ডিজিটাল আর্ট বা গ্রাফিক্স ডিজাইনে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে কিংবা নিছক শখের বশে আঁকাআঁকি করতে গেলেও, বর্তমানে ড্রয়িং ট্যাবলেট এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ। বাজারে নতুন কোনো মডেল এলেই আমাদের মনে নানা প্রশ্ন উঁকি দেয়- কত প্রেশার লেভেল থাকা ভালো, কোন ব্র্যান্ড সবচেয়ে টেকসই, কিংবা বড় পর্দার কোনো বিকল্প আছে কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমরা অনেক সময় ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। দেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য গ্যাজেট ও আইটি পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘মাল্টিমিডিয়া কিংডম’-এর অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, ক্রেতারা ট্যাবলেট কেনার আগে প্রায়শই বেশ কিছু সাধারণ ভুল করে থাকেন।

চলুন জেনে নিই, নতুন ড্রয়িং ট্যাবলেট কেনার সময় কোন ৭টি ভুল আমাদের এড়িয়ে চলা উচিত।

সাধ্যের মধ্যে সবচেয়ে বড় ট্যাবলেট কেনার প্রবণতা
বাজেট থাকলে অনেকেই মনে করেন, সবচেয়ে বড় পর্দার ড্রয়িং ট্যাবলেটটিই কেনা উচিত। বড় পর্দায় কাজ করার সুবিধা থাকলেও, এটি সবসময় সেরা নাও হতে পারে। একটি বড় আকারের ট্যাবলেট আপনার কাজের টেবিলে অনেকখানি জায়গা দখল করে নেয়। তাছাড়া বড় পর্দায় আঁকতে গিয়ে হাত অনেক বেশি নাড়াচাড়া করতে হয়, যা দীর্ঘক্ষণ কাজ করার ক্ষেত্রে বেশ ক্লান্তিকর। অনেকেই মাঝারি আকারের ট্যাবলেটে কাজ করে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তাই নিজের টেবিলের আকার ও কাজের ধরন অনুযায়ী সঠিক মাপের ট্যাবলেট বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

প্রেশার সেনসিটিভিটি নিয়ে অতিরিক্ত মাতামাতি
নতুন কোনো ট্যাবলেটে ১৬ হাজার মাত্রার প্রেশার সেনসিটিভিটি যুক্ত হওয়ার খবর শুনলেই অনেকে ভাবতে শুরু করেন, পুরোনো মডেলগুলো হয়তো আর ব্যবহারযোগ্য নয়। তবে সত্যি বলতে, বর্তমান সময়ের ড্রয়িং ট্যাবলেটগুলো এমনিতেই বেশ সংবেদনশীল। একটি নির্দিষ্ট মাত্রার পর প্রেশার লেভেলের চেয়ে কলমের অনুভূতি, ক্যালিবারেশন এবং আপনার ব্যবহৃত সফটওয়্যার কতটা সুচারুভাবে ব্রাশ নিয়ন্ত্রণ করছে, সেগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। সাধারণ ও পেশাদার কাজের জন্য ৮ হাজার মাত্রার প্রেশার লেভেলই যথেষ্ট।

সফটওয়্যার সমর্থন যাচাই না করা
ট্যাবলেটের বাহ্যিক স্পেসিফিকেশন হয়তো দারুণ, কিন্তু আপনি যে সফটওয়্যারে নিয়মিত কাজ করবেন, সেটির সঙ্গে যদি ঠিকমতো মানিয়ে না নেয়, তবে পুরো বিনিয়োগই বৃথা। কেনার আগে আপনার পছন্দের সফটওয়্যারগুলোর সঙ্গে (যেমন- ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর বা অন্য কোনো অ্যাপ) ট্যাবলেটটি কতটা মানানসই, তা যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে ‘মাল্টিমিডিয়া কিংডম’-এর মতো নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান থেকে কেনার আগে সফটওয়্যার সামঞ্জস্যের বিষয়টি বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন।

প্রথম ট্যাবলেটের পেছনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়
ডিজিটাল আর্টের জগতে পা রাখতেই অনেকে এমন সব ট্যাবলেট কিনে বসেন, যেগুলো মূলত পেশাদার শিল্পীদের জন্য তৈরি। যিনি সবেমাত্র কাজ শিখছেন, তাঁর জন্য এত দামি ডিভাইসের কোনো প্রয়োজন নেই। এমন একটি গ্যাজেট বেছে নেওয়া উচিত, যা সাশ্রয়ী হওয়ার পাশাপাশি আপনাকে নতুন কিছু শিখতে ও আঁকতে উৎসাহ জোগাবে। প্রথম ট্যাবলেটটি এমন হওয়া উচিত, যার দাম নিয়ে আপনাকে সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় ভুগতে না হয়।

নির্দিষ্ট একটি ব্র্যান্ডকেই সেরা মনে করা
দীর্ঘদিন ধরে হয়তো একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে আছে, কিন্তু এখন সময় বদলেছে। অন্যান্য পরিচিত ব্র্যান্ডগুলোও এখন বেশ সাশ্রয়ী দামে দারুণ সব ফিচার ও উন্নতমানের ট্যাবলেট তৈরি করছে। তাই নির্দিষ্ট কোনো ব্র্যান্ডের প্রতি অন্ধভক্তি না রেখে, নিজের প্রয়োজন ও বাজেটের সঙ্গে মানানসই যেকোনো ভালো ব্র্যান্ডের ডিভাইস বেছে নিতে পারেন। বর্তমানে ‘মাল্টিমিডিয়া কিংডম’-এ বিভিন্ন স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের ড্রয়িং ট্যাবলেট পাওয়া যায়, যেখান থেকে সরাসরি যাচাই-বাছাই করে আপনি নিজের জন্য সেরাটি বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

কেবল স্পেসিফিকেশনে জোর দেওয়া
পর্দার রেজ্যুলিউশন, রঙের সঠিক মাত্রা বা রিফ্রেশ রেটের মতো স্পেসিফিকেশনগুলো নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। তবে দীর্ঘক্ষণ কাজ করার পর ট্যাবলেটটি ব্যবহারে কতটা আরামদায়ক, সেটাই একসময় মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। কলমের গ্রিপ, শর্টকাট বাটনের অবস্থান এবং হাত রাখার জায়গা- এই বিষয়গুলো এড়িয়ে গেলে দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক অস্বস্তি বা কবজিতে ব্যথা দেখা দিতে পারে। তাই গ্যাজেটটি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা যেন আরামদায়ক হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

কাজের পরিবেশ ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রের কথা ভুলে যাওয়া
অনেকেই ট্যাবলেট কেনার সময় শুধু ডিভাইসটির ওপরই মনোযোগ দেন, কিন্তু স্ট্যান্ড, স্ক্রিন প্রোটেক্টর বা অতিরিক্ত নিবের মতো প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক অ্যাক্সেসরিজের কথা বেমালুম ভুলে যান। দীর্ঘক্ষণ ঘাড় নিচু করে কাজ না করে স্বাচ্ছন্দ্যে আঁকাআঁকির জন্য একটি ভালোমানের স্ট্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্যাবলেট কেনার বাজেটের মধ্যেই এই ছোট কিন্তু জরুরি অনুষঙ্গগুলোর হিসাব রাখা উচিত। আর দেশের বাজারে এসব প্রয়োজনীয় অ্যাক্সেসরিজের একমাত্র নির্ভরযোগ্য স্থান মাল্টিমিডিয়া কিংডম।

পরিশেষে
নতুন একটি ড্রয়িং ট্যাবলেট কেনা যেকোনো সৃজনশীল মানুষের জন্যই এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। তবে বিজ্ঞাপনের চমকে বিভ্রান্ত না হয়ে বা কেবল সর্বোচ্চ স্পেসিফিকেশনের পেছনে না ছুটে, নিজের কাজের ধরন ও আরামের বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত। একটু সময় নিয়ে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিলে আপনার বিনিয়োগটি যেমন সার্থক হবে, তেমনি আপনার সৃজনশীল যাত্রাও হবে অনেক বেশি আনন্দদায়ক।

কেনো মাল্টিমিডিয়া কিংডম?
২৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের প্রতিষ্ঠান ‘মাল্টিমিডিয়া কিংডম’ বাংলাদেশে ডিজিটাল রিডিং, রাইটিং, ক্রিয়েটিভিটি, প্রিমিয়াম ও হাই-ফাই অডিও এবং পেশাদার প্রযুক্তির এক নির্ভরযোগ্য বিশ্বস্ত ঠিকানা হিসেবে সেবা দিয়ে আসছে।
 

আমরা স্বগৌরবের সাথে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোকে বাংলাদেশের বাজারে সরবরাহ করে আসছি- যার মধ্যে রয়েছে BOOX, PocketBook, Bigme, Wacom, XP-Pen, Huion, Xencelab, Xteink, Audio-Technica, Fosi Audio, Sonos, Swan, WiiM, Obsbot, Czur, DJI, Insta360, Cammpro, Digidraw-সহ আরও নানা বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড

তাই ই-রিডার, গ্রাফিক্স ট্যাবলেট, হাই-ফাই অডিও সিস্টেম, কনটেন্ট ক্রিয়েশন গিয়ার কিংবা পেশাদার প্রযুক্তির সেরা সমাধান খুঁজছেন? আপনার যেকোনো প্রয়োজনে আমরা আছি সবসময় আপনার পাশে!