এক্সটিইইঙ্ক এক্স৩ বনাম এক্স৪: কোন কমপ্যাক্ট ই-রিডারটি আপনার জন্য?
এক্সটিইইঙ্ক (Xteink) তাদের সুনাম গড়েছে একটি সাধারণ ধারণার ওপর ভিত্তি করে, আর সেটি হলো পকেটে অনায়াসে এঁটে যাওয়ার মতো ছোট আকারের একটি ই-রিডার। কোম্পানিটির এক্স৩ এবং এক্স৪ ডিভাইস দুটিকে প্রায়ই পাশাপাশি রেখে তুলনা করা হয়, কারণ এদের মূল দর্শন একই হলেও স্ক্রিনের আকার, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং কিছু ছোটখাটো হার্ডওয়্যারের ক্ষেত্রে এদের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। স্পেসিফিকেশন শিটের চেয়ে দৈনন্দিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোই বেশি গুরুত্ব পায়। কোনোটিই ফ্ল্যাগশিপ পণ্য না হলেও এগুলোর মূল আকর্ষণ হলো এর আকার, দাম এবং সহজে ব্যবহার করার মতো বিষয়গুলো।
একনজরে চূড়ান্ত মত
ডিভাইস দুটির স্ক্রিনের মানের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও তা খুব সামান্য, এবং বেশির ভাগ ক্রেতার ক্ষেত্রে এটি বিবেচনায় নেওয়ার মতো বড় কোনো কারণ হওয়া উচিত নয়। হাতের আকার এবং বাটনের পছন্দ এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ: যাঁদের হাত তুলনামূলক বড়, তাঁরা এক্সটিইইঙ্ক এক্স৪ (XTEINK X4) স্বাচ্ছন্দ্যে ধরে রাখতে পারেন এবং ভুলবশত বাটন চাপা পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে না। অন্যদিকে, এক্সটিইইঙ্ক এক্স৩-এর (XTEINK X3) পাশের বাটন এবং এনএফসি সাপোর্ট তাঁদের আকৃষ্ট করবে, যাঁরা যতটা সম্ভব ছোট আকারের ডিভাইস খুঁজছেন। তবে, বর্তমানে যাঁরা কিনবেন ভাবছেন, তাঁদের জন্য এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
ডিসপ্লের মান
এক্স৩-তে প্রায় ২৫৯ পিপিআই রেজ্যুলিউশনসহ ৩.৭ ইঞ্চির প্যানেল রয়েছে, যেখানে এক্স৪-এ রয়েছে প্রায় ২১৯ পিপিআই রেজ্যুলিউশনসহ ৪.৩ ইঞ্চির প্যানেল। কাগজে-কলমে এই রেজ্যুলিউশনের পার্থক্যটি এক্স৩-কে এগিয়ে রাখছে। যাঁরা দুটি ডিভাইসই ব্যবহার করেছেন, তাঁরা জানান যে ছোট স্ক্রিনে লেখা কিছুটা বেশি স্পষ্ট দেখায় এবং কনট্রাস্ট সামান্য ভালো। তবে বাস্তবে এই পার্থক্য এতটাই সূক্ষ্ম যে, খুব কাছ থেকে ছবি না তুললে বা পাশাপাশি রেখে তুলনা না করলে তা সহজে চোখে পড়ে না। পড়ার স্বাভাবিক দূরত্বে উভয় ডিভাইসের টেক্সটই পরিষ্কার দেখায়।
এটি মনে রাখা জরুরি যে, ই-ইঙ্ক (E-Ink) ডিসপ্লের ক্ষেত্রে কেবল পিপিআই সংখ্যা দিয়ে পুরো বিষয়টি বিবেচনা করা যায় না। প্যানেল জেনারেশন, কনট্রাস্ট টিউনিং এবং পাঠকের চোখ ও ডিসপ্লের মাঝখানে থাকা স্তরগুলোর সংখ্যা, এসব কিছুই পিক্সেল ঘনত্বের মতো স্ক্রিনের স্পষ্টতাকে সমানভাবে প্রভাবিত করে। ৪০ পিপিআইয়ের এই সুবিধা শুনতে বড় মনে হলেও, হাতে নেওয়ার পর এটি কেবল একটি 'বাড়তি সুবিধা' হিসেবেই মনে হয়; একটি ডিভাইস বাদ দিয়ে অন্যটি বেছে নেওয়ার মতো বড় কোনো কারণ হিসেবে নয়।
ডিজাইন ও বাটন লেআউট
ঠিক এই জায়গাটিতেই ডিভাইস দুটির আসল পার্থক্য ফুটে ওঠে এবং স্পেসিফিকেশনের চেয়ে ব্যক্তিগত পছন্দ এখানে বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত। এক্স৪-এ মাইক্রোএসডি স্লট, রিসেট বাটন এবং ইউএসবি-সি পোর্টের পাশাপাশি একটি রকার-স্টাইল কন্ট্রোল হিসেবে ফরওয়ার্ড ও ব্যাক বাটন একসঙ্গে এক পাশে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, এক্স৩-তে দুই পাশে আলাদা কাজের জন্য বাটন ভাগ করে দেওয়া হয়েছে- এগুলো ইনভার্টেবল, অর্থাৎ যেকোনো পাশই ফরওয়ার্ড বা ব্যাক বাটন হিসেবে কাজ করতে পারে। এতে ইউএসবি-সি পোর্টের বদলে চার্জিংয়ের জন্য একটি প্রোপাইটারি পোগো-পিন ক্যাবল ব্যবহার করা হয়েছে।
যাঁদের হাত তুলনামূলক বড়, তাঁরা জানান যে এক্স৪-এ ভুলবশত দুবার বাটন চাপা পড়ার ঘটনা কম ঘটে, কারণ এর বাটনগুলো কিছুটা নিচে এবং স্বাভাবিকভাবে ধরে রাখার পজিশনের কাছাকাছি থাকে। এক্স৩-এর দুই পাশের বাটনের কারণে যাদের হাত বড় তারা মাঝেমধ্যেই একসঙ্গে দুটি বাটন চেপে ফেলতে পারেন। তবে ছোট হাতের ব্যবহারকারীদের কাছে এক্স৩-এর আরও বেশি কমপ্যাক্ট আকার এক হাতে ব্যবহারের জন্য সুবিধাজনক মনে হতে পারে।
এক্স৩-তে একটি 'টিল্ট-টু-টার্ন-পেজ' সেন্সর এবং এনএফসি সাপোর্ট রয়েছে, যা এক্স৪-এ নেই। এগুলো ছোটখাটো সুবিধা হলেও ছোট ডিভাইসটিতে বাড়তি কিছু ফাংশনালিটি যোগ করে। তবে এক্স৩-এর চার্জিং ক্যাবলটি পরিষ্কারভাবেই একটি ডাউনগ্রেড: এক্স৪-এর স্ট্যান্ডার্ড ইউএসবি-সি পোর্টের তুলনায় একটি প্রোপাইটারি পোগো কানেক্টর অনেক কম সুবিধাজনক, বিশেষ করে ভ্রমণ করার সময়।
সফটওয়্যার
দুটি ডিভাইসেই স্টক ফার্মওয়্যার দেওয়া আছে। যাঁরা এই দুটি ডিভাইসের যেকোনো একটি কেনার কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: হার্ডওয়্যারের পার্থক্যগুলো সফটওয়্যার অভিজ্ঞতার কাছে প্রায় গৌণ। কো-রিডার বা কমিউনিটি-নির্মিত ক্রসপয়েন্ট ফার্মওয়্যার ইনস্টল করার পর দুটি মডেলই অনেক ভালো পারফর্ম করে।
বিকল্প ফার্মওয়্যার ইনস্টল করার পর কাস্টম ফন্ট সাইডলোডিং, অ্যাডজাস্টেবল লেআউট সেটিংস এবং আরও স্থিতিশীল ফাইল হ্যান্ডলিংয়ের সুবিধা পাওয়া যায়। ডিভাইস দুটির পারফরম্যান্স প্রায় একই রকম, কারণ এগুলোর মূল হার্ডওয়্যার একই। তবে, ক্রসপয়েন্ট-এর কিছু নির্দিষ্ট ভার্সন আগের বিল্ডগুলোর চেয়ে কম দক্ষতার সঙ্গে চলে বলে লক্ষ করা গেছে।
যাঁরা এখনো এই সিরিজের কোনো ডিভাইস কেনেননি, তাঁদের জন্য ওপরে আলোচিত বিষয়গুলোর চেয়ে এই বিষয়টি সিদ্ধান্ত গ্রহণে বেশি প্রভাব ফেলবে। এক্স৩ এবং এক্স৪ কেবল সেই পাঠকদের জন্যই প্রাসঙ্গিক, যাঁরা নির্দিষ্টভাবে টাচ বা লাইট লেয়ার ছাড়া একটি সাধারণ, শুধু বাটন-যুক্ত ডিভাইস চান। কিছু পাঠক সত্যিই এটি পছন্দ করেন, কারণ অতিরিক্ত ডিসপ্লে লেয়ার মাঝেমধ্যে ই-ইংক টেক্সটকে কিছুটা অনুজ্জ্বল করে তুলতে পারে। কিন্তু বর্তমানে যাঁরা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন এবং কেনার কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য এক্স৪ প্রো ছোট ডিভাইসগুলোর সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা দূর করেছে; আর সেটিও মূল সিরিজের আকর্ষণীয় ছোট আকারটি বজায় রেখেই।
কার কোনটি কেনা উচিত
যেসব ক্রেতা সবচেয়ে ছোট ডিভাইসটি চান, প্রোপাইটারি চার্জিং ক্যাবল নিয়ে যাঁদের আপত্তি নেই এবং যাঁরা মাঝেমধ্যে এনএফসি বা টিল্ট-টু-টার্ন ফিচার ব্যবহার করতে চান, তাঁদের জন্য এক্স৩ উপযুক্ত।
যাঁদের হাতের আকার তুলনামূলক বড়, যাঁরা ইউএসবি-সি চার্জিং পছন্দ করেন এবং কিছুটা বড় আকার হলেও যাঁদের সমস্যা নেই, তাঁদের এক্স৪-এর দিকেই ঝোঁকা উচিত। পূর্নাঙ্গ রিভিউ দেখতে এই লিংকে ক্লিক করুন।
যাঁরা স্ট্যান্ডার্ড কিন্ডল (Kindle) বা বড় কোনো ই-রিডার থেকে শিফট করতে চাচ্ছেন এবং রাতে পড়ার জন্য ফ্রন্ট লাইট আশা করছেন, তাঁদের এই দুটির কোনোটিই না কিনে এক্স৪ প্রো বেছে নেওয়া উচিত, কারণ এই মডেল দুটির কোনোটিতেই এই ফিচার নেই।
একটি স্বতন্ত্র ডিভাইস হিসেবে এক্স৩ কেমন কাজ করে, তা আরও ভালোভাবে জানার জন্য আমাদের সম্পূর্ণ রিভিউটি পড়ে দেখতে পারেন।
মূল পার্থক্য
• স্ক্রিন: এক্স৩-এর উচ্চ-পিপিআই স্ক্রিন এক্স৪-এর তুলনায় সামান্য ভালো কনট্রাস্ট দেয়, তবে স্বাভাবিক পড়ার দূরত্বে এই পার্থক্য খুব একটা চোখে পড়ে না।
• এরগোনমিকস: স্ক্রিন স্পেকসের চেয়ে বাটনের লেআউট এবং হাতের আকার বেশি গুরুত্বপূর্ণ- বড় হাতের জন্য এক্স৪ বেশ মানানসই, অন্যদিকে এক্স৩-এর ছোট শেল এবং এনএফসি সাপোর্ট মিনিমালিস্টদের আকৃষ্ট করে।
• চার্জিং পোর্ট: এক্স৪-এর ইউএসবি-সি পোর্টের তুলনায় এক্স৩-এর প্রোপাইটারি পোগো চার্জিং ক্যাবলটি ডিভাইসটিকে পিছিয়ে রাখবে।
• সফটওয়্যার: দুটি ডিভাইসের স্টক ফার্মওয়্যারের পাশাপাশি স্থিতিশীল অভিজ্ঞতার জন্য কোরিডার (KOReader) বা ক্রসপয়েন্ট (CrossPoint) ফার্মওয়্যার ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
• ফ্রন্ট লাইট: কোনো ডিভাইসেই ফ্রন্ট লাইট নেই, যা নতুন এক্সটিইইঙ্ক এক্স৪ প্রো-তে আনা হয়েছে।
২৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের প্রতিষ্ঠান ‘মাল্টিমিডিয়া কিংডম’ বাংলাদেশে ডিজিটাল রিডিং, রাইটিং, ক্রিয়েটিভিটি, প্রিমিয়াম ও হাই-ফাই অডিও এবং পেশাদার প্রযুক্তির এক নির্ভরযোগ্য বিশ্বস্ত ঠিকানা হিসেবে সেবা দিয়ে আসছে।
আমরা স্বগৌরবের সাথে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোকে বাংলাদেশের বাজারে সরবরাহ করে আসছি- যার মধ্যে রয়েছে BOOX, PocketBook, Bigme, Wacom, XP-Pen, Huion, Xencelab, Xteink, Audio-Technica, Fosi Audio, Sonos, Swan, WiiM, Obsbot, Czur, DJI, Insta360, Cammpro, Digidraw-সহ আরও নানা বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড।
তাই ই-রিডার, গ্রাফিক্স ট্যাবলেট, হাই-ফাই অডিও সিস্টেম, কনটেন্ট ক্রিয়েশন গিয়ার কিংবা পেশাদার প্রযুক্তির সেরা সমাধান খুঁজছেন? আপনার যেকোনো প্রয়োজনে আমরা আছি সবসময় আপনার পাশে!