়িয়ে রাখা হাতের তালুর ভঙ্গি- প্রতিটি রূপ আলাদা করে চর্চা করুন। একইভাবে পায়ের আঙুলগুলোর পারস্পরিক দূরত্ব ও তাদের ওপর শরীরের ভরের প্রভাব খেয়াল করে স্কেচ করার চেষ্টা করুন।

হাত ও পা আঁকার ভয় কাটিয়ে উঠতে পারলে ফিগার ড্রয়িংয়ের অর্ধেক পথ সহজেই অতিক্রম করা যায়। পেন্সিলের হালকা টানে নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে হাত ও পায়ের জটিল ভঙ্গিগুলোও আপনার কাছে সহজ হয়ে উঠবে। 

মাল্টিমিডিয়া কিংডমের আগামী পর্বে আমরা কথা বলব ফিগার ড্রয়িংয়ের অন্যতম আকর্ষণীয় অধ্যায়- পোর্ট্রেট বা মুখাবয়ব আঁকার নিয়মাবলি নিয়ে। তত দিন পর্যন্ত পেন্সিল হাতে আপনার নিয়মিত চর্চা অব্যাহত রাখুন।

পেন্সিল স্কেচ ও ফিগার ড্রয়িংয়ের পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস
মাল্টিমিডিয়া কিংডমের পাঠকদের সুবিধার্থে আমাদের এই ধারাবাহিকের সম্পূর্ণ সিলেবাস নিচে দেওয়া হলো:
১. পর্ব এক: বেসিক গ্রামার ও লাইন ড্রয়িং
২. পর্ব দুই: মানবদেহের নিখুঁত অনুপাত ও পরিমাপ
৩. পর্ব তিন: পার্সপেক্টিভ বা পরিপ্রেক্ষিত এবং ফোরশর্টনিং
৪. পর্ব চার: অ্যানাটমি: পেশি ও অস্থির প্রাথমিক ধারণা
৫. পর্ব পাঁচ: অঙ্গপ্রত্যঙ্গ: হাত ও পা আঁকার সহজ কৌশল
৬. পর্ব ছয়: পোর্ট্রেট বা মুখাবয়ব আঁকার নিয়মাবলি
৭. পর্ব সাত: আলো-ছায়া, শেডিং এবং টেক্সচার তৈরি
৮. পর্ব আট: পূর্ণাঙ্গ ফিগার ড্রয়িং, ড্রপারি (পোশাকের ভাঁজ) এবং কম্পোজিশন
৯. পর্ব নয়: অ্যাকশন বা গতিশীল ফিগার ড্রয়িং
১০. পর্ব দশ: নিজস্ব স্টাইল তৈরি ও শিল্পীর করণীয়

আপনার ডিজিটাল সৃজনশীলতার যাত্রার জন্য গ্রাফিক্স ট্যাবলেট খুঁজছেন। তাহলে মাল্টিমিডিয়া কিংডম হতে পারে একমাত্র ভরসার স্থল। দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি পণ্যের প্রতিষ্ঠান ‘মাল্টিমিডিয়া কিংডম’ বিশ্বের নামি-দামি প্রায় সকল ব্র্যান্ডের জেনুইন গ্রাফিক্স ট্যাবলেট ও প্রয়োজনীয় অ্যাক্সেসরিজ বিশ্বস্ততার সাথে সরবরাহ করে আসছে। কেনার আগে সঠিক দিকনির্দেশনা পেতে সরাসরি কথা বলতে পারেন (+8801755532345) মাল্টিমিডিয়া কিংডম এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জুয়েল-এর সাথে। অথবা ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট কিংবা স্টোরে।