পকেটবুক ইঙ্কপ্যাড ওয়ান: বড় পর্দায় পড়ার নতুন অভিজ্ঞতা
ডিজিটাল যুগে বই পড়ার অভ্যাস যেমন বদলেছে, তেমনি বদলেছে পাঠকের চাহিদাও। এখন শুধু একটি ই-বুক রিডার থাকলেই হয় না; প্রয়োজন এমন একটি ডিভাইস, যা দীর্ঘ সময় পড়লেও চোখে চাপ সৃষ্টি করবে না, গবেষণাপত্র বা পিডিএফ স্বাচ্ছন্দ্যে পড়তে দেবে, আবার প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ অংশে নোটও লেখা যাবে। এই চাহিদার বাস্তব সমাধান নিয়ে এসেছে পকেটবুক ইঙ্কপ্যাড ওয়ান (PocketBook InkPad One)। বড় ১০.৩ ইঞ্চির ই-ইঙ্ক ডিসপ্লে, স্টাইলাস সমর্থন, উন্মুক্ত ই-বুক ইকোসিস্টেম এবং প্রিমিয়াম নির্মাণশৈলীর সমন্বয়ে এটি আধুনিক পাঠক, শিক্ষার্থী, গবেষক এবং পেশাজীবীদের জন্য একটি পরিণত ই-রিডার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। কিন্ডল-কেন্দ্রিক সীমাবদ্ধতার বাইরে থেকেও এটি এমন একটি অভিজ্ঞতা দিতে চায়, যেখানে কাগজের বইয়ের স্বাচ্ছন্দ্য এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির সুবিধা একই সঙ্গে উপভোগ করা যায়।
ডিভাইস পরিচিতি
‘পকেটবুক ইঙ্কপ্যাড ওয়ান’ মূলত একটি ই-নোট এবং ই-রিডারের সমন্বিত রূপ, যা ব্যবহারকারীদের জন্য নিয়ে এসেছে ‘অ্যাকটিভ রিডিং’-এর এক নতুন বেঞ্চমার্ক। ইরিডারস ফোরাম ব্লগ এবং আন্তর্জাতিক শীর্ষস্থানীয় রিভিউ সাইটগুলোর বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এমন একটি প্রিমিয়াম ডিভাইস যা একই সঙ্গে বই পড়া এবং নোট নেওয়ার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী অভিজ্ঞতা প্রদান করে। এতে রয়েছে লিনাক্স ৪.৯.৫৬ অপারেটিং সিস্টেম, যা ডিভাইসটিকে অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং ব্যবহারবান্ধব করেছে। অ্যাডোবি এবং এলসিপি ডিআরএমসহ প্রায় ২৫টিরও বেশি ই-বুক এবং অডিও ফরম্যাট সাপোর্ট করার কারণে থার্ড-পার্টি অ্যাপ ছাড়াই নির্বিঘ্নে যেকোনো প্ল্যাটফর্ম থেকে বই পড়া বা শোনার সুযোগ রয়েছে এতে।

আনবক্সিং
বক্সটি হাতে নিলেই এর প্রিমিয়াম প্যাকেজিংয়ের বিষয়টি চোখে পড়বে। বক্স খুললেই প্রথমেই দেখা মিলবে বহুকাঙ্ক্ষিত পকেটবুক ইঙ্কপ্যাড ওয়ান ডিভাইসটির। ডিভাইসের নিচেই অত্যন্ত সুরক্ষিতভাবে রাখা আছে একটি অত্যাধুনিক অ্যাকটিভ স্টাইলাস বা ডিজিটাল পেন্সিল। এছাড়া বক্সের ভেতরে রয়েছে একটি ইউএসবি টাইপ-সি কেবল, যা দ্রুত চার্জিং এবং ডেটা ট্রান্সফারের জন্য ব্যবহৃত হয়। সাথে রয়েছে কিছু প্রয়োজনীয় ইউজার ম্যানুয়াল বা ডকুমেন্টেশন, যা নতুন ব্যবহারকারীদের ডিভাইসটি সহজে সেটআপ করতে সাহায্য করবে।
ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি
ডিজাইন এবং বিল্ড কোয়ালিটির দিক থেকে ডিভাইসটি আভিজাত্য এবং টেকসই গঠনের এক নিখুঁত উদাহরণ। এর ফ্রেমটি তৈরি করা হয়েছে প্রিমিয়াম অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে, যা এটিকে বেশ মজবুত ও আকর্ষণীয় করেছে। বাটন-ফ্রি ডিজাইনের কারণে এর সামনের অংশটি একদম ছিমছাম এবং আধুনিক। এর দৈর্ঘ্য ২৪৪ মিলিমিটার, প্রস্থ ১৭৩ মিলিমিটার এবং পুরুত্ব মাত্র ৫ মিলিমিটার। মেটাল ফ্রেম হওয়া সত্ত্বেও এর ওজন মাত্র ৪০০ গ্রাম, যা দীর্ঘক্ষণ একহাতে ধরে পড়ার জন্য দারুণ মানানসই। ম্যাট ফিনিশের কারণে এতে সহজে আঙুলের ছাপ পড়ে না, যা ডিভাইসটিকে সবসময় নতুনের মতো ঝকঝকে রাখে।
ডিসপ্লে ও রিডিং অভিজ্ঞতা
যেকোনো ই-রিডারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এর ডিসপ্লে, আর এখানেই ডিভাইসটি তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ১০.৩ ইঞ্চির (২৬.১২ সেন্টিমিটার) সুবিশাল ই-ইঙ্ক মোবিয়াস ক্যাপাসিটিভ মাল্টিসেন্সর স্ক্রিন। এর রেজ্যুলেশন ১৪০৪ × ১৮৭২ পিক্সেল এবং পিক্সেল ডেনসিটি ২২৬ পিপিআই (PPI), যা প্রতিটি অক্ষরকে করে তোলে একেবারে আসল ছাপানো কাগজের মতো তীক্ষ্ণ ও স্পষ্ট। ডিসপ্লেটি সম্পূর্ণ গ্লেয়ার-ফ্রি এবং চোখের জন্য নিরাপদ, ফলে দীর্ঘক্ষণ পড়লেও চোখে কোনো ক্লান্তি আসে না। স্মার্টলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবেশের আলো অনুযায়ী এর ব্রাইটনেস এবং কালার টেম্পারেচার স্বয়ংক্রিয়ভাবে মানিয়ে যায়।
স্টাইলাস ও হাতে লেখা নোট
পকেটবুক ইঙ্কপ্যাড ওয়ান (PocketBook InkPad One)-এর অন্যতম শক্তিশালী বৈশিষ্ট্য হলো অ্যাক্টিভ স্টাইলাস (Active Stylus) সমর্থন। ই-রিডারটি শুধু বই পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি ডিজিটাল নোটবুক হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।
স্টাইলাস দিয়ে সরাসরি পিডিএফের ওপর মন্তব্য লেখা, গুরুত্বপূর্ণ অংশে দাগ টানা, ক্লাস লেকচার নোট নেওয়া কিংবা দ্রুত কোনো ধারণা লিখে রাখার সুযোগ রয়েছে। লেখার সময় কলম ও স্ক্রিনের প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক হওয়ায় কাগজে লেখার অনুভূতির সঙ্গে বেশ মিল পাওয়া যায়।

নোটগুলো পরে সংরক্ষণ, সম্পাদনা কিংবা এক্সপোর্ট করার সুবিধাও রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক, প্রকৌশলী, চিকিৎসক কিংবা আইনজীবীদের মতো নিয়মিত ডকুমেন্ট নিয়ে কাজ করা ব্যবহারকারীদের জন্য এটি একটি কার্যকর সমাধান।
পারফরম্যান্স
পারফরম্যান্সের দিক থেকেও ডিভাইসটি দারুণ শক্তিশালী। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ১.৮ গিগাহার্টজ গতির কোয়াড-কোর (Rockchip RK3566) প্রসেসর, যা প্রতিটি কমান্ডকে দ্রুত ও নিখুঁতভাবে প্রসেস করতে সক্ষম। বইয়ের পাতা উল্টানো, বড় সাইজের পিডিএফ ফাইল ওপেন করা কিংবা নোট নেওয়ার সময় মাল্টিটাস্কিং- সবকিছুতেই এটি দেয় ল্যাগ-ফ্রি এবং স্মুথ অভিজ্ঞতা।
অপারেটিং সিস্টেম ও ফাইল সমর্থন
পকেটবুক ইঙ্কপ্যাড ওয়ান (PocketBook InkPad One) লিনাক্স ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম হওয়ায় এটি অত্যন্ত স্থিতিশীল। কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস না থাকায় ডিভাইসটি সবসময় তার সর্বোচ্চ সক্ষমতায় কাজ করতে পারে।
ডিভাইসটি EPUB, PDF, PDF DRM, MOBI, FB2, DJVU, DOC, DOCX, TXT, HTML, RTF, CHM, CBZ, CBR-সহ ২৫টিরও বেশি জনপ্রিয় ডকুমেন্ট ও ই-বুক ফরম্যাট সমর্থন করে। ফলে বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করা বই বা নথি সহজেই পড়া যায়।

PocketBook Cloud, Dropbox, WebDAV এবং Send-to-PocketBook সুবিধার মাধ্যমে কম্পিউটার, স্মার্টফোন এবং ই-রিডারের মধ্যে বই ও নথি সমন্বয় করা যায়। একই বই বিভিন্ন ডিভাইসে পড়লেও শেষ কোথায় পড়া হয়েছে, সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষিত থাকে।
ব্যাটারি
যেকোনো পোর্টেবল ডিভাইসের ক্ষেত্রে ব্যাটারি লাইফ একটি বড় বিবেচ্য বিষয়। পকেটবুক ইঙ্কপ্যাড ওয়ানে দেওয়া হয়েছে ৩৭০০ এমএএইচ ধারণক্ষমতার একটি শক্তিশালী ব্যাটারি। কোম্পানিটির অফিশিয়াল তথ্যমতে, একবার সম্পূর্ণ চার্জ করলে আপনার পড়ার ধরন, কানেক্টিভিটি এবং সেটিংসের ওপর ভিত্তি করে এটি টানা এক মাস পর্যন্ত ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। ফলে দীর্ঘ ভ্রমণের ক্ষেত্রে চার্জিং নিয়ে আর কোনো দুশ্চিন্তা থাকে না।

কানেক্টিভিটি, অডিও এবং সেন্সর
কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রেও এতে আধুনিক সব সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। ডুয়াল-ব্যান্ড ওয়াই-ফাই (২.৪ এবং ৫ গিগাহার্টজ) এবং ব্লুটুথ ৫.০-এর মাধ্যমে সহজেই ক্লাউড সিঙ্কিং এবং ওয়্যারলেস হেডফোন যুক্ত করা যায়। ডেটা ট্রান্সফার এবং চার্জিংয়ের জন্য রয়েছে ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট, যা ওটিজি সাপোর্ট করে। অডিও শোনার ক্ষেত্রেও এটি দুর্দান্ত; টাইপ-সি থেকে ৩.৫ মিমি অ্যাডাপ্টারের মাধ্যমে খুব সহজেই ইয়ারফোন ব্যবহার করে অডিওবুক শোনা যায়। এছাড়া এর চমৎকার টেক্সট-টু-স্পিচ ফিচারের সাহায্যে ইংরেজি এবং আরও বেশ কিছু ভাষায় যেকোনো টেক্সটকে অনায়াসে অডিওতে রূপান্তর করে শোনা সম্ভব। ডিভাইসটির জি-সেন্সর স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্রিন রোটেশন নিয়ন্ত্রণ করে এবং কাভার সেন্সরের মাধ্যমে স্মার্ট স্লিপ বা ওয়েক ফিচারটি নিখুঁতভাবে কাজ করে।
র্যাম, রম এবং কালার ভেরিয়েন্ট
পকেটবুক ইঙ্কপ্যাড ওয়ান ডিভাইসটি মেমোরি এবং রঙের একটি নির্দিষ্ট ও প্রিমিয়াম ভেরিয়েন্টেই বাজারে নিয়ে আসা হয়েছে। ডিভাইসটিতে রয়েছে ২ গিগাবাইট র্যাম এবং ৩২ গিগাবাইট রম বা ইন্টারনাল স্টোরেজ। ৩২ গিগাবাইট স্টোরেজের মধ্যে সিস্টেম কনফিগারেশনের জন্য সামান্য জায়গা বাদে বাকি পুরোটা জুড়েই হাজার হাজার ই-বুক, অডিওবুক এবং জরুরি নোটস অনায়াসেই সেভ করে রাখা যায়। রঙ বা কালার ভেরিয়েশনের দিক থেকে ডিভাইসটি অত্যন্ত অভিজাত ‘ম্যাট ব্ল্যাক’ রঙে পাওয়া যাচ্ছে, যা এর অ্যালুমিনিয়াম বডিকে আরও বেশি আকর্ষণীয় এবং প্রফেশনাল রূপ দিয়েছে।
একনজরে ডিভাইসটি
ডিসপ্লে: ১০.৩ ইঞ্চি ই-ইঙ্ক মোবিয়াস ক্যাপাসিটিভ মাল্টিসেন্সর।
রেজ্যুলেশন: ১৪০৪ × ১৮৭২ পিক্সেল (২২৬ পিপিআই)।
প্রসেসর: ১.৮ গিগাহার্টজ কোয়াড-কোর।
অপারেটিং সিস্টেম: লিনাক্স ৪.৯.৫৬ (Linux 4.9.56)।
মেমোরি: ২ গিগাবাইট র্যাম (RAM) এবং ৩২ গিগাবাইট স্টোরেজ (Storage)।
ব্যাটারি: ৩৭০০ এমএএইচ (এক মাস পর্যন্ত ব্যাটারি লাইফ)।
কানেক্টিভিটি: ওয়াই-ফাই (২.৪ / ৫ গিগাহার্টজ), ব্লুটুথ ৫.০, ইউএসবি টাইপ-সি (OTG সাপোর্টেড)।
বিশেষ ফিচার: স্মার্টলাইট, অ্যাকটিভ স্টাইলাস সাপোর্ট, জি-সেন্সর, কভার সেন্সর এবং টেক্সট-টু-স্পিচ।
ওজন ও পরিমাপ: ৪০০ গ্রাম; ২৪৪ × ১৭৩ × ৫ মিলিমিটার।
কালার: ম্যাট ব্ল্যাক (Matte Black)।

যাদের জন্য উপযোগী
সবদিক বিবেচনা করে বলা যায়, পকেটবুক ইঙ্কপ্যাড ওয়ান নিছক কোনো ই-রিডার নয়, বরং এটি সৃজনশীল মানুষ, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং পেশাদারদের জন্য এক অমূল্য রত্ন। যারা স্ক্রিন-ফ্যাটিগ বা চোখের ক্লান্তি ছাড়া ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই পড়তে চান এবং সেই সাথে নোট নেওয়ার জন্য একটি নিখুঁত ডিজিটাল ক্যানভাসের খোঁজ করছেন, তাদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে সেরা পছন্দ। এর দৃষ্টিনন্দন ডিজাইন, কাগজের মতো বিশাল ডিসপ্লে, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি এবং শক্তিশালী পারফরম্যান্স এটিকে বাজারে থাকা অন্যান্য ডিভাইসের চেয়ে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আপনি যদি আপনার পড়ার জগৎকে এক নতুন মাত্রায় উন্নীত করতে চান, তবে পকেটবুক ইঙ্কপ্যাড ওয়ান হতে পারে আপনার নিত্যদিনের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী।
কোথায় পাবেন?
বাংলাদেশের ই-বুকপ্রেমী ও প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য আমরাই (মাল্টিমিডিয়া কিংডম) পকেটবুকসহ শীর্ষস্থানীয় সকল ব্র্যান্ডের ই-রিডার বিশ্বস্ততার সাথে বাজারজাত করে আসছি। অফিশিয়াল ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে আমাদের কাছেই পেয়ে যাবে পকেটবুক ইঙ্কপ্যাড ওয়ান (PocketBook InkPad One) ডিভাইসটি। কেবল বিক্রিই নয়, বিক্রয়োত্তর সেবা বা আফটার সেলস সাপোর্ট এবং ডিভাইসটির জন্য প্রয়োজনীয় অরিজিনাল অ্যাক্সেসরিজের (যেমন কাভার, স্টাইলাস নিব) জন্য মাল্টিমিডিয়া কিংডম দেশের গ্রাহকদের কাছে সবচেয়ে আস্থাশীল নাম।
তাই, যেকোনো ই-রিডার কেনার আগে জেনে-বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে আজই ভিজিট করুন মাল্টিমিডিয়া কিংডমের ওয়েবসাইট কিংবা স্টোরে। অথবা সরাসরি কথা বলুন (+8801755532345) আমাদের সিইও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জুয়েল-এর সাথে।